বিজ্ঞাপন
যুক্তরাষ্ট্রে ভয়াবহ ঝড়ে ২ জনের মৃ ত্যু, বিদ্যুৎহীন ৮ লাখ গ্রাহক
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ: ১১ অক্টোবর ২০২৬, ০১:২৯ এএম
বিজ্ঞাপন
ক্তরাষ্ট্রের দক্ষিণাঞ্চলে হারিকেন ইসাইয়াসের আঘাতে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। ঝড়ের কারণে ফ্লোরিডা ও আলাবামায় অন্তত দুইজনের মৃ ত্যু হয়েছে এবং প্রায় আট লাখ বিদ্যুৎ গ্রাহক বিদ্যুৎবিহীন হয়ে পড়েছেন। ঝড়টি উপকূলে আঘাত হানার পর দুর্বল হয়ে গেলেও ভারী বৃষ্টি, আকস্মিক বন্যা ও প্রবল বাতাসের ঝুঁকি অব্যাহত রয়েছে। অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসের ১০ অক্টোবর প্রকাশিত প্রতিবেদনে এসব তথ্য জানানো হয়েছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, হারিকেনটি ফ্লোরিডার ডেস্টিনের কাছে যুক্তরাষ্ট্রের উপসাগরীয় উপকূলে আঘাত হানে। আঘাতের সময় এটি ক্যাটাগরি–২ হারিকেন ছিল এবং বাতাসের সর্বোচ্চ স্থায়ী গতি ছিল ঘণ্টায় প্রায় ১০৫ মাইল।
ফ্লোরিডার পানহ্যান্ডেল অঞ্চল ও আলাবামার বিভিন্ন এলাকায় গাছ উপড়ে পড়ে, সড়ক চলাচল ব্যাহত হয় এবং কয়েকটি স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত হয়। পেনসাকোলা ও আশপাশের এলাকায় বিদ্যুতের তার ও গাছ রাস্তায় পড়ে থাকায় স্বাভাবিক চলাচল কঠিন হয়ে পড়ে।
ঝড়ের কারণে জরুরি সেবার কাজও কিছু এলাকায় সাময়িকভাবে বাধাগ্রস্ত হয়। ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় বিদ্যুৎ পুনঃস্থাপন এবং সড়ক পরিষ্কারের কাজ গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
প্রবল বাতাসে গাছ ও বিদ্যুতের খুঁটি ক্ষতিগ্রস্ত হওয়া এবং বিদ্যুৎ সরবরাহের অবকাঠামোতে বিঘ্ন সৃষ্টি হওয়ায় ব্যাপক বিদ্যুৎ বিভ্রাট দেখা দিয়েছে।
বিদ্যুৎ না থাকলে বাসাবাড়ির শীতাতপনিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা, ফ্রিজ, ইন্টারনেট ও মোবাইল চার্জিংয়ের মতো দৈনন্দিন সেবায় সমস্যা দেখা দিতে পারে। বিশেষ করে বয়স্ক ব্যক্তি, শিশু এবং চিকিৎসার জন্য বিদ্যুতের ওপর নির্ভরশীল মানুষের ক্ষেত্রে ঝুঁকি বেশি।
এ অবস্থায় স্থানীয় বিদ্যুৎ সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর পুনরুদ্ধার কার্যক্রম এবং জরুরি সেবার নির্দেশনা অনুসরণ করা গুরুত্বপূর্ণ।
ঝড়টি দুর্বল হয়ে গেলেও এর সঙ্গে আসা আর্দ্রতা ও বৃষ্টিপাত দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের বিভিন্ন এলাকায় বন্যার ঝুঁকি তৈরি করতে পারে। আবহাওয়াবিদদের পূর্বাভাসে কিছু অঞ্চলে আরও কয়েক ইঞ্চি বৃষ্টির আশঙ্কার কথা উল্লেখ করা হয়েছে। কোথাও কোথাও আকস্মিক বন্যা ও টর্নেডোর ঝুঁকিও থাকতে পারে।
কর্তৃপক্ষের নির্দেশনা অনুযায়ী, বন্যাপ্রবণ সড়ক এড়িয়ে চলা, বিদ্যুতের ছিঁড়ে পড়া তার থেকে দূরে থাকা এবং জরুরি সতর্কবার্তা অনুসরণ করা জরুরি। ঝড়ের পরেও বিপজ্জনক পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে বলে বাসিন্দাদের সতর্ক থাকতে হবে।
এই দুর্যোগের প্রভাব শুধু ঘরবাড়ির ক্ষয়ক্ষতিতে সীমাবদ্ধ নয়। বিদ্যুৎ বিভ্রাট, সড়ক বন্ধ, ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের কার্যক্রমে বিঘ্ন এবং পণ্য সরবরাহের সমস্যাও দেখা দিতে পারে। ক্ষয়ক্ষতির প্রকৃত পরিমাণ নির্ধারণে আরও সময় লাগতে পারে।
যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসকারী বাংলাদেশি পরিবারগুলোর উচিত স্থানীয় আবহাওয়া দপ্তর, কাউন্টি প্রশাসন ও বিদ্যুৎ সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানের সর্বশেষ নির্দেশনা অনুসরণ করা।