Logo
Logo
×

বিজ্ঞাপন

আন্তর্জাতিক

যুক্তরাজ্যের বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের ভর্তি অফার বাতিল বাড়ছে

ভিসা আবেদন প্রত্যাহার ২৩.৫ শতাংশ

Icon

যুক্তরাজ্য প্রতিনিধি

প্রকাশ: ১৪ অক্টোবর ২০২৬, ০৩:২০ এএম

যুক্তরাজ্যের বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের ভর্তি অফার বাতিল বাড়ছে

বিজ্ঞাপন

যুক্তরাজ্যের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের ভর্তি অফার বাতিল ও বিদেশি শিক্ষার্থী নিয়োগ সীমিত করার প্রবণতা বাড়ছে। শিক্ষার্থীদের ভিসা আবেদন প্রত্যাহারের হার বৃদ্ধি এবং নতুন সরকারি নিয়মে আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থী ভর্তির অনুমতি হারানোর ঝুঁকির কারণে বিশ্ববিদ্যালয়গুলো আগাম সতর্কতামূলক ব্যবস্থা নিচ্ছে।

যুক্তরাজ্যের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের তথ্য বিশ্লেষণ করে ফাইন্যান্সিয়াল টাইমস জানিয়েছে, ২০২৬ সালের প্রথম ছয় মাসে বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের স্টুডেন্ট ভিসার আবেদন প্রত্যাহারের হার বেড়ে ২৩ দশমিক ৫ শতাংশে দাঁড়িয়েছে। ২০২৫ সালের একই সময়ে এ হার ছিল ৭ দশমিক ১ শতাংশ।

একই সময়ে পাকিস্তানি শিক্ষার্থীদের আবেদন প্রত্যাহারের হার ৩ শতাংশ থেকে বেড়ে ৪০ দশমিক ৯ শতাংশ হয়েছে। ভারতীয় শিক্ষার্থীদের ক্ষেত্রে এ হার ১ দশমিক ২ শতাংশ থেকে বেড়ে ৫ দশমিক ২ শতাংশে পৌঁছেছে। যুক্তরাজ্যে সব দেশের শিক্ষার্থীদের স্টুডেন্ট ভিসার আবেদন প্রত্যাহারের হারও ২০২৫ সালের প্রথম ছয় মাসের ২ দশমিক ৩ শতাংশ থেকে বেড়ে চলতি বছরের একই সময়ে ১০ দশমিক ৫ শতাংশ হয়েছে। ২০২৩ সালে এ হার ছিল শূন্য দশমিক ৪ শতাংশ।

কঠোর হচ্ছে বিশ্ববিদ্যালয়ের ওপর সরকারি নজরদারি

যুক্তরাজ্য সরকার ২০২৬ সালের ১ জুন থেকে আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থী ভর্তি ও স্পনসর করার ক্ষেত্রে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর নিয়ম আরও কঠোর করেছে। নতুন নিয়মে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর স্পনসর করা শিক্ষার্থীদের ভিসা প্রত্যাখ্যানের হার ৫ শতাংশের নিচে রাখতে হবে। আগে এ সীমা ছিল ১০ শতাংশ।

এ ছাড়া স্পনসর করা শিক্ষার্থীদের অন্তত ৯৫ শতাংশের কোর্সে ভর্তি নিশ্চিত করা এবং নির্ধারিত শিক্ষার্থীদের কোর্স সম্পন্নের হার বজায় রাখার শর্তও রয়েছে। নিয়ম পূরণে ব্যর্থ হলে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে বিভিন্ন ধরনের নিয়ন্ত্রণমূলক ব্যবস্থার মুখে পড়তে হতে পারে। গুরুতর ক্ষেত্রে আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের স্পনসর করার লাইসেন্সও বাতিল হতে পারে।

এই নিয়মের কারণে বিশ্ববিদ্যালয়গুলো এমন আবেদনকারীদের ভর্তি অফার বা স্পনসরশিপ প্রত্যাহার করছে, যাঁদের ভিসা আবেদন প্রত্যাখ্যাত হওয়ার আশঙ্কা বেশি বলে প্রতিষ্ঠানগুলো মনে করছে। তবে আবেদন প্রত্যাহার এবং ভিসা প্রত্যাখ্যান এক বিষয় নয়। কোনো আবেদন চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের আগেও প্রত্যাহার করা হতে পারে।

যেসব বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি কার্যক্রম সীমিত

প্রকাশিত প্রতিবেদন অনুযায়ী, যুক্তরাজ্যের কয়েকটি বিশ্ববিদ্যালয় নির্দিষ্ট দেশের শিক্ষার্থীদের নিয়োগ স্থগিত বা সীমিত করেছে। এর মধ্যে রয়েছে ইউনিভার্সিটি অব চেস্টার, ইউনিভার্সিটি অব উলভারহ্যাম্পটন, ইউনিভার্সিটি অব ইস্ট লন্ডন, লন্ডন মেট্রোপলিটন ইউনিভার্সিটি, ইউনিভার্সিটি অব সান্ডারল্যান্ড, কভেন্ট্রি ইউনিভার্সিটি, ইউনিভার্সিটি অব হার্টফোর্ডশায়ার, অক্সফোর্ড ব্রুকস ইউনিভার্সিটি, গ্লাসগো ক্যালেডোনিয়ান ইউনিভার্সিটি ও বিপিপি ইউনিভার্সিটি।

অক্সফোর্ড ব্রুকস ইউনিভার্সিটি বাংলাদেশ ও পাকিস্তানের আবেদনকারীদের স্পনসরশিপ স্থগিত করেছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। তবে প্রতিটি বিশ্ববিদ্যালয়ের সিদ্ধান্ত সব কোর্স, সব আবেদনকারী বা সব দেশের শিক্ষার্থীর ক্ষেত্রে একইভাবে প্রযোজ্য কি না, তা সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের সর্বশেষ বিজ্ঞপ্তি থেকে যাচাই করা প্রয়োজন।

ভিসা সিদ্ধান্ত নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর উদ্বেগ

ইউনিভার্সিটি অব ইস্ট অ্যাংলিয়ার উপ-উপাচার্য অধ্যাপক স্টিভেন ম্যাকগুয়ায়ার বলেছেন, নতুন নীতির কারণে বিশ্ববিদ্যালয়গুলো চীন ও ভারতের শিক্ষার্থীদের ওপর তুলনামূলকভাবে বেশি নির্ভরশীল হয়ে পড়তে পারে, কারণ এসব দেশের আবেদনকারীদের ভিসা প্রত্যাখ্যানের হার তুলনামূলক কম।

অন্যদিকে ইউনিভার্সিটি অব দ্য ওয়েস্ট অব স্কটল্যান্ডের উপাচার্য অধ্যাপক জেমস মিলার কিছু ভিসা প্রত্যাখ্যানের সিদ্ধান্তের পেছনে দুর্বল ও অযৌক্তিক যুক্তি ব্যবহারের অভিযোগ তুলেছেন।

নতুন নিয়মের ফলে বাংলাদেশসহ কয়েকটি দেশের শিক্ষার্থীদের যুক্তরাজ্যে উচ্চশিক্ষার পরিকল্পনা অনিশ্চয়তার মুখে পড়ছে। বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর ভর্তি নীতি ও ভিসা স্পনসরশিপের সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভর করবে অনেক শিক্ষার্থীর পরবর্তী পদক্ষেপ।

Logo

সম্পাদক ও প্রকাশক: মহিউদ্দিন সরকার