Logo
Logo
×

বিজ্ঞাপন

আন্তর্জাতিক

ভারতে পাকিস্তানি গুপ্তচরচক্রের সন্ধান, নৌবাহিনীর ১৩ সদস্যের উপর কড়া নজরদারি

Icon

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

প্রকাশ: ০৮ অক্টোবর ২০২৬, ০৫:২৩ এএম

ভারতে পাকিস্তানি গুপ্তচরচক্রের সন্ধান, নৌবাহিনীর ১৩ সদস্যের উপর কড়া নজরদারি

বিজ্ঞাপন

ভারতের অন্ধ্রপ্রদেশ গোয়েন্দা বিভাগের কাউন্টার ইন্টেলিজেন্স সেল (সিআইসি) একটি গুপ্তচরচক্রের সন্ধান পেয়েছে। এই চক্রে ১৩ জন নৌবাহিনীর সদস্যসহ মোট ১৮ জন পাকিস্তানি গোয়েন্দা অপারেটিভদের কাছে স্পর্শকাতর তথ্য পাচার করেছেন বলে সন্দেহ করা হচ্ছে। ইতোমধ্যে দুইজনকে গ্রেপ্তার করেছে দেশটির সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।

ভারতীয় শীর্ষ সংবাদমাধ্যম দ্য হিন্দুর প্রতিবেদনে বলা হয়, গোয়েন্দা কর্মকর্তারা মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) এক বিবৃতিতে জানান, সন্দেহভাজনরা বিশাখাপত্তনম নৌঘাঁটি এবং দেশের অন্যান্য স্থানে থাকা প্রতিরক্ষা স্থাপনা ও কৌশলগত গুরুত্বপূর্ণ স্থান সম্পর্কিত তথ্য পাকিস্তানি গোয়েন্দা অপারেটিভদের (পিআইও) কাছে পাঠাচ্ছিলেন বলে অভিযোগ রয়েছে।

গোপন তথ্য পাওয়ার পর বিজয়ওয়াড়ার কাউন্টার ইন্টেলিজেন্স পুলিশ ভারতীয় ন্যায় সংহিতার (বিএনএস) ৬১(২) ধারা (অপরাধমূলক ষড়যন্ত্র), বেআইনি কার্যকলাপ (প্রতিরোধ) আইন, ১৯৬৭-এর ১৭ ও ১৮ ধারা, অফিসিয়াল সিক্রেটস অ্যাক্ট, ১৯২৩-এর ৩ ধারা এবং বিএনএসের অন্যান্য ধারায় মামলা করে।

‘অপারেশন ফায়ারওয়াল-২০২৬’-এর আওতায় ১২টি সিআইসি দল মোতায়েন করা হয় অন্ধ্রপ্রদেশ, কেরালা, মহারাষ্ট্র, কর্ণাটক, গোয়া, দিল্লি, গুজরাট, তামিলনাড়ু, বিহার ও ছত্তিশগড়ে।

দলগুলো নৌবাহিনীর কর্মকর্তাদের পাশাপাশি অ্যান্টি-টেরোরিস্ট স্কোয়াড ও স্থানীয় পুলিশের সঙ্গে সমন্বয় করে ১৮ সন্দেহভাজনের বাসস্থানে তল্লাশি চালায়। তাদের সংশ্লিষ্টতা যাচাইয়ের পাশাপাশি ইলেকট্রনিক সরঞ্জামও জব্দ করা হয়।

গ্রেপ্তার হওয়া ব্যক্তিদের একজন আন্নাম সাই ভারা প্রসাদ। তিনি নৌবাহিনীর কর্মকর্তাদের জন্য চুক্তিভিত্তিক বেসামরিক গাড়িচালক হিসেবে কাজ করতেন। বিশাখাপত্তনম থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।

অভিযোগ রয়েছে, তিনি নৌবাহিনীর বিভিন্ন স্থাপনা সম্পর্কিত গোপন তথ্য পাকিস্তানভিত্তিক এক গোয়েন্দা অপারেটিভের কাছে পাঠিয়েছেন এবং এর বিনিময়ে অর্থ গ্রহণ করেছেন। তাকে আদালতে হাজির করার পর ১৪ অক্টোবর পর্যন্ত বিচার বিভাগীয় হেফাজতে বিশাখাপত্তনম কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

দ্বিতীয় অভিযুক্ত প্রদীপ মুখার্জি বিশাখাপত্তনম নৌঘাঁটিতে কর্মরত নৌবাহিনীর একজন কর্মী। তামিলনাড়ুর কোয়েম্বাটুর থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। অভিযোগ রয়েছে, তিনি পাকিস্তানি গোয়েন্দা অপারেটিভের মাধ্যমে একটি হোয়াটসঅ্যাপ অ্যাকাউন্ট সক্রিয় করার জন্য ওটিপি শেয়ার করেন এবং প্রতিরক্ষা স্থাপনা সম্পর্কিত স্পর্শকাতর তথ্য পাচার করেন।

তাকে বিজয়ওয়াড়ার আদালতে হাজির করা হয়। আদালত তাকে ১৪ অক্টোবর পর্যন্ত বিচার বিভাগীয় হেফাজতে বিজয়ওয়াড়া কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

৩১ বছর বয়সী মুখার্জি ২০১৪ সালে নৌবাহিনীতে যোগ দেন এবং বিশাখাপত্তনমে ইস্টার্ন নেভাল কমান্ডে দায়িত্ব পালন করছিলেন। সন্দেহজনক ডিজিটাল কার্যকলাপ শনাক্ত করার পর সিআইসি তাকে নজরদারিতে রাখে। পরে কোয়েম্বাটোরে প্রশিক্ষণ কর্মসূচিতে থাকার সময় ৩ অক্টোবর তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।

অভিযোগ রয়েছে, কয়েক মাস আগে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পরিচয় হওয়া এক পাকিস্তানি নারী গোয়েন্দা অপারেটিভের সঙ্গে তিনি যোগাযোগ রাখছিলেন।

কাউন্টার ইন্টেলিজেন্স কর্মকর্তারা এখন খতিয়ে দেখছেন, অভিযুক্তরা কতদিন ধরে পাকিস্তানভিত্তিক অপারেটিভদের কাছে গোপন তথ্য পাচার করছিলেন, কী ধরনের তথ্য ও ছবি পাঠানো হয়েছে, এর বিনিময়ে কত অর্থ নেয়া হয়েছে এবং এই চক্রে আরও কেউ জড়িত ছিল কি না। গোয়েন্দা কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, গুপ্তচরচক্রটি নিয়ে বিস্তারিত তদন্ত চলছে।

Logo

সম্পাদক ও প্রকাশক: মহিউদ্দিন সরকার