বিজ্ঞাপন
মুক্তির আনন্দ টিকল মাত্র তিন মিনিট, আদালতের নির্দেশে ছাড়া পেয়েই ফের আইসিইর হাতে আটক অভিবাসী
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ: ১৪ অক্টোবর ২০২৬, ০৩:০৫ এএম
বিজ্ঞাপন
যুক্তরাষ্ট্রের মিনেসোটা অঙ্গরাজ্যে আদালতের নির্দেশে অভিবাসন আটককেন্দ্র থেকে মুক্তি পাওয়ার মাত্র তিন মিনিটের মধ্যে আবার গ্রেপ্তার হয়েছেন ইয়াদের কোর্তেস আন্দিনো নামে এক অভিবাসী। গত ২ অক্টোবরের এ ঘটনায় আদালতের নির্দেশ বাস্তবায়ন এবং অভিবাসন ও শুল্ক প্রয়োগ সংস্থা আইসিইর ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। ১৩ অক্টোবর মিনেসোটা পাবলিক রেডিওর এক অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে এ তথ্য প্রকাশ করা হয়।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, কোর্তেসের বিনা পরোয়ানায় গ্রেপ্তারকে বেআইনি ঘোষণা করে তাঁকে অবিলম্বে মুক্তি দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছিলেন ফেডারেল বিচারক জেরি ব্ল্যাকওয়েল। ২ অক্টোবর মিনেসোটার বিশপ হেনরি হুইপল ফেডারেল বিল্ডিংয়ে তাঁর মুক্তির আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন হয়। তাঁকে ব্যক্তিগত জিনিসপত্রও ফেরত দেওয়া হয়। তবে আইনজীবীর জন্য অপেক্ষমাণ প্রধান ফটক দিয়ে বের না করে তাঁকে ভবনের পেছনের একটি দরজা দিয়ে বাইরে পাঠানো হয়। সেখানে সাধারণ পোশাকে অপেক্ষা করছিলেন আইসিইর কর্মকর্তারা। এরপর তাঁকে আবার গ্রেপ্তার করা হয়।
কোর্তেসের আইনজীবীর বক্তব্য এবং সরকারের আদালতে দাখিল করা নথি অনুযায়ী, মুক্তির মাত্র তিন মিনিট পর তাঁকে পুনরায় আটক করা হয়। তাঁর আইনজীবী জানতে চাইলে আইসিইর এক কর্মকর্তা জানান, এ ধরনের পুনরায় গ্রেপ্তারের প্রক্রিয়া গত মে মাস থেকেই চলছে। ওই কর্মকর্তার বক্তব্য অনুযায়ী, সংস্থাটির একটি আইনি দল আদালতে আটকাদেশ চ্যালেঞ্জ করে মুক্তির নির্দেশ পাওয়া অভিবাসীদের মামলা পর্যালোচনা করে পুনরায় গ্রেপ্তারের উপযুক্ত ব্যক্তিদের শনাক্ত করছে।
মিনেসোটা পাবলিক রেডিওর অনুসন্ধানে একই ধরনের আরও কয়েকটি ঘটনার তথ্য উঠে এসেছে। ২৫ সেপ্টেম্বর মেক্সিকোর এক নাগরিককে আটককেন্দ্রের বাইরে কয়েক পা এগোনোর পর পুনরায় গ্রেপ্তার করা হয়। ১ অক্টোবর গুয়াতেমালার এক নাগরিক ভবনের দরজা পেরোনোর আগেই আবার আটক হন। আদালতের নথিতে সেপ্টেম্বরের আরও দুটি ঘটনার উল্লেখ রয়েছে। এর মধ্যে ৯ সেপ্টেম্বর এক ব্যক্তিকে পুনরায় গ্রেপ্তারের সময় তাঁর কাঁধের হাড় স্থানচ্যুত হয়েছিল বলে নথিতে উল্লেখ করা হয়েছে।
ওই ঘটনার ভিডিও পর্যালোচনা করে ফেডারেল বিচারক জেফরি ব্রায়ান বলেন, ভবন থেকে বের হওয়ার সময় আইসিইর কর্মকর্তারা ওই ব্যক্তিকে ঘিরে ফেলেছিলেন। বিচারকের পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, গ্রেপ্তারের পরোয়ানা যথাযথভাবে তাঁর হাতে তুলে দেওয়া হয়নি। বরং হাতকড়া পরানোর আগে ভাঁজ করা একটি কাগজ কয়েক সেকেন্ডের জন্য তাঁর সামনে দেখানো হয়েছিল। বিচারক সতর্ক করেন, এ ধরনের পুনরায় গ্রেপ্তারকে বৈধ বলে মেনে নিলে আটকাদেশের বিরুদ্ধে আদালতে প্রতিকার চাওয়ার অধিকার অর্থহীন হয়ে পড়তে পারে।
কোর্তেসের ঘটনায় বিচারক ব্ল্যাকওয়েলও সরকারের কাছে ব্যাখ্যা চান। আদালত তাঁকে অবিলম্বে মুক্তি দেওয়ার পাশাপাশি ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে মুক্তির সময়, তারিখ ও স্থান জানাতে নির্দেশ দিয়েছিলেন। সরকার নির্ধারিত সময়ে সেই তথ্য জমা না দেওয়ায় ৫ অক্টোবর বিচারক কেন আদালতের নির্দেশ অমান্য করার অভিযোগে ব্যবস্থা নেওয়া হবে না, সে বিষয়ে ব্যাখ্যা দিতে বলেন। তবে আদালত অবমাননার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়নি।
কোর্তেসের যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের আবেদনও এ ঘটনার সঙ্গে নতুন মাত্রা যোগ করেছে। তাঁর স্ত্রী জেনিফারের সঙ্গে সংসার করছেন তিনি এবং ২০২৫ সালের জুনে গ্রিন কার্ডের জন্য আবেদন করেছিলেন। মিনেসোটা পাবলিক রেডিও জানায়, পুনরায় গ্রেপ্তারের পরদিন, ৩ অক্টোবর তাঁর গ্রিন কার্ডের আবেদন অনুমোদিত হয়। পরে ৫ অক্টোবর সন্ধ্যায় তাঁকে আবার মুক্তি দেওয়া হয়।
আইসিইর এই পদক্ষেপের বিষয়ে মিনেসোটা পাবলিক রেডিও হোয়াইট হাউস, যুক্তরাষ্ট্রের স্বরাষ্ট্র দপ্তর এবং আইসিইর কাছে জানতে চেয়েছিল, কবে থেকে এ প্রক্রিয়া চলছে, কার নির্দেশে তা করা হচ্ছে এবং কতজন অভিবাসী এর আওতায় পড়েছেন। প্রতিবেদন প্রকাশের সময় পর্যন্ত স্বরাষ্ট্র দপ্তর ও আইসিই এসব প্রশ্নের সরাসরি জবাব দেয়নি। ফলে মিনেসোটার বাইরে যুক্তরাষ্ট্রের অন্য অঙ্গরাজ্যগুলোতেও একই প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হচ্ছে কি না, তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
আইন বিশেষজ্ঞদের কাছে এ ধরনের ঘটনা গুরুত্বপূর্ণ, কারণ আদালতের নির্দেশে মুক্তি পাওয়ার পর কাউকে নতুন করে গ্রেপ্তার করতে হলে তার আইনি ভিত্তি কী, সেটি স্পষ্ট হওয়া প্রয়োজন। নতুন ও বৈধ ভিত্তিতে পুনরায় গ্রেপ্তারের সুযোগ থাকলেও আগের আটকাদেশ বেআইনি ঘোষণার পরপরই একই ব্যক্তিকে আটক করার ক্ষেত্রে আদালতের নির্দেশ যথাযথভাবে মানা হয়েছে কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠতে পারে।
মিনেসোটার এসব ঘটনা যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসন আইন প্রয়োগ, বিচার বিভাগের নির্দেশ এবং সরকারি সংস্থার জবাবদিহি নিয়ে নতুন বিতর্ক তৈরি করেছে। আদালতের নির্দেশে মুক্তি পাওয়ার পরপরই আবার আটক করার এই প্রক্রিয়া কতটা আইনসম্মত, তা নির্ধারণে আদালতের পরবর্তী পদক্ষেপ গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।