বিজ্ঞাপন
লন্ডনে নোবেলজয়ী মালালা ইউসুফজাইয়ের সঙ্গে ডিনারে মেগান মার্কেল, ছবি ভাইরাল
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ: ০৯ অক্টোবর ২০২৬, ০২:৫৮ এএম
বিজ্ঞাপন
যুক্তরাজ্যে ফেরার পর লন্ডনে প্রথমবারের মতো প্রকাশ্যে দেখা গেল ব্রিটিশ রাজপরিবারের সদস্য প্রিন্স হ্যারির স্ত্রী মেগান মার্কেলকে। বুধবার (৭ অক্টোবর) রাতে নোবেল শান্তি পুরস্কারজয়ী পাকিস্তানি শিক্ষা অধিকারকর্মী মালালা ইউসুফজাইয়ের সঙ্গে ডিনারে অংশ নেন তিনি। লন্ডনের অভিজাত মেফেয়ার এলাকার পাঁচ তারকা হোটেল ক্ল্যারিজেসে তাঁদের একসঙ্গে সময় কাটানোর ছবি ও ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। দীর্ঘদিন পর দুই পরিচিত ব্যক্তিত্বের এই সাক্ষাৎ আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমেরও নজর কেড়েছে।
বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) মার্কিন সংবাদমাধ্যম পেজ সিক্সের এক প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, ৪৫ বছর বয়সী মেগান মার্কেল এবং ২৯ বছর বয়সী মালালা ইউসুফজাইকে ক্ল্যারিজেস হোটেলের একটি রেস্টুরেন্টে একসঙ্গে রাতের খাবার খেতে দেখা যায়।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম টিকটকে প্রকাশিত একটি ভিডিওতে দেখা যায়, দুজন একটি টেবিলে মুখোমুখি বসে কথা বলছেন। তাঁদের পাশের টেবিলে বসা এক ব্যক্তি ভিডিওটি ধারণ করে অনলাইনে প্রকাশ করেন। পরে সেটি বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, মেগান মার্কেল সাদা রঙের পোশাক পরেছিলেন। অন্যদিকে মালালার পরনে ছিল হালকা বাদামি রঙের কোট। রাতের খাবারের সময় দুজনকে স্বাভাবিক ও আন্তরিকভাবে কথা বলতে দেখা যায়। তবে তাঁদের আলোচনার বিষয়বস্তু জানা যায়নি।
মেগান ও মালালার এই সাক্ষাৎ অবশ্য নতুন কোনো পরিচয়ের সূচনা নয়। এর আগেও নারী শিক্ষা ও মেয়েদের অধিকার নিয়ে একসঙ্গে কাজ করেছেন তাঁরা।
২০২০ সালের অক্টোবরে আন্তর্জাতিক কন্যাশিশু দিবস উপলক্ষে আয়োজিত একটি অনলাইন আলোচনায় মালালার সঙ্গে অংশ নিয়েছিলেন মেগান মার্কেল ও তাঁর স্বামী প্রিন্স হ্যারি। করোনাভাইরাস মহামারির সময় অনুষ্ঠিত সেই আলোচনায় বিশ্বজুড়ে মেয়েদের শিক্ষার অধিকার এবং তাদের সামনে থাকা প্রতিবন্ধকতার বিষয়টি গুরুত্ব পায়।
ওই আলোচনায় মেগান ও হ্যারি নিজেদের পারিবারিক অভিজ্ঞতার কথাও তুলে ধরেছিলেন। বিশেষ করে মহামারির সময় ঘরে থাকার ফলে সন্তান আর্চির বেড়ে ওঠার গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তগুলো কাছ থেকে দেখার অভিজ্ঞতা ভাগ করে নেন তাঁরা।
মালালা সে সময় জানিয়েছিলেন, মেয়েদের শিক্ষার গুরুত্ব নিয়ে তাঁর ও মেগানের দৃষ্টিভঙ্গিতে মিল রয়েছে। শিক্ষার সুযোগ বাড়লে শুধু মেয়েরা নয়, পুরো সমাজ উপকৃত হয় বলেও মন্তব্য করেছিলেন তিনি।
ছয় বছর পর লন্ডনে তাঁদের আবার একসঙ্গে দেখা গেল। তবে এবারের সাক্ষাৎ কোনো আনুষ্ঠানিক কর্মসূচির অংশ ছিল কি না, তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি। নতুন কোনো যৌথ উদ্যোগ বা প্রকল্প নিয়ে তাঁরা আলোচনা করেছেন, এমন তথ্যও প্রকাশ করা হয়নি।
এদিকে মেগান মার্কেলের লন্ডনে উপস্থিতি বিশেষ গুরুত্ব পাচ্ছে তাঁর সাম্প্রতিক যুক্তরাজ্যে ফিরে আসার কারণে।
মার্কিন সংবাদমাধ্যম পিপলের প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত ২৬ আগস্ট প্রিন্স হ্যারি ও তাঁদের দুই সন্তান প্রিন্স আর্চি এবং প্রিন্সেস লিলিবেটকে নিয়ে যুক্তরাজ্যে ফেরেন মেগান।
কয়েক বছর ধরে যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় বসবাস করছিলেন তাঁরা। বর্তমানে যুক্তরাজ্যেও সময় কাটাচ্ছেন এই দম্পতি। তবে ক্যালিফোর্নিয়ার মন্টেসিটোতে তাঁদের বাসভবনও রয়েছে।
২০২০ সালে ব্রিটিশ রাজপরিবারের নিয়মিত দায়িত্ব থেকে সরে দাঁড়ানোর পর মেগান ও হ্যারি যুক্তরাষ্ট্রে বসবাস শুরু করেন। এরপর রাজপরিবারের সঙ্গে তাঁদের সম্পর্ক এবং যুক্তরাজ্যে যাতায়াত নিয়ে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমে নিয়মিত আলোচনা হয়েছে।
সাম্প্রতিক সময়ে যুক্তরাজ্যে ফেরার পর মেগানকে তুলনামূলক কম প্রকাশ্য অনুষ্ঠানে দেখা গেছে। তবে পরিবারের সদস্য ও পরিচিতজনদের সঙ্গে বিভিন্ন স্থানে সময় কাটানোর খবর প্রকাশিত হয়েছে।
গত ২১ সেপ্টেম্বর অক্সফোর্ডশায়ারে মার্কিন টেলিভিশন উপস্থাপক এলেন ডিজেনারেস এবং তাঁর স্ত্রী পোর্টিয়া ডি রসির সঙ্গে দেখা করেন মেগান। তাঁরা বারফোর্ডের কাছে একটি রেস্টুরেন্টে সময় কাটান বলে সংবাদমাধ্যমে জানানো হয়।
এরপর ২ অক্টোবর প্রিন্স হ্যারির সঙ্গে কটসওল্ডস এলাকার ফকল্যান্ড আর্মস নামে একটি পাবেও তাঁকে দেখা যায়।
তবে লন্ডনে ফেরার পর মালালার সঙ্গে ডিনারের ঘটনাটিকেই তাঁর প্রথম প্রকাশ্যে আসা লন্ডন সফর হিসেবে উল্লেখ করেছে পেজ সিক্স ও পিপল।
অন্যদিকে মালালা ইউসুফজাই দীর্ঘদিন ধরে যুক্তরাজ্যে বসবাস করছেন। পাকিস্তানে মেয়েদের শিক্ষার অধিকার নিয়ে আন্দোলনের কারণে ২০১২ সালে তালেবানের হামলার শিকার হওয়ার পর চিকিৎসার জন্য তাঁকে যুক্তরাজ্যে নেওয়া হয়েছিল।
পরে তিনি যুক্তরাজ্যেই পড়াশোনা চালিয়ে যান এবং অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতক সম্পন্ন করেন। নারী শিক্ষা ও মানবাধিকারে অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ ২০১৪ সালে মাত্র ১৭ বছর বয়সে নোবেল শান্তি পুরস্কার পান মালালা। তিনি বিশ্বের সর্বকনিষ্ঠ নোবেলজয়ী হিসেবে পরিচিত।
বর্তমানে মালালা ফান্ডের মাধ্যমে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে মেয়েদের শিক্ষার সুযোগ সম্প্রসারণ এবং শিক্ষার অধিকার নিশ্চিত করতে কাজ করছেন।
অন্যদিকে মেগান মার্কেলও বিভিন্ন সময়ে নারী অধিকার, শিক্ষা ও সামাজিক উন্নয়নমূলক উদ্যোগে অংশ নিয়েছেন। ফলে তাঁদের আগের পরিচয় এবং সামাজিক কাজের অভিন্ন ক্ষেত্রের কারণে এবারের সাক্ষাৎ নতুন করে আলোচনায় এসেছে।
তবে লন্ডনের ক্ল্যারিজেস হোটেলে তাঁদের সাক্ষাতের সুনির্দিষ্ট উদ্দেশ্য সম্পর্কে কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
পেজ সিক্স, পিপল এবং ইউএস উইকলির প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, আপাতত এটি দুই পরিচিত ব্যক্তিত্বের ব্যক্তিগত সাক্ষাৎ বলেই মনে হচ্ছে। নতুন কোনো সহযোগিতা বা আনুষ্ঠানিক প্রকল্পের ঘোষণা আসেনি।
লন্ডনে মেগান মার্কেলের সাম্প্রতিক উপস্থিতি এবং মালালা ইউসুফজাইয়ের সঙ্গে তাঁর পুনর্মিলন ঘিরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনা চলছে। বিশেষ করে মেয়েদের শিক্ষা ও অধিকার নিয়ে অতীতে তাঁদের যৌথ কাজের কারণে ভবিষ্যতে আবারও একসঙ্গে কোনো উদ্যোগে দেখা যাবে কি না, সে বিষয়ে আগ্রহ তৈরি হয়েছে। তবে এ ধরনের কোনো পরিকল্পনার বিষয়ে এখন পর্যন্ত নিশ্চিত তথ্য পাওয়া যায়নি।