বিজ্ঞাপন
ইবি-২ ভিসায় যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ড পেতে পারবেন যেসব বিদেশি
যুক্তরাষ্ট্র প্রতিনিধি
প্রকাশ: ১২ অক্টোবর ২০২৬, ০২:০০ এএম
বিজ্ঞাপন
উচ্চতর শিক্ষাগত যোগ্যতা অথবা নিজ নিজ ক্ষেত্রে অসাধারণ দক্ষতাসম্পন্ন বিদেশি পেশাজীবীদের জন্য গ্রিন কার্ড পাওয়ার সুযোগ রয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের কর্মসংস্থানভিত্তিক দ্বিতীয় অগ্রাধিকার বা ইবি-২ ভিসা শ্রেণিতে। দেশটির নাগরিকত্ব ও অভিবাসন পরিষেবা সংস্থা জানিয়েছে, নির্ধারিত যোগ্যতা পূরণ করলে আবেদনকারীরা এই শ্রেণিতে স্থায়ীভাবে বসবাসের অনুমতি পেতে পারেন। বিশেষ কিছু ক্ষেত্রে নিয়োগকর্তার স্পনসরশিপ ছাড়াই আবেদন করার সুযোগও রয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকত্ব ও অভিবাসন পরিষেবা সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, ইবি-২ ভিসায় আবেদনের জন্য প্রধানত দুটি যোগ্যতার পথ রয়েছে। প্রথমটি উচ্চতর ডিগ্রিধারী পেশাজীবীদের জন্য, দ্বিতীয়টি বিজ্ঞান, শিল্পকলা বা ব্যবসাসহ নির্দিষ্ট ক্ষেত্রে অসাধারণ দক্ষতার অধিকারীদের জন্য।
উচ্চতর ডিগ্রিধারীদের যোগ্যতা
উচ্চতর ডিগ্রি বলতে স্নাতক ডিগ্রির পর অর্জিত কোনো শিক্ষাগত বা পেশাগত যোগ্যতাকে বোঝায়। এর মধ্যে স্নাতকোত্তর ও পিএইচডি ডিগ্রি অন্তর্ভুক্ত। তবে কোনো ব্যক্তি সংশ্লিষ্ট বিষয়ে স্নাতক ডিগ্রি অর্জনের পর একই ক্ষেত্রে অন্তত পাঁচ বছরের ক্রমবর্ধমান পেশাগত অভিজ্ঞতা অর্জন করলেও ইবি-২ ভিসার জন্য তা স্নাতকোত্তর ডিগ্রির সমতুল্য হিসেবে বিবেচিত হতে পারে।
এ ক্ষেত্রে শুধু আবেদনকারীর শিক্ষাগত যোগ্যতা থাকলেই হবে না, যে পেশায় কাজের জন্য আবেদন করা হচ্ছে, সেটিও ডিগ্রিনির্ভর পেশা হতে হবে। সাধারণত ওই পদে প্রবেশের জন্য অন্তত স্নাতক ডিগ্রি প্রয়োজন হওয়া উচিত।
অভিবাসন কর্তৃপক্ষের ব্যাখ্যা অনুযায়ী, প্রকৌশলে স্নাতকোত্তর ডিগ্রিধারী কেউ যুক্তরাষ্ট্রে প্রকৌশলসংক্রান্ত কাজের জন্য আবেদন করলে তিনি যোগ্য হতে পারেন। কিন্তু একই ব্যক্তি বেকারি ব্যবসা শুরু করার জন্য আবেদন করলে তা একইভাবে বিবেচিত হবে না, কারণ বেকারির কাজের জন্য সাধারণত বিশ্ববিদ্যালয়ের ডিগ্রি আবশ্যক নয়।
বিশেষ পেশায় শ্রমবাজার যাচাইয়ের ছাড়
যুক্তরাষ্ট্রের শ্রম বিভাগ নির্দিষ্ট কিছু পেশাকে ‘তফসিল এ’ শ্রেণিতে অন্তর্ভুক্ত করেছে। এসব পেশার ক্ষেত্রে প্রচলিত শ্রমবাজার যাচাইয়ের শর্ত থেকে ছাড় পাওয়ার সুযোগ রয়েছে।
এই শ্রেণির প্রথম গোষ্ঠীতে পেশাদার নার্স ও শারীরিক পুনর্বাসন চিকিৎসকেরা রয়েছেন। দ্বিতীয় গোষ্ঠীতে বিজ্ঞান, শিল্পকলা ও পরিবেশনশিল্পে অসাধারণ দক্ষতাসম্পন্ন ব্যক্তিরা অন্তর্ভুক্ত। এর মধ্যে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকেরাও থাকতে পারেন।
তবে শ্রমবাজার যাচাইয়ের শর্ত থেকে ছাড় পাওয়া এবং গ্রিন কার্ডের জন্য চূড়ান্তভাবে যোগ্য হওয়া এক বিষয় নয়। আবেদনকারীকে ইবি-২ ভিসার প্রযোজ্য যোগ্যতা ও অন্যান্য অভিবাসনসংক্রান্ত শর্ত পূরণ করতে হবে।
অসাধারণ দক্ষতার প্রমাণ দিতে হবে
উচ্চতর ডিগ্রি না থাকলেও নির্দিষ্ট ক্ষেত্রে অসাধারণ দক্ষতার ভিত্তিতে ইবি-২ ভিসার জন্য আবেদন করা যেতে পারে। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন কর্তৃপক্ষের সংজ্ঞা অনুযায়ী, সংশ্লিষ্ট ক্ষেত্রে সাধারণভাবে দেখা যায় এমন দক্ষতার তুলনায় আবেদনকারীর জ্ঞান ও পারদর্শিতা উল্লেখযোগ্যভাবে বেশি হতে হবে।
এ ক্ষেত্রে ছয়টি নির্ধারিত মানদণ্ডের মধ্যে অন্তত তিনটি পূরণ করার প্রমাণ দিতে হয়। মানদণ্ডগুলোর মধ্যে রয়েছে সংশ্লিষ্ট বিষয়ে শিক্ষাগত যোগ্যতা, নিয়োগকর্তার চিঠির মাধ্যমে প্রমাণিত অন্তত ১০ বছরের পূর্ণকালীন কাজের অভিজ্ঞতা, পেশাগত লাইসেন্স বা সনদ, অসাধারণ দক্ষতার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ পারিশ্রমিক, পেশাজীবী সংগঠনের সদস্যপদ এবং নিজ ক্ষেত্রে অবদানের জন্য সহকর্মী বা সংশ্লিষ্ট মহলে স্বীকৃতি।
নিয়োগকর্তার স্পনসরশিপ ছাড়াই আবেদনের সুযোগ
ইবি-২ ভিসার আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ পথ হলো জাতীয় স্বার্থে ছাড়, যা এনআইডব্লিউ নামে পরিচিত। এই ব্যবস্থায় যোগ্য আবেদনকারীরা যুক্তরাষ্ট্রের কোনো নিয়োগকর্তার স্পনসরশিপ ছাড়াই নিজেদের পক্ষ থেকে আবেদন করতে পারেন। প্রচলিত শ্রমবাজার যাচাইয়ের শর্ত থেকেও ছাড় পাওয়া সম্ভব।
এ জন্য আবেদনকারীকে প্রমাণ করতে হয়, তাঁর প্রস্তাবিত কাজের যথেষ্ট গুরুত্ব ও যুক্তরাষ্ট্রের জন্য জাতীয় তাৎপর্য রয়েছে, তিনি সেই কাজ এগিয়ে নেওয়ার উপযুক্ত অবস্থানে আছেন এবং চাকরির প্রস্তাব ও শ্রমবাজার যাচাইয়ের শর্ত মওকুফ করলে তা যুক্তরাষ্ট্রের সামগ্রিক স্বার্থে উপকারী হবে।
বিজ্ঞান, প্রযুক্তি, প্রকৌশল ও গণিতভিত্তিক বিষয়ে উচ্চতর ডিগ্রিধারীদের জন্য এ পথটি বিশেষভাবে প্রাসঙ্গিক হতে পারে, বিশেষ করে তাঁদের কাজ যদি গুরুত্বপূর্ণ বা উদীয়মান প্রযুক্তির সঙ্গে সম্পর্কিত হয়। তবে শুধু এসব বিষয়ে ডিগ্রি থাকলেই জাতীয় স্বার্থে ছাড় পাওয়া নিশ্চিত নয়। প্রস্তাবিত কাজের গুরুত্ব ও আবেদনকারীর যোগ্যতার পক্ষে যথাযথ প্রমাণ প্রয়োজন।
পরিবারের সদস্যদের জন্যও সুযোগ
ইবি-২ ভিসার আবেদন অনুমোদিত হলে আবেদনকারীর স্বামী বা স্ত্রী এবং অবিবাহিত ২১ বছরের কম বয়সী সন্তানরাও নির্ভরশীল পরিবারের সদস্য হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রে যাওয়ার যোগ্য হতে পারেন। তবে তাঁদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য অভিবাসনবিধি ও অন্যান্য শর্ত পূরণ করতে হবে।
এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের কর্মসংস্থানভিত্তিক প্রথম অগ্রাধিকার বা ইবি-১ ভিসা শ্রেণিতেও অসাধারণ দক্ষতাসম্পন্ন ব্যক্তিদের জন্য আলাদা সুযোগ রয়েছে। ওই শ্রেণির অসাধারণ দক্ষতার উপশ্রেণিতে আবেদনকারীরা নির্ধারিত ১০টি মানদণ্ডের মধ্যে অন্তত তিনটি পূরণের প্রমাণ দিতে পারেন অথবা আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত বড় কোনো অর্জনের নথি উপস্থাপন করতে পারেন। এ পথেও নির্দিষ্ট শর্তে নিয়োগকর্তার সম্পৃক্ততা ছাড়াই নিজে আবেদন করার সুযোগ রয়েছে।
ইবি-২ ভিসার ক্ষেত্রে আবেদনকারীর শিক্ষাগত যোগ্যতা, পেশাগত অভিজ্ঞতা, প্রস্তাবিত কাজের ধরন এবং জাতীয় স্বার্থে ছাড়ের শর্ত পূরণের বিষয়গুলো গুরুত্বপূর্ণ। তাই আবেদন করার আগে যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন কর্তৃপক্ষের সর্বশেষ নির্দেশনা ও প্রযোজ্য নিয়ম যাচাই করা প্রয়োজন।