বিজ্ঞাপন
বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের ভর্তি প্রস্তাব ফিরিয়ে নিচ্ছে যুক্তরাজ্যের কিছু বিশ্ববিদ্যালয়
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ: ১৩ অক্টোবর ২০২৬, ১২:৫৩ এএম
বিজ্ঞাপন
কঠোর ভিসা নীতির কারণে বাংলাদেশ, পাকিস্তান ও নাইজেরিয়াসহ কয়েকটি দেশের শিক্ষার্থীদের দেওয়া ভর্তি প্রস্তাব প্রত্যাহার করছে যুক্তরাজ্যের কিছু বিশ্ববিদ্যালয়। আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থী ভর্তির অনুমতি হারানোর ঝুঁকি এড়াতে প্রতিষ্ঠানগুলো এ পদক্ষেপ নিচ্ছে। ফিন্যান্সিয়াল টাইমসের প্রতিবেদন উদ্ধৃত করে ১২ অক্টোবর দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ড জানিয়েছে, ভিসা প্রত্যাখ্যানের হার বেড়ে যাওয়ায় কোনো কোনো বিশ্ববিদ্যালয় নির্দিষ্ট দেশ থেকে শিক্ষার্থী নেওয়া কমিয়েছে বা সাময়িকভাবে বন্ধ করেছে।
যুক্তরাজ্যের হোম অফিসের তথ্য নিয়ে ফিন্যান্সিয়াল টাইমসের বিশ্লেষণ অনুযায়ী, ২০২৬ সালের প্রথম ছয় মাসে বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের স্টুডেন্ট ভিসার আবেদন প্রত্যাহারের হার দাঁড়িয়েছে ২৩ দশমিক ৫ শতাংশে। আগের বছরের একই সময়ে এই হার ছিল ৭ দশমিক ১ শতাংশ। পাকিস্তানি আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে তা ৩ শতাংশ থেকে বেড়ে হয়েছে ৪০ দশমিক ৯ শতাংশ। নাইজেরিয়ার আবেদনকারীদের প্রত্যাহারের হার ছিল ২২ দশমিক ৭ শতাংশ।
তবে আবেদন প্রত্যাহার ও ভিসা প্রত্যাখ্যান আলাদা বিষয়। ভিসা প্রত্যাখ্যান হলে কর্তৃপক্ষ আবেদন যাচাই করে নেতিবাচক সিদ্ধান্ত দেয়। অন্যদিকে আবেদন প্রত্যাহার হলে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের আগেই প্রক্রিয়াটি বন্ধ হয়ে যায়। আবেদনকারী নিজে আবেদন তুলে নিতে পারেন, আবার বিশ্ববিদ্যালয় ভর্তি প্রস্তাব বা প্রয়োজনীয় স্পনসরশিপ প্রত্যাহার করলেও এমন পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে। ফলে বাংলাদেশিদের ২৩ দশমিক ৫ শতাংশ আবেদন প্রত্যাহারের অর্থ এই নয় যে, তাঁদের সবার ভিসা প্রত্যাখ্যান হয়েছে।
বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর উদ্বেগের কেন্দ্রে রয়েছে আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের স্পনসর করার নতুন শর্ত। হোম অফিসের নির্দেশনা অনুযায়ী, ২০২৬ সালের ১ জুন বা তার পরে করা বার্ষিক কমপ্লায়েন্স মূল্যায়নে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের ভিসা প্রত্যাখ্যানের হার ৫ শতাংশের নিচে থাকতে হবে। আগে এই সীমা ছিল ১০ শতাংশের নিচে। শর্ত পূরণে ব্যর্থ হলে প্রতিষ্ঠানকে নিয়ন্ত্রণমূলক ব্যবস্থার মুখে পড়তে হতে পারে এবং আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থী নেওয়ার অনুমতিও ঝুঁকিতে পড়তে পারে। তবে সীমা অতিক্রম করলেই তাৎক্ষণিকভাবে সব প্রতিষ্ঠানের লাইসেন্স বাতিল হয় না।
স্টুডেন্ট ভিসার আবেদনে বিশ্ববিদ্যালয়ের দেওয়া কনফার্মেশন অব অ্যাকসেপট্যান্স ফর স্টাডিজ বা সিএএস প্রয়োজন হয়। সরকারি নির্দেশনায় বলা হয়েছে, ভিসার সিদ্ধান্ত হওয়ার আগে বিশ্ববিদ্যালয় সিএএস প্রত্যাহার করলে সেটি প্রতিষ্ঠানের ভিসা প্রত্যাখ্যানের হার গণনায় অন্তর্ভুক্ত হবে না। এই ব্যবস্থার কারণে সম্ভাব্য প্রত্যাখ্যানের আশঙ্কায় আগেই স্পনসরশিপ তুলে নেওয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের কমপ্লায়েন্স হিসাবকে প্রভাবিত করতে পারে।
নতুন নিয়মে স্পনসর করা শিক্ষার্থীদের মধ্যে অন্তত ৯৫ শতাংশকে সংশ্লিষ্ট কোর্সে ভর্তি হতে হবে। বর্তমানে কোর্স সম্পন্ন করার ন্যূনতম হার ৮৫ শতাংশ। ২০২৭ সালের ১ জুন বা তার পরে করা মূল্যায়নে সেটি বেড়ে ৯০ শতাংশ হবে। অর্থাৎ বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর ওপর শুধু ভিসা আবেদন যাচাই নয়, শিক্ষার্থীদের ভর্তি ও পড়াশোনা শেষ করার বিষয়েও বাড়তি দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।
এই পরিস্থিতিতে শিক্ষার্থী নেওয়ার প্রক্রিয়া আরও সতর্ক করছে বিশ্ববিদ্যালয়গুলো। তবে বাংলাদেশসহ উল্লিখিত দেশগুলোর শিক্ষার্থীদের ওপর যুক্তরাজ্যজুড়ে সামগ্রিক ভর্তি নিষেধাজ্ঞা জারি হয়েছে বলে প্রতিবেদনে বলা হয়নি। বিধিনিষেধগুলো মূলত সংশ্লিষ্ট বিশ্ববিদ্যালয়ের নিজস্ব সিদ্ধান্ত, যার মাধ্যমে তারা সরকারি শর্ত ভঙ্গের ঝুঁকি কমানোর চেষ্টা করছে।
আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থী কমে গেলে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর আয়েও চাপ বাড়তে পারে। ইউনিভার্সিটি অ্যালায়েন্সের প্রধান নির্বাহী ভ্যানেসা উইলসন সতর্ক করেছেন, এই চাপ প্রতিষ্ঠান পুনর্গঠন, চাকরি কমানো এবং কোর্স বা ক্যাম্পাস বন্ধের পরিস্থিতি তৈরি করতে পারে। অন্যদিকে হোম অফিস বলেছে, আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীরা যুক্তরাজ্যে ইতিবাচক অবদান রাখেন, তবে অভিবাসন ব্যবস্থার বিশ্বাসযোগ্যতা রক্ষায় বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে দায়িত্বশীলভাবে শিক্ষার্থী নিতে হবে।