বিজ্ঞাপন
ঋণ শোধে অক্ষম, এমন ২০ হাজারের বেশি বন্দীকে মুক্তিতে সহায়তা দুবাইয়ের ভারতীয় ব্যবসায়ীর
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ: ১৩ অক্টোবর ২০২৬, ১২:৫১ এএম
বিজ্ঞাপন
ঋণ পরিশোধ করতে না পেরে সংযুক্ত আরব আমিরাতের কারাগারে আটকে থাকা ২০ হাজারের বেশি মানুষের মুক্তিতে সহায়তা করেছেন দুবাইভিত্তিক ভারতীয় ব্যবসায়ী ফিরোজ মার্চেন্ট। ২০০৮ সালে শুরু করা এই উদ্যোগে তিনি বন্দীদের বকেয়া অর্থ পরিশোধের পাশাপাশি অনেকের দেশে ফেরার বিমানভাড়াও দিয়েছেন। খালিজ টাইমসের ২০২৬ সালের ২০ ফেব্রুয়ারির প্রতিবেদন অনুযায়ী, প্রায় দুই দশক ধরে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সমন্বয় করে এই কার্যক্রম চালিয়ে আসছেন তিনি।
ফিরোজ মার্চেন্ট স্বর্ণালংকারের ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান পিওর গোল্ড জুয়েলার্সের প্রতিষ্ঠাতা। তাঁর ‘ফরগটেন সোসাইটি’ উদ্যোগের লক্ষ্য আর্থিক সংকটে পড়া বন্দীদের সহায়তা করা। ২০২৪ সালে তাঁর কার্যালয়ের বিবৃতি উদ্ধৃত করে ভারতীয় সংবাদ সংস্থা পিটিআইও জানিয়েছিল, বিভিন্ন জাতীয়তা ও ধর্মের ২০ হাজারের বেশি বন্দীর মুক্তিতে ভূমিকা রেখেছে এই উদ্যোগ।
খালিজ টাইমসকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ফিরোজ জানান, ২০২৫ সালে ৫০টির বেশি দেশের ২ হাজার ৯৭২ জন বন্দীর মুক্তিতে সহায়তা করা হয়েছে। তাঁদের ঋণ পরিশোধে দেওয়া হয়েছে ২৪ লাখ দিরহাম। আবুধাবি, দুবাই, শারজাহ, আজমান ও রাস আল খাইমাহর কারাগারে থাকা ব্যক্তিরা এই সহায়তা পেয়েছেন। তাঁর দেওয়া হিসাব অনুযায়ী, অনেকের দেশে ফেরার বিমান টিকিটের খরচও তিনি বহন করেছেন।
এই কার্যক্রমের বড় অংশ পরিচালিত হয় সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সমন্বয়ে এবং খলিফা বিন জায়েদ আল নাহিয়ান ফাউন্ডেশনের সহযোগিতায়। ফিরোজের বক্তব্য, আর্থিক বিপর্যয়ের কারণে দায় পরিশোধ করতে না পারা মানুষদের আবার পরিবারের কাছে ফেরার সুযোগ দেওয়াই তাঁর উদ্দেশ্য।
কারামুক্তির পর বাড়ি ফেরার সহায়তার নির্দিষ্ট উদাহরণও রয়েছে। গালফ নিউজের ২০২০ সালের সেপ্টেম্বরের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ফুজাইরাহর একটি সংশোধনাগার থেকে মুক্তি পাওয়া ৫০ জন অসচ্ছল ব্যক্তির বিমান টিকিটের খরচ দিয়েছিলেন ফিরোজ। পিওর গোল্ড জুয়েলার্সের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, তাঁদের দেশে ফেরাতে ব্যয় হয়েছিল ৯০ হাজার দিরহাম।
সেই সময় ফুজাইরাহর সংশ্লিষ্ট সংশোধনাগারের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আহমেদ হামদান আল জেয়ুদি এই সহায়তাকে মুক্তি পাওয়া ব্যক্তিদের নতুনভাবে জীবন শুরু করার সুযোগ হিসেবে বর্ণনা করেছিলেন। তাঁর বক্তব্যে বন্দীদের দেশে ফেরাতে সরকারি ও বেসরকারি উদ্যোগের অংশীদারত্বের বিষয়টিও উঠে আসে।
বন্দীদের সহায়তার পাশাপাশি চিকিৎসার খরচ বহনেও অর্থ দিয়েছেন ফিরোজ। খালিজ টাইমসের প্রতিবেদনে তাঁর দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালে দুবাই চ্যারিটি অ্যাসোসিয়েশনের মাধ্যমে ১১ জন রোগীর ডায়ালাইসিস ও অন্যান্য চিকিৎসা ব্যয়ে ১০ লাখ দিরহাম অনুদান দেন তিনি।
ফিরোজের কাছে এই কাজের সাফল্য মানুষের জীবনে তার ফলাফলে। সাক্ষাৎকারে তিনি জানান, ঋণ পরিশোধের কারণে কেউ পরিবারের কাছে ফিরতে পারলে কিংবা আর্থিক সহায়তায় কারও চিকিৎসা চালিয়ে যাওয়া সম্ভব হলে সেটিই তাঁর জন্য যথেষ্ট।