বিজ্ঞাপন
যুক্তরাষ্ট্রে এইচ-১বি ভিসা জালিয়াতিতে আড়াই লাখ ডলার জরিমানা, ১০ বছরের নিষেধাজ্ঞার প্রস্তাব
যুক্তরাষ্ট্র প্রতিনিধি
প্রকাশ: ০৮ অক্টোবর ২০২৬, ০৩:৫৯ এএম
বিজ্ঞাপন
যুক্তরাষ্ট্রে এইচ-১বি (H-1B) ভিসা প্রোগ্রামের নিয়ম ভঙ্গকারী কোম্পানিগুলোর বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিতে কংগ্রেসে একটি নতুন বিল উত্থাপন করা হয়েছে। 'এইচ-১বি ভিসা ফ্রড ক্র্যাকডাউন অ্যাক্ট' নামের এই বিলটি আইনে পরিণত হলে আইন লঙ্ঘনকারী প্রতিষ্ঠানগুলোকে আড়াই লাখ ডলার পর্যন্ত জরিমানা গুনতে হতে পারে।
একই সঙ্গে এসব প্রতিষ্ঠানকে কেন্দ্রীয় অভিবাসন প্রোগ্রামগুলো থেকে সর্বোচ্চ ১০ বছরের জন্য নিষিদ্ধ করার প্রস্তাবও দেওয়া হয়েছে এই বিলে। গত ১ অক্টোবর টেক্সাসের রিপাবলিকান প্রতিনিধি বেথ ভ্যান ডুইন বিলটি কংগ্রেসে উত্থাপন করেন।
নতুন এই বিলের অন্যতম বড় পরিবর্তনটি আনা হয়েছে মূলত সেসব কোম্পানির বিরুদ্ধে, যারা এইচ-১বি প্রোগ্রামের মাধ্যমে ইচ্ছাকৃতভাবে মার্কিন কর্মীদের সরিয়ে বিদেশি কর্মী নিয়োগের চেষ্টা করে থাকে। এ ধরনের গুরুতর অপরাধ প্রমাণিত হলে বর্তমান ৩৫ হাজার ডলারের জরিমানার পরিমাণ বাড়িয়ে সর্বোচ্চ আড়াই লাখ ডলার করার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে।
মার্কিন কর্মীদের স্বার্থে আনা এই পরিবর্তনটিকে জরিমানার ক্ষেত্রে একটি বড় উল্লম্ফন হিসেবে দেখা হচ্ছে। এছাড়া অভিবাসন কার্যক্রমে অংশ নেওয়ার ওপর নিষেধাজ্ঞার মেয়াদও ৩ বছর থেকে বাড়িয়ে ১০ বছর করার কথা বলা হয়েছে। অন্যদিকে, ইচ্ছাকৃতভাবে এইচ-১বি-এর অন্যান্য নিয়ম ভাঙার ক্ষেত্রে জরিমানার সর্বোচ্চ সীমা ৫ হাজার ডলার থেকে বাড়িয়ে ১ লাখ ডলার করার প্রস্তাব রাখা হয়েছে। এসব ক্ষেত্রে নিষেধাজ্ঞার ন্যূনতম মেয়াদ ২ বছর থেকে বাড়িয়ে ৫ বছর করা হবে।
জরিমানার পাশাপাশি নথিপত্র বা ডকুমেন্ট-সংক্রান্ত জালিয়াতির শাস্তিও বহুগুণ বাড়ানোর কথা বলা হয়েছে এই বিলে। বর্তমানে এ ধরনের অপরাধের জরিমানা ২৫০ থেকে ২ হাজার ডলারের মধ্যে থাকলেও, নতুন বিলে তা বাড়িয়ে ১ হাজার থেকে ১০ হাজার ডলার করার প্রস্তাব করা হয়েছে। অন্য একটি ক্যাটাগরিতে এই জরিমানা ২ হাজার থেকে ৫ হাজার ডলারের পরিবর্তে ২০ হাজার থেকে ৫০ হাজার ডলার পর্যন্ত হতে পারে।
এই বিলের উদ্যোক্তা বেথ ভ্যান ডুইন জানিয়েছেন, বর্তমান শাস্তির বিধানগুলো এইচ-১বি প্রোগ্রামের অপব্যবহার রোধে মোটেও যথেষ্ট নয়। তার মতে, যেসব কোম্পানি ইচ্ছাকৃতভাবে এই নিয়মের অপব্যবহার করে সস্তায় শ্রম কিনছে এবং মার্কিন অর্থনীতি ও কর্মীদের ক্ষতিগ্রস্ত করছে, তাদের বড় ধরনের আর্থিক শাস্তির সম্মুখীন হওয়া উচিত।
এই বিলে টেক্সাসের আরও পাঁচজন রিপাবলিকান আইনপ্রণেতা সহ-পৃষ্ঠপোষকতা করেছেন। তবে বিলটি এখনও প্রাথমিক পর্যায়ে রয়েছে এবং বর্তমানে এটি হাউজ জুডিশিয়ারি কমিটিতে পর্যালোচনার জন্য পাঠানো হয়েছে। এটি চূড়ান্তভাবে আইনে পরিণত হতে হলে মার্কিন কংগ্রেসের নিম্নকক্ষ ও সিনেটে পাস হওয়ার পর তাতে প্রেসিডেন্টের স্বাক্ষর প্রয়োজন হবে।
উল্লেখ্য, হাজার হাজার ভারতীয় কর্মীসহ বিদেশি পেশাজীবীরা যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন কোম্পানিতে বিশেষায়িত পদে কাজের জন্য ব্যাপকভাবে এই এইচ-১বি ভিসা ব্যবহার করে থাকেন। তবে নতুন বিলটিতে মূল শাস্তি প্রস্তাব করা হয়েছে কেবল নিয়ম ভঙ্গকারী নিয়োগদাতাদের জন্যই।