Logo
Logo
×

বিজ্ঞাপন

আন্তর্জাতিক

ইউরোপীয় পার্লামেন্টে ট্রাম্পের নগ্ন সোনালি ভাস্কর্য, নাম ‘অরেঞ্জ প্লেগ’

Icon

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

প্রকাশ: ০৮ অক্টোবর ২০২৬, ১২:৪৭ পিএম

ইউরোপীয় পার্লামেন্টে ট্রাম্পের নগ্ন সোনালি ভাস্কর্য, নাম ‘অরেঞ্জ প্লেগ’

বিজ্ঞাপন

স্ট্রাসবুর্গে ইউরোপীয় পার্লামেন্ট ভবনে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে নিয়ে তৈরি একটি ব্যঙ্গাত্মক সোনালি মূর্তি প্রদর্শন করা হয়েছে। ডেনমার্কের শিল্পী ইয়েন্স গালশিওটের তৈরি ‘দ্য অরেঞ্জ প্লেগ’ নামের ভাস্কর্যটিতে ট্রাম্পকে পোশাকহীন অবস্থায় ছোট আকৃতির এক ব্যক্তির কাঁধে বসে থাকতে দেখা যায়। ২ দশমিক ৬ মিটার উচ্চতার মূর্তিটি ২৩ ক্যারেট সোনার পাত দিয়ে মোড়ানো।

মূর্তিটি ৭ অক্টোবর আনুষ্ঠানিকভাবে উন্মোচন করা হয়। এর আগে সোমবার সকাল থেকে এটি কমলা রঙের কাপড় দিয়ে ঢাকা ছিল। পরে মঙ্গলবার পার্লামেন্ট ভবনের ব্যস্ততম অংশগুলোর একটিতে সেটি উন্মোচন করা হয়। তবে এটি ইউরোপীয় পার্লামেন্টের কোনো আনুষ্ঠানিক উদ্যোগ নয়। ডেনমার্কের বামপন্থী ইউরোপীয় পার্লামেন্ট সদস্য পার ক্লাউসেনের আমন্ত্রণে শিল্পী গালশিওটের এই প্রদর্শনীর আয়োজন করা হয়েছে।

ভাস্কর্যটিতে ট্রাম্পের এক হাতে একটি গলফ ক্লাব এবং অন্য হাতে ন্যায়ের দাঁড়িপাল্লার প্রতীক রয়েছে। নিচে থাকা ছোট আকৃতির ব্যক্তিটি ব্রোঞ্জের তৈরি এবং তার পায়ের কাছে একটি ছোট পৃথিবীর গোলকের আকৃতির বস্তু রাখা হয়েছে। মূর্তিটির বেদিতে লেখা রয়েছে, একজন মানুষের পিঠে বসে থাকার কারণে সেই ব্যক্তি তার ভারে ডুবে যাচ্ছে এবং তাকে সাহায্য করার জন্য সবকিছু করা হবে, শুধু তার পিঠ থেকে নেমে আসা হবে না। ভাস্কর্যটির আরেক নাম ‘কিং অব ইনজাস্টিস’ বা ‘অন্যায়ের রাজা’।

শিল্পী ইয়েন্স গালশিওট বলেছেন, এই কাজের মাধ্যমে তিনি ক্ষমতাধর দেশ ও নেতাদের দ্বারা বিশ্বের অন্যদের ওপর প্রভাব বিস্তারের বিষয়টি তুলে ধরতে চেয়েছেন। তার ভাষ্য অনুযায়ী, ট্রাম্পকে তিনি জলবায়ু সংকট মোকাবিলা এবং নিয়মভিত্তিক বৈশ্বিক ব্যবস্থা রক্ষার ক্ষেত্রে বড় একটি চ্যালেঞ্জের প্রতীক হিসেবে দেখেছেন। তিনি আরও বলেছেন, রাজনৈতিক ভাষায় যেসব বিষয় অনেক সময় স্পষ্টভাবে বলা যায় না, ব্যঙ্গশিল্পের মাধ্যমে সেগুলো তুলে ধরা সম্ভব।

গালশিওটের মতে, ভাস্কর্যটি হ্যান্স ক্রিশ্চিয়ান অ্যান্ডারসনের বিখ্যাত রূপকথা ‘দ্য এমপেররস নিউ ক্লোদস’ বা ‘সম্রাটের নতুন পোশাক’ থেকেও অনুপ্রাণিত। সেই গল্পে একজন সম্রাট এমন পোশাক পরেছেন বলে বিশ্বাস করেন, যা আসলে নেই। শিল্পীর বক্তব্য অনুযায়ী, ট্রাম্পকে সোনায় মোড়ানো ও পোশাকহীন অবস্থায় দেখানোর মধ্যেও একই ধরনের রাজনৈতিক ব্যঙ্গ রয়েছে।

প্রদর্শনীর আয়োজক ডেনিশ এমইপি পার ক্লাউসেন ট্রাম্পকে নিয়ে এমন ব্যঙ্গাত্মক শিল্প প্রদর্শনের সমালোচনার বিষয়টিও উল্লেখ করেছেন। তার বক্তব্য, ট্রাম্পকে বিরক্ত করার আশঙ্কায় ইউরোপের মানুষের নিজেদের মতপ্রকাশে ভয় পাওয়া উচিত নয়। তিনি মনে করেন, ইউরোপীয় পার্লামেন্টের মতো জায়গায় এমন শিল্প প্রদর্শন রাজনৈতিক নীতি, আন্তর্জাতিক সম্পর্ক ও ক্ষমতার ব্যবহার নিয়ে আলোচনার সুযোগ তৈরি করে।

‘দ্য অরেঞ্জ প্লেগ’ এর আগেও বিভিন্ন আন্তর্জাতিক অনুষ্ঠানে প্রদর্শিত হয়েছে। ২০২৫ সালে ব্রাজিলের বেলেমে অনুষ্ঠিত জাতিসংঘের জলবায়ু সম্মেলন কপ৩০-এ এটি প্রদর্শন করা হয়। ২০২৬ সালে জার্মানির মিউনিখ নিরাপত্তা সম্মেলন এবং ডেনমার্কে গ্রিনল্যান্ড নিয়ে আয়োজিত বিভিন্ন প্রতিবাদ কর্মসূচিতেও ভাস্কর্যটি দেখা যায়। স্ট্রাসবুর্গের প্রদর্শনী শেষ হওয়ার পর এটি আগামী মাসে তুরস্কের আনতালিয়ায় অনুষ্ঠেয় জাতিসংঘের জলবায়ু সম্মেলন কপ৩১-এ নেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।

ইউরোপে ট্রাম্পের ভাবমূর্তি নিয়েও সাম্প্রতিক জরিপগুলোতে নেতিবাচক প্রবণতা দেখা গেছে। পিউ রিসার্চ সেন্টারের ২০২৬ সালের জরিপে ইউরোপের ১০টি দেশের বেশির ভাগ মানুষ আন্তর্জাতিক বিষয়ে ট্রাম্পের সিদ্ধান্তের ওপর আস্থা রাখেন না বলে জানিয়েছে। গ্রিনল্যান্ড ও শুল্কনীতি নিয়ে তার অবস্থানের ক্ষেত্রে এসব দেশে গড়ে ৮৫ শতাংশ মানুষ অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন। জরিপটি ৩৬টি দেশের ৪২ হাজার ১৫১ জনের ওপর ৮ ফেব্রুয়ারি থেকে ১৩ মে পর্যন্ত পরিচালিত হয়েছিল।

ইউগভের সেপ্টেম্বরের ইউরোপীয় ট্র্যাকার জরিপেও ট্রাম্পের প্রতি পশ্চিম ইউরোপে কম সমর্থনের চিত্র পাওয়া গেছে। ফ্রান্সে ১২ শতাংশ এবং জার্মানিতে ৯ শতাংশ প্রাপ্তবয়স্ক তার প্রতি ইতিবাচক মত দিয়েছেন। যুক্তরাজ্যে এই হার ১০ শতাংশ। ডেনমার্কে ট্রাম্পের প্রতি ইতিবাচক মত ছিল আরও কম।

ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদে যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপের সম্পর্কের টানাপোড়েনের অন্যতম বিষয় হয়ে উঠেছে গ্রিনল্যান্ড। এর পাশাপাশি ন্যাটো, ইউরোপীয় দেশগুলোর প্রতিরক্ষা ব্যয়, বাণিজ্য শুল্ক এবং জলবায়ুনীতি নিয়েও দুই পক্ষের মধ্যে মতপার্থক্য রয়েছে। এসব বিষয়কে সামনে রেখেই গালশিওটের ভাস্কর্যটি রাজনৈতিক ব্যঙ্গ ও প্রতিবাদের একটি প্রতীক হিসেবে প্রদর্শিত হচ্ছে।

ইউরোপীয় পার্লামেন্টে ভাস্কর্যটি ৮ অক্টোবর পর্যন্ত প্রদর্শিত হওয়ার কথা রয়েছে। এরপর এর পরবর্তী গন্তব্য তুরস্কের আনতালিয়ায় কপ৩১ জলবায়ু সম্মেলন।

সূত্র: নিউজউইক

Logo

সম্পাদক ও প্রকাশক: মহিউদ্দিন সরকার