বিজ্ঞাপন
বিমানের টিকিটের খরচ কমাতে ‘স্কিপল্যাগিং’, ধরা পড়লে পেতে পারেন নিষেধাজ্ঞা
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ: ০৯ অক্টোবর ২০২৬, ০৩:০৬ এএম
বিজ্ঞাপন
বিমানের টিকিটের দাম বিশ্বজুড়েই ক্রমাগত বাড়ছে। পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০২৬ সালের আগস্ট নাগাদ যুক্তরাষ্ট্রে অভ্যন্তরীণ রাউন্ড-ট্রিপ টিকিটের গড় মূল্য ১৭ শতাংশ বেড়ে ৬২৪ ডলারে দাঁড়িয়েছে। এই অবস্থায় ভ্রমণ খরচ কমাতে যাত্রীরা নানা ধরনের ফন্দি আঁটছেন। এর মধ্যে সবচেয়ে আলোচিত ও বিতর্কিত কৌশলটি হলো 'স্কিপল্যাগিং' বা 'হিডেন সিটি' ফ্লাইং।
এই অভিনব পদ্ধতিতে যাত্রীরা তাদের চূড়ান্ত গন্তব্যের টিকিট কাটলেও সেখানে যান না; বরং মাঝপথে লে-ওভার বা ট্রানজিট শহরেই নেমে যান। কারণ, অনেক সময় কোনো নির্দিষ্ট শহরে সরাসরি যাওয়ার টিকিটের চেয়ে ওই শহরকে ট্রানজিট হিসেবে ব্যবহার করে অন্য কোনো গন্তব্যের টিকিট কাটলে খরচ বেশ কম পড়ে।
স্কিপল্যাগড নামের একটি সার্চ ইঞ্জিনের সিইও আক্তারের জামান বিষয়টি ব্যাখ্যা করে জানান, নিউইয়র্ক থেকে অরল্যান্ডোর সরাসরি ফ্লাইটের ভাড়া হয়তো ৩৫০ ডলার, কিন্তু নিউইয়র্ক থেকে অরল্যান্ডো হয়ে ডালাস যাওয়ার টিকিটের দাম মাত্র ১৭০ ডলার। যাত্রীরা এক্ষেত্রে সস্তা টিকিটটি কিনে অরল্যান্ডোতেই নেমে যান।
স্কিপল্যাগড প্ল্যাটফর্মের পরিসংখ্যান বলছে, গত এক বছরে প্রায় ৩ লাখ মানুষ এই কৌশল ব্যবহার করে ৫ কোটি ৩৬ লাখ ডলারের বেশি সাশ্রয় করেছেন। গড়ে একেকজন যাত্রীর প্রায় ৪৭ শতাংশ বা ১৮০ ডলার পর্যন্ত বেঁচে যায়। বিশেষ করে ভ্রমণের ঠিক আগমুহূর্তে যখন টিকিটের দাম আকাশচুম্বী থাকে, তখন এই কৌশলটি বাজেট-সচেতন যাত্রীদের কাছে বেশ আকর্ষণীয় হয়ে ওঠে।
তবে বিমান সংস্থাগুলো যাত্রীদের এই কৌশলের চরম বিরোধী। ডলার ফ্লাইট ক্লাবের প্রতিষ্ঠাতা ও সিইও জেসি নিউগার্টেন জানান, স্কিপল্যাগিংয়ের কারণে এয়ারলাইন্সগুলোর রাজস্ব আয়ে ঘাটতি দেখা দেয় এবং আসন বরাদ্দ মডেলে বড় ধরনের নেতিবাচক প্রভাব পড়ে।
আমেরিকান এয়ারলাইন্সের মতে, মাঝপথে যাত্রী নেমে গেলে লাগেজ ব্যবস্থাপনায় জটিলতা তৈরি হয় এবং ওই শূন্য আসনটি অন্য কোনো জরুরি যাত্রীর কাজে লাগতে পারত। ক্ষুব্ধ এয়ারলাইন্সগুলো ইতোমধ্যে স্কিপল্যাগড ওয়েবসাইটের বিরুদ্ধে একাধিক মামলাও করেছে। ২০২৪ সালের অক্টোবরে আমেরিকান এয়ারলাইন্স কপিরাইট লঙ্ঘন ও অবৈধ আয়ের মামলায় স্কিপল্যাগডের বিরুদ্ধে প্রায় ৯৪ লাখ ডলার ক্ষতিপূরণ জিতেছে। এর আগে ইউনাইটেড ও সাউথওয়েস্ট এয়ারলাইন্সও একই কারণে আইনি পদক্ষেপ নিয়েছিল।
স্কিপল্যাগিং সরাসরি কোনো বেআইনি কাজ না হলেও এটি প্রায় সব এয়ারলাইন্সের শর্তাবলির সুস্পষ্ট লঙ্ঘন। গ্লোবাল ট্রাভেল মোমেন্টসের সিইও ডানকান গ্রিনফিল্ড-টার্ক সতর্ক করে বলেন, ধরা পড়লে বিমান সংস্থাগুলো যাত্রীদের ফ্রিকোয়েন্ট-ফ্লায়ার সুবিধা বাতিল করা থেকে শুরু করে ভবিষ্যতে তাদের ফ্লাইটে নিষেধাজ্ঞাও জারি করতে পারে।
তাই এই কৌশল ব্যবহার করতে হলে যাত্রীদের বেশ কিছু সতর্কতা মানতে হয়। প্রথমত, কোনোভাবেই রাউন্ড-ট্রিপ বা যাওয়া-আসার টিকিট কাটা যাবে না, শুধু একমুখী টিকিট কাটতে হবে। কারণ মাঝপথের কোনো ফ্লাইটে না উঠলে এয়ারলাইন্স পুরো ট্রিপ বাতিল করে দেয়। দ্বিতীয়ত, কোনো বড় চেক-ইন লাগেজ দেওয়া যাবে না; যাত্রীকে শুধু একটি ছোট ব্যাকপ্যাক নিতে হবে যা সিটের নিচে রাখা যায়। এছাড়া টিকিট কাটার সময় লয়ালটি পয়েন্ট বা ফ্রিকোয়েন্ট-ফ্লায়ার অ্যাকাউন্ট ব্যবহার না করা এবং একই রুটে বারবার এই কৌশল প্রয়োগ না করার পরামর্শ দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।