বিজ্ঞাপন
ব্রিটেনে ইইউ থেকে খাবার আনলে ৫ হাজার পাউন্ড পর্যন্ত জরিমানা
বিমানবন্দরে নতুন সতর্কতা
যুক্তরাজ্য প্রতিনিধি
প্রকাশ: ১০ অক্টোবর ২০২৬, ০৩:৩১ এএম
বিজ্ঞাপন
ব্রিটেনে ইউরোপীয় ইউনিয়নভুক্ত দেশ থেকে ভ্রমণকারীদের খাবার আনা নিয়ে নতুন করে সতর্ক করেছে দেশটির পরিবেশ, খাদ্য ও গ্রামীণ বিষয়ক দপ্তর। বিশেষ করে মাংস ও দুগ্ধজাত পণ্য সঙ্গে নিয়ে ব্রিটেনে প্রবেশের ক্ষেত্রে কঠোর বিধিনিষেধ রয়েছে। নিয়ম ভাঙলে এসব পণ্য জব্দ করা হতে পারে এবং গুরুতর ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ ৫ হাজার পাউন্ড পর্যন্ত জরিমানার মুখে পড়তে পারেন ভ্রমণকারীরা।
ডেইলি মিররের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইউরোপের বিভিন্ন দেশে গবাদিপশুর ক্ষুরা রোগ ছড়িয়ে পড়ার কারণে এই বিধিনিষেধ জারি রয়েছে। স্পেন, ফ্রান্স, গ্রিস ও ইতালিসহ ইউরোপের বিভিন্ন দেশ থেকে ব্রিটেনে আসা যাত্রীদের খাবার বহনের ক্ষেত্রে বিশেষভাবে সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে।
ব্রিটেনের পরিবেশ, খাদ্য ও গ্রামীণ বিষয়ক দপ্তর এক সতর্কবার্তায় জানিয়েছে, ইউরোপীয় ইউনিয়ন থেকে মাংস ও দুগ্ধজাত পণ্য ব্রিটেনে নিয়ে এলে প্রাণীর রোগ ছড়িয়ে পড়ার ঝুঁকি রয়েছে। তাই যাত্রীদের এসব পণ্য লাগেজে লুকিয়ে সীমান্ত পার করার চেষ্টা না করার আহ্বান জানানো হয়েছে।
বর্তমান নিয়ম অনুযায়ী, ইউরোপীয় ইউনিয়নের যেকোনো দেশ থেকে গ্রেট ব্রিটেনে প্রবেশের সময় চিজ, দুধ, মাখন, দইসহ দুগ্ধজাত পণ্য, শূকরের মাংস, গরুর মাংস, ভেড়ার মাংস, ছাগলের মাংস, হরিণের মাংস এবং এসব মাংস দিয়ে তৈরি পণ্য আনা নিষিদ্ধ।
এমনকি বিদেশের বিমানবন্দর থেকে কেনা কিছু খাবারও এই বিধিনিষেধের আওতায় পড়তে পারে। উদাহরণ হিসেবে, স্পেনের কোনো বিমানবন্দর থেকে কেনা মাংস বা চিজযুক্ত স্যান্ডউইচ ব্রিটেনে নিয়ে এলে তা নিয়মবহির্ভূত হতে পারে।
সীমান্ত কর্মকর্তারা নিষিদ্ধ খাদ্যপণ্য বহনকারীদের সেগুলো জমা দেওয়ার সুযোগ দিতে পারেন। অন্যথায় পণ্য জব্দ করে নষ্ট করা হতে পারে। সরকারি সতর্কতায় বলা হয়েছে, গুরুতর ক্ষেত্রে ইংল্যান্ডে সর্বোচ্চ ৫ হাজার পাউন্ড পর্যন্ত জরিমানা হতে পারে।
এই বিধিনিষেধের মূল কারণ ইউরোপে ছড়িয়ে পড়া ক্ষুরা রোগ। রোগটি মানুষের জন্য বিপজ্জনক নয় বলে কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। তবে এটি গরু, ভেড়া, শূকরসহ খুরযুক্ত প্রাণীদের মধ্যে অত্যন্ত সংক্রামক ভাইরাসজনিত রোগ এবং এর বিস্তার কৃষি ও পশুপালন খাতে বড় ধরনের অর্থনৈতিক ক্ষতি করতে পারে।
এ কারণে যুক্তরাজ্য সরকার দেশের কৃষক, পশুসম্পদ এবং খাদ্য নিরাপত্তা সুরক্ষায় ব্যক্তিগতভাবে মাংস ও দুগ্ধজাত পণ্য আমদানির ওপর বিধিনিষেধ জোরদার করেছে। জার্মানি, হাঙ্গেরি, স্লোভাকিয়া ও অস্ট্রিয়ায় ক্ষুরা রোগের প্রাদুর্ভাব শনাক্ত হওয়ার পর ওই দেশগুলো থেকে গবাদিপশু, অন্যান্য জাবরকাটা প্রাণী, শূকরের মাংস ও দুগ্ধজাত পণ্যের ব্যক্তিগত আমদানিতে আরও কঠোর নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়েছে।
তবে সব ধরনের খাবার নিষিদ্ধ নয়। যেকোনো দেশ থেকে গ্রেট ব্রিটেনে রুটি, তাজা ক্রিম ছাড়া কেক, বিস্কুট, চকোলেট ও মিষ্টিজাতীয় কিছু পণ্য, পাস্তা ও নুডলস, প্যাকেটজাত স্যুপ ও বিভিন্ন উদ্ভিজ্জ পণ্য আনার অনুমতি রয়েছে। তবে এসব খাবারের মধ্যে মাংস বা নিষিদ্ধ প্রাণিজ উপাদান থাকলে আলাদা বিধিনিষেধ প্রযোজ্য হতে পারে।
যুক্তরাজ্যের উপপ্রধান পশুচিকিৎসা কর্মকর্তা ড. জর্জ মার্টিন-আলমাগ্রো জানিয়েছেন, ইউরোপের বিভিন্ন দেশে ক্ষুরা রোগ শনাক্ত হওয়ার পর গ্রেট ব্রিটেনে রোগটি প্রবেশের ঝুঁকি বেড়েছে। তাই রোগ ছড়ানোর সম্ভাবনা রয়েছে এমন খাদ্যপণ্যের ব্যক্তিগত আমদানির ওপর বিধিনিষেধ বাড়ানো হয়েছে।
কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, সীমিত কিছু ক্ষেত্রে ছাড় রয়েছে। এর মধ্যে অল্প পরিমাণ শিশুখাদ্য, চিকিৎসাজনিত বিশেষ খাবার এবং নির্দিষ্ট কিছু যৌগিক খাদ্যপণ্য রয়েছে। তবে ভ্রমণকারীদের ব্রিটেনে প্রবেশের আগে নিষিদ্ধ পণ্যের তালিকা যাচাই করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
সরকারের কৃষিমন্ত্রী ড্যানিয়েল জাইকনার বলেছেন, ব্রিটিশ কৃষকদের ক্ষুরা রোগের ঝুঁকি থেকে সুরক্ষিত রাখতে সরকার প্রয়োজনীয় সব পদক্ষেপ নেবে। তার ভাষ্য অনুযায়ী, রোগের বিস্তার ঠেকানো এবং ব্রিটেনের খাদ্য নিরাপত্তা রক্ষার জন্য ব্যক্তিগতভাবে মাংস ও দুগ্ধজাত পণ্য আনার ওপর বিধিনিষেধ জোরদার করা হয়েছে।
ডেইলি মিররের প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, এই বিধিনিষেধ গ্রেট ব্রিটেনে প্রবেশকারী যাত্রীদের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য। উত্তর আয়ারল্যান্ড, জার্সি, গার্নসি ও আইল অব ম্যান থেকে আসা ব্যক্তিগত খাদ্যপণ্যের ক্ষেত্রে একই নিয়ম প্রযোজ্য নয়।