বিজ্ঞাপন
যুক্তরাষ্ট্রে বিদেশি শিক্ষার্থীদের চাকরির অনুমতিতে ৭০ হাজার ডলার ফি প্রস্তাব, উদ্বেগে আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীরা
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ: ১২ অক্টোবর ২০২৬, ০৩:২১ এএম
বিজ্ঞাপন
যুক্তরাষ্ট্রে পড়াশোনা শেষে নিজের শিক্ষাগত যোগ্যতার সঙ্গে সম্পর্কিত কাজে যুক্ত হওয়ার সুযোগ পাওয়া আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের জন্য বড় ধরনের পরিবর্তনের প্রস্তাব দিয়েছে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন। প্রস্তাবটি কার্যকর হলে এফ-১ ভিসায় থাকা বিদেশি শিক্ষার্থীদের ঐচ্ছিক ব্যবহারিক প্রশিক্ষণ কর্মসূচিতে অংশ নিতে অন্তত ৭০ হাজার ডলার ফি দিতে হতে পারে। অতিরিক্ত প্রশিক্ষণের ক্ষেত্রে আরও ৩০ হাজার ডলার ফি আরোপের প্রস্তাবও রয়েছে। বিষয়টি নিয়ে ৭ অক্টোবর রয়টার্স প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে।
যুক্তরাষ্ট্রের ঐচ্ছিক ব্যবহারিক প্রশিক্ষণ কর্মসূচি বা অপশনাল প্র্যাকটিক্যাল ট্রেনিং (ওপিটি) আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের পড়াশোনার ক্ষেত্রের সঙ্গে সম্পর্কিত কাজে বাস্তব অভিজ্ঞতা অর্জনের সুযোগ দেয়। সাধারণত এফ-১ ভিসাধারীরা পড়াশোনার সময় নির্দিষ্ট শর্তে সপ্তাহে সর্বোচ্চ ২০ ঘণ্টা কাজ করতে পারেন। যোগ্য শিক্ষার্থীরা পড়াশোনা শেষ করার পরও নির্দিষ্ট সময়ের জন্য প্রশিক্ষণ ও কাজের সুযোগ পেতে পারেন। বিজ্ঞান, প্রযুক্তি, প্রকৌশল ও গণিত বিষয়ে যোগ্য ডিগ্রিধারীরা অতিরিক্ত প্রশিক্ষণের সময় পাওয়ার সুযোগও পেতে পারেন।
এই কর্মসূচি অনেক আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীর জন্য যুক্তরাষ্ট্রে পেশাগত জীবন শুরু করার গুরুত্বপূর্ণ পথ। বিশেষ করে প্রযুক্তি খাতে কাজ করতে আগ্রহী শিক্ষার্থীদের অনেকে ওপিটির মাধ্যমে মার্কিন প্রতিষ্ঠানে অভিজ্ঞতা অর্জন করেন এবং পরবর্তী সময়ে এইচ-১বি কর্মভিসার জন্য চেষ্টা করেন। নতুন প্রস্তাবের কারণে এই পথ ব্যয়বহুল হয়ে উঠতে পারে বলে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বর্তমানে সংশ্লিষ্ট প্রক্রিয়ায় শিক্ষার্থীদের খরচ প্রায় ৫০০ ডলারের কাছাকাছি হলেও প্রস্তাবিত ফি অনেক বেশি। ফলে নতুন নিয়ম কার্যকর হলে বিদেশি শিক্ষার্থীদের জন্য পড়াশোনার পর চাকরি খোঁজা ও কর্মজীবন শুরু করার পরিকল্পনায় বড় আর্থিক চাপ তৈরি হতে পারে। তবে প্রস্তাবটি কোন কোন পরিস্থিতিতে কীভাবে প্রয়োগ করা হবে, তা চূড়ান্ত নিয়ম প্রকাশ না হওয়া পর্যন্ত নিশ্চিত নয়।
প্রশাসনের যুক্তি, নতুন ফি দিয়ে জালিয়াতি ঠেকানো, অভিবাসনব্যবস্থার স্বচ্ছতা বাড়ানো এবং মার্কিন কর্মীদের স্বার্থ রক্ষা করা সম্ভব হবে। অন্যদিকে, সমালোচকদের আশঙ্কা, এত বড় অঙ্কের ফি আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের যুক্তরাষ্ট্রে উচ্চশিক্ষা গ্রহণের সিদ্ধান্তকে প্রভাবিত করতে পারে। বিশেষ করে যাঁরা পড়াশোনার খরচ মেটাতে পরিবারের সঞ্চয়, শিক্ষা ঋণ বা সীমিত আর্থিক সামর্থ্যের ওপর নির্ভর করেন, তাঁদের জন্য প্রস্তাবটি বড় উদ্বেগের কারণ হতে পারে।
বাংলাদেশ, ভারতসহ দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলো থেকে যুক্তরাষ্ট্রে পড়তে যাওয়া শিক্ষার্থীদেরও বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে অনুসরণ করা প্রয়োজন। তবে প্রস্তাবটি নিয়ে কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থী দপ্তর এবং যোগ্য অভিবাসন আইনজীবীর কাছ থেকে নিজের পরিস্থিতি অনুযায়ী পরামর্শ নেওয়া ভালো।
বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রে অধ্যয়নরত শিক্ষার্থীদের জন্য তাৎক্ষণিক করণীয় হলো—বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থী দপ্তরের বিজ্ঞপ্তি অনুসরণ করা, ওপিটি আবেদনের সময়সীমা সম্পর্কে সচেতন থাকা এবং সরকারি নিয়মের আনুষ্ঠানিক পরিবর্তন না হওয়া পর্যন্ত গুজবের ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত না নেওয়া। নতুন ফি প্রস্তাবটি চূড়ান্ত হলে এর কার্যকর হওয়ার তারিখ, প্রযোজ্য শিক্ষার্থীর শ্রেণি এবং বিদ্যমান আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে নিয়মটি কীভাবে প্রযোজ্য হবে, সেগুলোই হবে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন।