Logo
Logo
×

বিজ্ঞাপন

আন্তর্জাতিক

যুক্তরাষ্ট্রে নতুন নিয়মে মেডিকেইড হারাচ্ছেন কিছু অভিবাসী, চিকিৎসার খরচ নিয়ে বাড়ছে উদ্বেগ

Icon

যুক্তরাষ্ট্র প্রতিনিধি

প্রকাশ: ১১ অক্টোবর ২০২৬, ০২:৫৫ এএম

যুক্তরাষ্ট্রে নতুন নিয়মে মেডিকেইড হারাচ্ছেন কিছু অভিবাসী, চিকিৎসার খরচ নিয়ে বাড়ছে উদ্বেগ

বিজ্ঞাপন

যুক্তরাষ্ট্রে নতুন ফেডারেল নিয়মের কারণে কিছু শ্রেণির বৈধ অভিবাসী সরকারি স্বাস্থ্যবিমা মেডিকেইডের পূর্ণ সুবিধা হারিয়েছেন। এতে শরণার্থী, আশ্রয়প্রার্থী এবং মানবপাচার ও পারিবারিক সহিংসতার শিকার কিছু মানুষের চিকিৎসার খরচ নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে দীর্ঘমেয়াদি রোগে আক্রান্ত ব্যক্তি ও যাঁদের নিয়মিত ব্যয়বহুল চিকিৎসা প্রয়োজন, তাঁদের পরিবারগুলো বেশি দুশ্চিন্তায় পড়েছে।

২০২৬ সালের ১ অক্টোবর থেকে নতুন নিয়ম কার্যকর হয়েছে। এর ফলে নির্দিষ্ট কিছু অ-মার্কিন নাগরিকের জন্য মেডিকেইড এবং শিশুদের স্বাস্থ্যবিমা কর্মসূচির সুবিধা পাওয়ার সুযোগ সীমিত হয়েছে। তবে এই পরিবর্তন সবার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য নয়। সব বৈধ অভিবাসী কিংবা বাংলাদেশি প্রবাসীর স্বাস্থ্যবিমা বন্ধ হয়ে গেছে—এমন ধারণাও সঠিক নয়। কারা সুবিধা পাবেন, তা নির্ভর করে তাঁদের অভিবাসন-অবস্থা, বয়স, গর্ভাবস্থা এবং সংশ্লিষ্ট অঙ্গরাজ্যের নিয়মের ওপর।

প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসনের ২০২৫ সালের কর ও সরকারি ব্যয়সংক্রান্ত আইনের আওতায় এই পরিবর্তন আনা হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের মেডিকেইড ও মেডিকেয়ার পরিষেবা কেন্দ্র ২০২৬ সালের ৮ এপ্রিল অঙ্গরাজ্যগুলোকে নতুন নিয়ম বাস্তবায়নের নির্দেশনা দেয়। এরপর ১ অক্টোবর থেকে বিধিনিষেধ কার্যকর হয়।

মেডিকেইড যুক্তরাষ্ট্রের নিম্ন আয়ের যোগ্য ব্যক্তি ও পরিবারকে চিকিৎসার খরচ মেটাতে সহায়তা করে। কেন্দ্রীয় ও অঙ্গরাজ্য সরকার যৌথভাবে এই কর্মসূচির অর্থায়ন করে। চিকিৎসকের পরামর্শ, হাসপাতালে ভর্তি, প্রয়োজনীয় ওষুধ এবং বিভিন্ন স্বাস্থ্যসেবার ব্যয় বহনে অনেক পরিবার এই সুবিধার ওপর নির্ভর করে। ফলে যোগ্যতা হারালে তাঁদের নিজস্ব আয় থেকে চিকিৎসার খরচ জোগানো কঠিন হয়ে উঠতে পারে।

নতুন নিয়মে শরণার্থী, আশ্রয়প্রার্থী, মানবপাচারের শিকার এবং পারিবারিক সহিংসতার শিকার কিছু ব্যক্তি সুবিধা হারিয়েছেন। তবে প্রত্যেকের অভিবাসন-অবস্থা আলাদা হওয়ায় সবার ক্ষেত্রে একই নিয়ম প্রযোজ্য হবে না। গ্রিন কার্ডধারীদের ক্ষেত্রেও এই নির্দিষ্ট পরিবর্তন একইভাবে প্রযোজ্য নয়। তাঁদের স্বাস্থ্যবিমার যোগ্যতা নির্ধারণে অন্যান্য শর্ত বিবেচনা করা হয়।

কত মানুষ এই পরিবর্তনের কারণে স্বাস্থ্যবিমার সুবিধা হারিয়েছেন, তা নিয়েও উদ্বেগ রয়েছে। বিভিন্ন অঙ্গরাজ্যের হিসাব অনুযায়ী, অ্যারিজোনায় ১ অক্টোবর প্রায় ২৯ হাজার বৈধ অভিবাসী মেডিকেইডের তালিকা থেকে বাদ পড়েছেন বলে কর্মকর্তারা জানিয়েছেন। ফ্লোরিডায় সম্ভাব্য সংখ্যা প্রায় ১ লাখ ৭৭ হাজার। এ ছাড়া নয়টি অঙ্গরাজ্য ও ওয়াশিংটন ডিসিতে ২ লাখ ৮১ হাজারের বেশি অভিবাসী সুবিধা হারাতে পারেন বলে অনুমান করা হয়েছে। এসব সংখ্যা অঙ্গরাজ্যভিত্তিক তথ্য ও হিসাবের ওপর নির্ভরশীল। যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে প্রভাবিত মানুষের চূড়ান্ত সংখ্যা হিসেবে এগুলোকে দেখা ঠিক হবে না।

নতুন নিয়মের প্রভাব বোঝাতে অ্যারিজোনার টাকসনের একটি পরিবারের অভিজ্ঞতা সামনে এসেছে। মারিয়া চাকনের ছেলে যিশু ১৭ বছর বয়সে সড়ক দুর্ঘটনায় গুরুতর আহত হওয়ার পর থেকে নিজে শ্বাস নিতে পারেন না। তাঁর শ্বাস-প্রশ্বাসের যন্ত্র, খাবার দেওয়ার নল এবং প্রতিদিনের ওষুধ প্রয়োজন।

পরিবারটির ভাষ্য অনুযায়ী, ছেলের চিকিৎসা ও পরিচর্যার জন্য মাসে প্রায় ২৫ হাজার ডলার ব্যয় হতো, যার বড় অংশ বহনে মেডিকেইড সহায়তা করত। তাঁর মা জানিয়েছেন, ছেলের একটি ওষুধের দামই মাসে প্রায় সাত হাজার ডলার হতে পারে। স্বাস্থ্যবিমার সুবিধা হারানোর পর ছেলের প্রয়োজনীয় চিকিৎসা কীভাবে চালিয়ে যাবেন, তা নিয়ে তিনি উদ্বিগ্ন। এটি একটি পরিবারের অভিজ্ঞতা; অন্যদের চিকিৎসার প্রয়োজন ও ব্যয় ভিন্ন হতে পারে।

স্বাস্থ্যনীতি বিশেষজ্ঞদের আশঙ্কা, স্বাস্থ্যবিমার সুবিধা হারালে কিছু মানুষ নিয়মিত চিকিৎসা নেওয়া কিংবা প্রয়োজনীয় ওষুধ কেনা পিছিয়ে দিতে পারেন। এতে রোগের অবস্থা আরও খারাপ হওয়ার পর জরুরি বিভাগে যেতে হতে পারে। রোগীর স্বাস্থ্যঝুঁকি বাড়ার পাশাপাশি হাসপাতাল ও অঙ্গরাজ্য সরকারের ওপরও অতিরিক্ত ব্যয়ের চাপ তৈরি হতে পারে।

কংগ্রেশনাল বাজেট অফিসের ২০২৫ সালের এক হিসাব অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রের বৃহত্তর স্বাস্থ্যবিমা নীতির পরিবর্তনের সম্মিলিত প্রভাবে ২০৩৪ সালের মধ্যে আরও ৭৫ লাখ মানুষ স্বাস্থ্যবিমার বাইরে চলে যেতে পারেন। তবে এই পূর্বাভাস শুধু অভিবাসীদের নিয়ে করা হয়নি। তাই পুরো সংখ্যাটিকে মেডিকেইড হারানো অভিবাসীর সংখ্যা হিসেবে বিবেচনা করা যাবে না।

নতুন নিয়মের কিছু ব্যতিক্রমও রয়েছে। জরুরি চিকিৎসার ক্ষেত্রে মেডিকেইডের কেন্দ্রীয় অর্থায়ন অব্যাহত রাখার সুযোগ থাকতে পারে। পাশাপাশি অঙ্গরাজ্যগুলো নির্দিষ্ট শর্তে বৈধভাবে বসবাসরত শিশু ও গর্ভবতী নারীদের জন্য মেডিকেইড অথবা শিশুদের স্বাস্থ্যবিমার সুবিধা চালু রাখতে পারে।

যাঁরা নিজেদের স্বাস্থ্যবিমার যোগ্যতা নিয়ে অনিশ্চয়তায় রয়েছেন, তাঁদের সংশ্লিষ্ট অঙ্গরাজ্যের মেডিকেইড দপ্তরের সঙ্গে যোগাযোগ করে ব্যক্তিগত অবস্থার ভিত্তিতে নিয়ম জেনে নেওয়া প্রয়োজন। কারণ, নতুন বিধিনিষেধের প্রভাব সবার ওপর এক নয়। তবে যাঁরা সুবিধা হারিয়েছেন, তাঁদের জন্য চিকিৎসার খরচ বহন করা বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠতে পারে। বিশেষ করে দীর্ঘমেয়াদি চিকিৎসার ওপর নির্ভরশীল পরিবারগুলোর ক্ষেত্রে এই পরিবর্তন আর্থিক চাপ আরও বাড়িয়ে দিতে পারে।

Logo

সম্পাদক ও প্রকাশক: মহিউদ্দিন সরকার