Logo
Logo
×

বিজ্ঞাপন

আন্তর্জাতিক

অস্ট্রেলিয়ায় সড়কে নামাজ পড়ার সময় গাড়ির ধাক্কায় পাকিস্তানি শিক্ষার্থীর মৃ ত্যু, চালকের সাজা স্থগিত

Icon

অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশ: ১২ অক্টোবর ২০২৬, ০৯:০৮ পিএম

অস্ট্রেলিয়ায় সড়কে নামাজ পড়ার সময় গাড়ির ধাক্কায় পাকিস্তানি শিক্ষার্থীর মৃ ত্যু, চালকের সাজা স্থগিত

বিজ্ঞাপন

অস্ট্রেলিয়ার অ্যাডিলেড শহরে সড়কের ওপর হাঁটু গেড়ে প্রার্থনার ভঙ্গিতে থাকা অবস্থায় গাড়ির ধাক্কায় নি হ ত হন পাকিস্তানি আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থী সামিয়া মালিক। এ ঘটনায় গাড়িচালক অ্যাশটন জ্যাকব ফ্রেন্ডকে এক বছর তিন মাস ২৯ দিনের কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। তবে সাজাটি স্থগিত করা হয়েছে। পাশাপাশি আগামী ১০ বছর গাড়ি চালানোর ওপর নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়েছে তাকে।

ঘটনাটি ঘটে ২০২৫ সালের ৬ মে। অ্যাডিলেডের হিলক্রেস্ট এলাকার নর্থ ইস্ট রোডে গাড়ির ধাক্কায় প্রাণ হারান ২০ বছর বয়সী সামিয়া। আদালতে উপস্থাপিত সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায়, দুর্ঘটনার আগে তিনি প্রায় চার মিনিট ধরে সড়কের ওপর হাঁটু গেড়ে ছিলেন। তার ভঙ্গি দেখে মনে হচ্ছিল, তিনি প্রার্থনা করছিলেন। তবে ঠিক কী কারণে তিনি সড়কের ওপর অবস্থান করছিলেন, সে বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যায়নি।

পাকিস্তানের শিয়ালকোটের বাসিন্দা সামিয়া উন্নত ভবিষ্যতের আশায় অস্ট্রেলিয়ায় পাড়ি জমিয়েছিলেন। নিজের পাশাপাশি পরিবারের জীবনেও পরিবর্তন আনার স্বপ্ন ছিল তার। কিন্তু অল্প বয়সেই তার আকস্মিক মৃ ত্যুতে পাকিস্তানে থাকা স্বজনেরা গভীর শোকে ভেঙে পড়েন। স্বজন হারানোর মানসিক কষ্টের পাশাপাশি তার মরদেহ দেশে ফিরিয়ে নেওয়া এবং শেষকৃত্যের খরচ নিয়েও পরিবারকে কঠিন পরিস্থিতির মুখে পড়তে হয়।

আদালতে জানানো হয়, দুর্ঘটনার সময় গাড়ি চালাচ্ছিলেন অ্যাশটন ফ্রেন্ড। ঘটনার সময় তার বয়স ছিল ১৯ বছর। তিনি নির্ধারিত গতিসীমার নিচে গাড়ি চালাচ্ছিলেন এবং মদ বা মাদক গ্রহণের প্রভাবে ছিলেন না। তবে সংঘর্ষের আগে গাড়ির পেছনের দৃশ্য দেখার আয়নায় তাকিয়ে ছিলেন তিনি। আদালতে উপস্থাপিত তথ্য অনুযায়ী, ওই সময় সামিয়াকে দেখতে পেলে বা পরিস্থিতি বুঝতে পারলে দুর্ঘটনা এড়ানোর সুযোগ থাকতে পারত।

ফ্রেন্ড আদালতে স্বীকার করেন, সামিয়ার সঙ্গে সংঘর্ষের পর তিনি গাড়ি থামাননি। তার দাবি, প্রথমে তিনি ভেবেছিলেন, গাড়ির ধাক্কায় হয়তো একটি ক্যাঙ্গারু আঘাত পেয়েছে। পরদিন সংবাদমাধ্যমে দুর্ঘটনার খবর দেখার পর তিনি বুঝতে পারেন, সড়কে একজন মানুষকে ধাক্কা দেওয়া হয়েছিল। তবে সংঘর্ষের পর ঘটনাস্থলে না থামার বিষয়টি তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগের গুরুত্বপূর্ণ অংশ ছিল।

ফ্রেন্ডের বিরুদ্ধে অসতর্কভাবে গাড়ি চালিয়ে একজনের মৃ ত্যু ঘটানো এবং দুর্ঘটনায় মৃ ত্যুর পর ঘটনাস্থল ছেড়ে যাওয়ার অভিযোগ আনা হয়। তিনি উভয় অভিযোগেই দোষ স্বীকার করেন।

বিচারক অ্যান বার্নেট ফ্রেন্ডকে এক বছর তিন মাস ২৯ দিনের কারাদণ্ড দেন। এর মধ্যে আট মাসের আগে প্যারোলের সুযোগ না থাকার বিধান রাখা হয়। তবে সাজা কার্যকর না করে দুই বছরের জন্য ভালো আচরণের শর্তে তা স্থগিত করা হয়েছে। এ সময়ের জন্য তাকে ৫০০ ডলারের বন্ডে থাকতে হবে। একই সঙ্গে ১০ বছরের জন্য গাড়ি চালানোর অনুমতি বাতিল করা হয়েছে।

সাজা নির্ধারণের ক্ষেত্রে বিচারক ফ্রেন্ডের বয়স, অনুশোচনা, ভবিষ্যতে নিজেকে সংশোধনের সম্ভাবনা এবং ঘটনার পরিস্থিতি বিবেচনায় নেন। আদালতের এই সিদ্ধান্তের অর্থ হলো, তাকে কারাদণ্ড দেওয়া হলেও নির্ধারিত শর্ত মেনে চললে আপাতত কারাগারে যেতে হবে না।

এর আগে আদালতে সামিয়ার পরিবারের কাছে ক্ষমা চেয়েছিলেন ফ্রেন্ড। নিজের কাজ এবং দুর্ঘটনার পর গাড়ি না থামানোর দায়ও তিনি স্বীকার করেন।

এই ঘটনা একদিকে সামিয়ার পরিবারের অপূরণীয় ক্ষতির চিত্র তুলে ধরেছে, অন্যদিকে সড়কে চালকের মনোযোগ ও দুর্ঘটনার পর দায়িত্বশীল আচরণের গুরুত্ব সামনে এনেছে। আদালতের রায়ে চালকের কারাদণ্ড স্থগিত হলেও সামিয়ার পরিবারকে প্রিয়জন হারানোর কষ্ট নিয়েই বাকি জীবন কাটাতে হবে।

Logo

সম্পাদক ও প্রকাশক: মহিউদ্দিন সরকার