বিজ্ঞাপন
মেয়ের বিয়েতে বাবাকে দেখে ভাই ভাবলেন অনেকে, তারুণ্য ধরে রাখার রহস্য জানালেন বাবা
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ: ০৮ অক্টোবর ২০২৬, ০৬:৪৬ পিএম
বিজ্ঞাপন
চীনে মেয়ের বিয়েতে উপস্থিত হয়ে নিজের তারুণ্যদীপ্ত চেহারার কারণে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনায় এসেছেন ৪১ বছর বয়সী এক বাবা। তাঁর মেয়ের বয়স ২১ বছর। কিন্তু বিয়ের অনুষ্ঠানে বাবা ও মেয়েকে একসঙ্গে দেখে অনেকেই তাঁদের ভাইবোন বলে ভুল করেন। আগস্টের শেষ দিকে চীনের গুয়াংডং প্রদেশের চাওঝৌ শহরে ধারণ করা একটি ভিডিও ছড়িয়ে পড়ার পর ঘটনাটি ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়। পরে ওই বাবা নিজেই জানান, কীভাবে তিনি নিজের সুস্থতা ও তারুণ্য ধরে রাখার চেষ্টা করেন।
চীনা সংবাদমাধ্যম হাইবাও নিউজের বরাতে প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আলোচিত ওই ব্যক্তির পারিবারিক নাম ঝেং। তাঁর জন্ম ১৯৮৬ সালে এবং মেয়ের জন্ম ২০০৫ সালে। অর্থাৎ বাবা ও মেয়ের বয়সের ব্যবধান মাত্র ২০ বছর। অল্প বয়সে বাবা হওয়ার পাশাপাশি নিজের চেহারা ও শারীরিক গঠনের কারণেও তিনি সহজে অন্যদের নজরে পড়েন।
গত ২৮ আগস্ট মেয়ের বিয়ের অনুষ্ঠানে লাল রঙের টি শার্ট ও কালো প্যান্ট পরে হাজির হন ঝেং। লম্বা গড়ন, তরুণদের মতো পোশাক এবং বয়সের তুলনায় কম বয়সী দেখানোর কারণে তাঁকে দেখে অনেকেই অবাক হন। বিয়ের অনুষ্ঠানের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে দর্শকদের একটি বড় অংশও প্রথমে বুঝতে পারেননি, তরুণ দেখতে ওই ব্যক্তিই কনের বাবা।
তবে এ ধরনের অভিজ্ঞতা ঝেংয়ের কাছে নতুন নয়। তিনি জানান, মেয়ের সঙ্গে বাইরে বের হলে অপরিচিত মানুষেরা প্রায়ই তাঁদের ভাইবোন বলে মনে করেন। কখনো কখনো তাঁদের প্রেমিক-প্রেমিকাও মনে করা হয়। এমন ভুল বোঝাবুঝির সঙ্গে তিনি অনেকটাই অভ্যস্ত হয়ে গেছেন।
এমনকি মেয়ের স্বামীও প্রথমবার শ্বশুরকে দেখে অবাক হয়েছিলেন। সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত ঝেংয়ের বক্তব্য অনুযায়ী, প্রথম পরিচয়ের সময় তাঁর জামাই ধারণা করতে পারেননি যে এত তরুণ দেখতে একজন মানুষ তাঁর হবু স্ত্রীর বাবা হতে পারেন।
বিয়ের ভিডিও ভাইরাল হওয়ার পর স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন ওঠে, ৪১ বছর বয়সেও ঝেং এত তরুণ দেখান কীভাবে? তাঁর বিশেষ কোনো খাবার, ব্যায়াম কিংবা ত্বকের যত্নের পদ্ধতি রয়েছে কি না, তা নিয়েও কৌতূহল তৈরি হয়।
এ বিষয়ে ঝেং যে ব্যাখ্যা দিয়েছেন, তা বেশ সাধারণ। তাঁর দাবি, তিনি নিজের মানসিক অবস্থাকে শান্ত রাখার চেষ্টা করেন এবং খুব কমই রাগ করেন। দৈনন্দিন জীবনে অযথা উত্তেজনা বা মানসিক চাপ এড়িয়ে চলাকে তিনি গুরুত্ব দেন।
পাশাপাশি পর্যাপ্ত ঘুমের অভ্যাস রয়েছে তাঁর। ঝেং জানান, তিনি দিনে ১০ থেকে ১২ ঘণ্টা পর্যন্ত ঘুমাতে পারেন। নিজের বিশ্রাম ও ঘুমের অভ্যাসকে সুস্থ থাকার একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ বলে মনে করেন তিনি।
নিয়মিত শরীরচর্চাও তাঁর দৈনন্দিন জীবনের অংশ। বিশেষ করে ব্যাডমিন্টন খেলতে পছন্দ করেন ঝেং। সপ্তাহে তিন থেকে চার দিন এই খেলায় অংশ নেন বলে জানিয়েছেন তিনি। তাঁর মতে, নিয়মিত খেলাধুলা শরীরকে সচল ও ফিট রাখতে সহায়তা করে।
তবে ঝেংয়ের এসব অভ্যাসই যে তাঁর চেহারা অপেক্ষাকৃত তরুণ দেখানোর একমাত্র কারণ, তা বৈজ্ঞানিকভাবে প্রতিষ্ঠিত নয়। মানুষের চেহারায় বয়সের ছাপ পড়ার ক্ষেত্রে বংশগত বৈশিষ্ট্য, জীবনযাপন, খাদ্যাভ্যাস, শারীরিক কার্যক্রম এবং পরিবেশসহ বিভিন্ন বিষয় ভূমিকা রাখতে পারে। শুধু একজন ব্যক্তির অভিজ্ঞতা থেকে তারুণ্য ধরে রাখার নির্দিষ্ট কোনো সূত্র নির্ধারণ করা সম্ভব নয়।
বিশেষজ্ঞদের সাধারণ পরামর্শ অনুযায়ী, প্রাপ্তবয়স্কদের সুস্থ থাকার জন্য নিয়মিত পর্যাপ্ত ঘুম, শারীরিক কার্যক্রম এবং মানসিক চাপ নিয়ন্ত্রণ গুরুত্বপূর্ণ। তবে প্রত্যেকের ঘুমের চাহিদা এক নয়। অধিকাংশ প্রাপ্তবয়স্ক মানুষের জন্য রাতে সাত থেকে নয় ঘণ্টা ঘুমের পরামর্শ দেওয়া হয়। ফলে ঝেংয়ের ১০ থেকে ১২ ঘণ্টা ঘুমানোর অভ্যাস সবার জন্য অনুসরণীয় কোনো নিয়ম নয়।
এদিকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওটি নিয়ে বিভিন্ন ধরনের প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। কেউ তাঁর চেহারা দেখে বিস্ময় প্রকাশ করেছেন, কেউ আবার বাবা ও মেয়ের বয়সের তুলনামূলক কম ব্যবধান নিয়ে মন্তব্য করেছেন। অনেকের আগ্রহের কেন্দ্রবিন্দু হয়ে উঠেছে তাঁর নিয়মিত খেলাধুলা ও জীবনযাপনের অভ্যাস।
ঘটনাটি নিয়ে গত ২৯ আগস্ট চীনের একাধিক সংবাদমাধ্যম প্রতিবেদন প্রকাশ করে। পরে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমেও বিষয়টি স্থান পায়। ভিয়েতনামভিত্তিক সংবাদমাধ্যম ভিএনএক্সপ্রেস ৭ সেপ্টেম্বর প্রকাশিত প্রতিবেদনে ঝেংয়ের বয়স, মেয়ের বিয়ের ভিডিও এবং তাঁর জীবনযাপনের অভ্যাস তুলে ধরে।
চীনের গুয়াংডং প্রদেশের এই বাবার গল্প শেষ পর্যন্ত একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানের ভিডিও থেকেই আন্তর্জাতিক আলোচনায় উঠে এসেছে। মেয়ের বিয়েতে উপস্থিত হওয়া একজন বাবাকে প্রথম দেখায় অনেকে ভাই ভেবে ভুল করেছেন, আর সেই ঘটনাই তাঁকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পরিচিত করে তুলেছে।
৪১ বছর বয়সী ঝেং অবশ্য নিজের তারুণ্য ধরে রাখার পেছনে কোনো বিশেষ কৌশলের কথা বলেননি। শান্ত থাকা, পর্যাপ্ত ঘুম এবং নিয়মিত ব্যাডমিন্টন খেলাকেই তিনি নিজের দৈনন্দিন অভ্যাস হিসেবে তুলে ধরেছেন। তাঁর অভিজ্ঞতা নিয়ে মানুষের কৌতূহল থাকলেও বয়সের তুলনায় তরুণ দেখানোর পেছনে ঠিক কোন বিষয়টি কতটা ভূমিকা রেখেছে, তা নিশ্চিতভাবে বলা যায় না।