বিজ্ঞাপন
গ্রিন কার্ড পাওয়া কঠিন করায় ট্রাম্প প্রশাসনের বিরুদ্ধে একজোট বিশ্ববিদ্যালয় ও শ্রমিক সংগঠন
যুক্তরাষ্ট্র প্রতিনিধি
প্রকাশ: ০৮ অক্টোবর ২০২৬, ০৪:০১ এএম
বিজ্ঞাপন
যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসরত অভিবাসীদের স্থায়ী বসবাসের সুবিধা বা গ্রিন কার্ড পাওয়ার নিয়মে অযৌক্তিক কড়াকড়ি আরোপ করায় ট্রাম্প প্রশাসনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেছে বিভিন্ন শ্রমিক ইউনিয়ন, বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক সমিতি ও অভিবাসী অধিকার বিষয়ক সংগঠনগুলো।
গত ৫ অক্টোবর ম্যাসাচুসেটসের ফেডারেল ডিস্ট্রিক্ট আদালতে ইউএস সিটিজেনশিপ অ্যান্ড ইমিগ্রেশন সার্ভিসেস (ইউএসসিআইএস)-এর জারিকৃত দুটি বিতর্কিত নীতিকে চ্যালেঞ্জ করে এই মামলাটি করা হয়। বাদীদের দাবি, মে ও আগস্ট মাসে ঘোষিত এই নীতিগুলোর কারণে বহু যোগ্য অভিবাসী দেশ না ছেড়ে বৈধ উপায়ে স্থায়ী বাসিন্দা হওয়ার সুযোগ থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন।
মামলার বিবরণ অনুযায়ী, ইউএসসিআইএস-এর নতুন নিয়মে ‘অ্যাডজাস্টমেন্ট অব স্ট্যাটাস’ বা দেশে অবস্থান করে গ্রিন কার্ড পাওয়ার দীর্ঘদিনের প্রতিষ্ঠিত প্রক্রিয়াকে ইচ্ছাকৃতভাবে সীমিত করা হয়েছে। মে মাসের নির্দেশনায় অভিবাসন কর্মকর্তাদের বলা হয়েছে, কোনো আবেদনকারী নিজ দেশে অবস্থিত মার্কিন কনস্যুলেটে না গিয়ে কেন যুক্তরাষ্ট্র থেকে আবেদন করেছেন, সেটিকে নেতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গিতে বিবেচনা করতে।
অন্যদিকে, আগস্ট মাসের নীতিমালায় কর্মকর্তাদের এমন এখতিয়ার দেওয়া হয়েছে যাতে তারা কোনো অতিরিক্ত তথ্য-প্রমাণ চাওয়ার সুযোগ না দিয়েই সরাসরি আবেদন খারিজ করে দিতে পারেন। এমনকি অতীতে যারা আবেদন জমা দিয়ে ফলাফলের অপেক্ষায় আছেন, তাদের ক্ষেত্রেও এই কঠোর শর্তগুলো ভূতাপেক্ষভাবে প্রয়োগ করা হচ্ছে।
মামলা দায়েরকারী আমেরিকান অ্যাসোসিয়েশন অব ইউনিভার্সিটি প্রফেসরস (এএইউপি), হার্ভার্ড ও বোস্টন বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন শাখা এবং সার্ভিস এমপ্লয়িজ ইন্টারন্যাশনাল ইউনিয়ন (এসইআইইউ)-এর মতো সংগঠনগুলো আদালতকে জানিয়েছে, নতুন এই নিয়মের ফলে পরিবার বিচ্ছিন্নতা, কর্মসংস্থানে বাধা এবং আন্তর্জাতিক মেধার অপচয়ের মতো মারাত্মক ঝুঁকি তৈরি হয়েছে।
ইউএস ডিপার্টমেন্ট অব হোমল্যান্ড সিকিউরিটির তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ অর্থবছরে গ্রিন কার্ড পাওয়া মোট ১৩ লাখ ৬০ হাজার মানুষের মধ্যে প্রায় ৫৭ শতাংশই এই অ্যাডজাস্টমেন্ট প্রক্রিয়ায় আবেদন করেছিলেন। ডেমোক্রেসি ফরোয়ার্ডের প্রধান নির্বাহী স্কাই পেরিমান জানান, আইনসম্মতভাবে বছরের পর বছর যুক্তরাষ্ট্রে বসবাস ও কাজ করা মানুষদের জন্য এটি চরম অবিচার।
অন্যদিকে, প্রশাসনের পক্ষ থেকে মামলাটিকে ভিত্তিহীন হিসেবে আখ্যা দেওয়া হয়েছে। ইউএসসিআইএস-এর মুখপাত্র জ্যাক কেলার এক বিবৃতিতে বলেন, কংগ্রেসের মূল উদ্দেশ্য বাস্তবায়নে এবং দেশের অভিবাসন আইন যথাযথভাবে প্রয়োগ করতে প্রশাসন বদ্ধপরিকর। বাদীরা আদালতকে এই নতুন বিধিনিষেধগুলো অবিলম্বে সাময়িকভাবে স্থগিত এবং পরবর্তীতে স্থায়ীভাবে বাতিল করার আবেদন জানিয়েছেন। আদালত অবশ্য এখনো এই মামলার বিষয়ে চূড়ান্ত কোনো রুল জারি করেনি।