Logo
Logo
×

বিজ্ঞাপন

আন্তর্জাতিক

বাড়ির সম্পত্তি কর ও আয়করে মিলতে পারে বড় ছাড়, ২০২৬ সালে করদাতাদের করণীয়

Icon

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

প্রকাশ: ১১ অক্টোবর ২০২৬, ০৪:০৮ এএম

বাড়ির সম্পত্তি কর ও আয়করে মিলতে পারে বড় ছাড়, ২০২৬ সালে করদাতাদের করণীয়

বিজ্ঞাপন

যুক্তরাষ্ট্রে ২০২৬ সালের করবর্ষে রাজ্য ও স্থানীয় করের ওপর সর্বোচ্চ ৪০ হাজার ৪০০ ডলার পর্যন্ত করছাড় পাওয়ার সুযোগ রয়েছে। বাড়ির সম্পত্তি কর, রাজ্য ও স্থানীয় আয়করসহ নির্দিষ্ট করের হিসাবের মাধ্যমে এই সুবিধা নিতে পারেন যোগ্য করদাতারা। তবে সবাই এই ছাড় পাবেন না। সুবিধাটি কাজে লাগাতে হলে নির্দিষ্ট শর্ত পূরণ করে করের হিসাব জমা দিতে হবে।

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের স্বাক্ষরিত বড় কর ও ব্যয়সংক্রান্ত আইনের মাধ্যমে স্টেট অ্যান্ড লোকাল ট্যাক্স বা এসএএলটি (SALT) ছাড়ের সীমা বাড়ানো হয়। ২০২৪ সালের করবর্ষে এই সীমা ছিল ১০ হাজার ডলার। ২০২৫ সালে তা বেড়ে ৪০ হাজার ডলার হয়। ২০২৬ সালে সীমাটি আরও বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৪০ হাজার ৪০০ ডলারে।

নতুন নিয়ম অনুযায়ী, ২০২৭ থেকে ২০২৯ সাল পর্যন্ত প্রতি বছর এই সীমা ১ শতাংশ করে বাড়বে। তবে সুবিধাটি স্থায়ী নয়। ২০৩০ সাল থেকে এসএএলটি ছাড়ের সীমা আবার ১০ হাজার ডলারে নেমে আসার কথা রয়েছে।

এসএএলটি ছাড় মূলত তাঁদের জন্য, যাঁরা কর জমা দেওয়ার সময় নির্দিষ্ট খরচ আলাদাভাবে হিসাব করে ছাড় দাবি করেন। করদাতারা বাড়ির সম্পত্তি করের পাশাপাশি রাজ্য ও স্থানীয় আয়কর অথবা বিক্রয় করের মধ্যে একটি বেছে নিতে পারেন। আয়কর ও বিক্রয় কর—দুটিই একসঙ্গে এই হিসাবের আওতায় নেওয়া যায় না।

তবে ছাড়ের সীমা বেড়েছে বলেই প্রত্যেক করদাতার কর কমবে, এমন নয়। যুক্তরাষ্ট্রে কর জমা দেওয়ার সময় সাধারণ ছাড় (স্ট্যান্ডার্ড ডিডাকশন) অথবা নির্দিষ্ট খরচের ভিত্তিতে হিসাব করা ছাড়ের (আইটেমাইজড ডিডাকশন) মধ্যে যেটি বেশি সুবিধাজনক, সেটি বেছে নেওয়া হয়।

২০২৬ সালের করবর্ষে একক করদাতাদের সাধারণ ছাড় ১৬ হাজার ১০০ ডলার। যৌথভাবে কর জমা দেওয়া বিবাহিত দম্পতিদের ক্ষেত্রে এই পরিমাণ ৩২ হাজার ২০০ ডলার। বাড়ির ঋণের সুদ, দাতব্য অনুদান, চিকিৎসাব্যয় এবং যোগ্য রাজ্য ও স্থানীয় করসহ অন্যান্য ছাড়যোগ্য খরচ যোগ করলে মোট পরিমাণ সাধারণ ছাড়ের চেয়ে বেশি হতে পারে। তখন নির্দিষ্ট খরচের ভিত্তিতে ছাড় দাবি করা লাভজনক হতে পারে।

করছাড় বাড়াতে যেসব কৌশল কাজে লাগতে পারে

বিশেষজ্ঞদের মতে, ২০২৬ সালে করের সুবিধা বাড়ানোর একটি উপায় হলো নির্দিষ্ট ছাড়যোগ্য খরচের সময় পরিকল্পনা করা। কোনো পরিবারের মোট ছাড়যোগ্য খরচ সাধারণ ছাড়ের সীমার সামান্য নিচে থাকলে, যোগ্য কিছু খরচ একই করবর্ষে হিসাব করার মাধ্যমে আইটেমাইজড ডিডাকশনের সুবিধা পাওয়া সম্ভব হতে পারে।

উদাহরণ হিসেবে, যাঁরা ২০২৬ সালে বাড়ির সম্পত্তি কর পরিশোধ করেছেন, তাঁরা স্থানীয় নিয়ম অনুমোদন করলে এবং পরবর্তী বছরের কর নির্ধারণের নোটিশ পেয়ে থাকলে ৩১ ডিসেম্বরের মধ্যে পরবর্তী বছরের সম্পত্তি করের একটি অংশ আগাম দিতে পারেন। এতে ২০২৬ সালের জন্য তাঁদের ছাড়যোগ্য খরচ বাড়তে পারে।

তবে আগাম কর দেওয়ার ক্ষেত্রে সতর্ক থাকা জরুরি। সম্পত্তি করের মূল্যায়ন বা কর নির্ধারণের নোটিশ পাওয়ার সময় এলাকাভেদে ভিন্ন হতে পারে। আবার যাঁদের বাড়ির ঋণদাতা প্রতিষ্ঠান এসক্রো অ্যাকাউন্টের মাধ্যমে সম্পত্তি কর পরিশোধ করে, তাঁদের ক্ষেত্রে আগাম অর্থ দেওয়ার সুযোগ সীমিত হতে পারে।

স্বনিয়োজিত ব্যক্তি, ছোট ব্যবসার মালিক কিংবা বিনিয়োগ থেকে আয় করা করদাতাদের জন্যও কিছু সুযোগ থাকতে পারে। তাঁরা রাজ্য সরকারের কাছে ত্রৈমাসিক আনুমানিক আয়করের অর্থ পরিশোধ করে থাকলে, প্রযোজ্য নিয়ম অনুযায়ী ৩১ ডিসেম্বরের মধ্যে ২০২৬ সালের শেষ কিস্তি পরিশোধ করার বিষয়টি বিবেচনা করতে পারেন।

ফেডারেল সরকারের ২০২৬ সালের চতুর্থ প্রান্তিকের আনুমানিক কর পরিশোধের শেষ সময় ২০২৭ সালের ১৫ জানুয়ারি। তবে রাজ্যভেদে কর পরিশোধের সময়সীমা আলাদা হতে পারে। তাই আগাম অর্থ দেওয়ার আগে সংশ্লিষ্ট রাজ্যের নিয়ম যাচাই করা প্রয়োজন।

এ ধরনের পরিকল্পনার মূল উদ্দেশ্য হলো একাধিক বছরের ছাড়যোগ্য খরচ একটি করবর্ষে একত্র করা। তবে কেবল ছাড় বাড়ানোর জন্য অপ্রয়োজনীয় অর্থ আগাম পরিশোধ করা উচিত নয়। এতে প্রকৃত আর্থিক লাভ হচ্ছে কি না, তা হিসাব করে নেওয়া জরুরি।

বেশি আয়ের করদাতাদের জন্য রয়েছে বিশেষ সতর্কতা

এসএএলটি ছাড়ের সীমা বাড়লেও উচ্চ আয়ের করদাতাদের ক্ষেত্রে সুবিধাটি ধীরে ধীরে কমে যেতে পারে। ২০২৬ সালে সংশোধিত সমন্বিত মোট আয় বা মডিফায়েড অ্যাডজাস্টেড গ্রস ইনকাম (এমএজিআই) ৫ লাখ ৫০০ ডলারের বেশি হলে সর্বোচ্চ ছাড়ের পরিমাণ কমতে শুরু করে।

আয় বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে এই সুবিধা কমতে থাকে। প্রায় ৬ লাখ ৬ হাজার ৩৩৩ ডলার বা তার বেশি আয়ের ক্ষেত্রে ছাড়ের সীমা আবার ১০ হাজার ডলারে নেমে আসে। আলাদাভাবে কর জমা দেওয়া বিবাহিত ব্যক্তিদের জন্য সীমা ও আয়ের হিসাব ভিন্ন।

এই ব্যবস্থাকে ঘিরে ‘এসএএলটি টর্পেডো’ নামে পরিচিত একটি পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে। আয় নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে বাড়লে করদাতা শুধু অতিরিক্ত আয়ের ওপর করই দেন না, একই সঙ্গে করছাড়ের একটি অংশও হারান। ফলে আয়ের সামান্য বৃদ্ধি করের সামগ্রিক বোঝা প্রত্যাশার চেয়ে বেশি বাড়িয়ে দিতে পারে।

২০২৬ সালে ৫ লাখ ৫০০ ডলার থেকে প্রায় ৬ লাখ ৬ হাজার ৩৩৩ ডলার আয়ের সীমার মধ্যে ছাড় কমার হিসাব বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ। এই পর্যায়ে প্রতি অতিরিক্ত এক ডলার আয়ের জন্য এসএএলটি সুবিধার ৩০ শতাংশ হারে ছাড় কমতে পারে। তাই এই আয়সীমার কাছাকাছি থাকা ব্যক্তিদের আগেভাগে আয়ের হিসাব করা দরকার।

বিশেষজ্ঞদের মতে, রথ আইআরএতে অর্থ রূপান্তর, বিনিয়োগের মুনাফা আদায় কিংবা বোনাস পাওয়ার মতো সিদ্ধান্তও সংশ্লিষ্ট বছরের আয়ের হিসাবকে প্রভাবিত করতে পারে। ফলে এসব সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে সম্ভাব্য আয় এবং করছাড়ের ওপর প্রভাব একসঙ্গে বিবেচনা করা উচিত।

যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ রাজস্ব পরিষেবার ২০২৩ সালের তথ্য অনুযায়ী, প্রায় ৯০ শতাংশ করদাতা সাধারণ ছাড় ব্যবহার করেছিলেন। অর্থাৎ, করছাড়ের নতুন সীমা সবার জন্য সমানভাবে লাভজনক হবে না। বিশেষ করে যাঁদের ছাড়যোগ্য খরচ সাধারণ ছাড়ের চেয়ে বেশি, তাঁদের জন্য এসএএলটি সুবিধা গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে।

সব মিলিয়ে, ২০২৬ সালে বেশি করছাড় পাওয়ার সুযোগ কাজে লাগাতে হলে সম্পত্তি কর, রাজ্য ও স্থানীয় কর, অন্যান্য ছাড়যোগ্য খরচ এবং সম্ভাব্য বার্ষিক আয়ের হিসাব আগে থেকেই সাজিয়ে নেওয়া দরকার। বিশেষত উচ্চ আয়ের করদাতাদের ক্ষেত্রে সামান্য পরিকল্পনাগত ভুলেও প্রত্যাশিত সুবিধা কমে যেতে পারে। ব্যক্তিগত পরিস্থিতি অনুযায়ী সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে যোগ্য কর পরামর্শকের সঙ্গে আলোচনা করা সহায়ক হতে পারে।

Logo

সম্পাদক ও প্রকাশক: মহিউদ্দিন সরকার