বিজ্ঞাপন
রাশিয়ায় ‘প্লেগে দ্বিতীয় মৃত্যুর’ দাবি, বিশ্বজুড়ে ছড়িয়ে পড়ার শঙ্কা
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ: ০৬ অক্টোবর ২০২৬, ০৮:২৭ পিএম
বিজ্ঞাপন
রাশিয়ার সাইবেরিয়ার ইরকুতস্ক অঞ্চলে সম্ভাব্য প্লেগ সংক্রমণ নিয়ে উদ্বেগের মধ্যে এবার দ্বিতীয় একজনের মৃত্যুর দাবি সামনে এসেছে। স্থানীয় গণমাধ্যমের বরাত দিয়ে ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম ইউনিল্যাড জানিয়েছে, ইরকুতস্ক ডিস্ট্রিক্ট হাসপাতালে এক ব্যক্তি মারা গেছেন এবং তার মৃত্যুর কারণ প্লেগ হতে পারে বলে দাবি করা হচ্ছে। তবে মঙ্গলবার পর্যন্ত রুশ স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষ কিংবা বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা এই দ্বিতীয় মৃত্যুকে প্লেগজনিত মৃত্যু হিসেবে নিশ্চিত করেনি। বরং রাশিয়া বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থাকে জানিয়েছে, ইরকুতস্কে কোনো নিশ্চিত প্লেগ রোগী শনাক্ত হয়নি।
ঘটনাটি নিয়ে আন্তর্জাতিক উদ্বেগ শুরু হয় ইরকুতস্ক অ্যান্টি-প্লেগ রিসার্চ ইনস্টিটিউটের ২৮ বছর বয়সী কর্মী দারিয়া শিপিলোভার মৃত্যুর পর। বিভিন্ন স্থানীয় প্রতিবেদনে দাবি করা হয়, তিনি গবেষণাগারে কাজ করার সময় প্লেগের জীবাণু ইয়েরসিনিয়া পেস্টিসের সংস্পর্শে এসে থাকতে পারেন। তবে এই দাবিও আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করা হয়নি।
রুশ কর্তৃপক্ষের বক্তব্য অনুযায়ী, শিপিলোভা অজানা উৎসের নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত হয়ে মারা যান। রাশিয়ার জনস্বাস্থ্য পর্যবেক্ষণ সংস্থা রসপোত্রেবনাদজর জানিয়েছে, তার সংস্পর্শে আসা ব্যক্তিদের মধ্যে বিপজ্জনক সংক্রামক রোগের জীবাণু পাওয়া যায়নি এবং অঞ্চলের পরিস্থিতি স্থিতিশীল রয়েছে।
মঙ্গলবার বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থাও জানায়, রাশিয়া তাদের কাছে ইরকুতস্কে কোনো নিশ্চিত প্লেগ সংক্রমণ নেই বলে জানিয়েছে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মুখপাত্র ক্রিশ্চিয়ান লিন্ডমায়ার বলেন, মৃত কর্মীর সংস্পর্শে আসা ব্যক্তিদের পরীক্ষা করা হয়েছে এবং তাদের নমুনায় বিপজ্জনক সংক্রামক জীবাণু শনাক্ত হয়নি। সাধারণ মানুষের জন্য ঝুঁকি কম বলেও জানিয়েছে সংস্থাটি।
তবে শিপিলোভার নিজের নমুনায় প্লেগের জীবাণু পাওয়া গিয়েছিল কি না কিংবা তার ক্ষেত্রে প্লেগকে চূড়ান্তভাবে বাদ দেওয়া হয়েছে কি না, সে বিষয়ে এখনো পুরোপুরি পরিষ্কার তথ্য প্রকাশ করা হয়নি। এই অনিশ্চয়তার মধ্যেই স্থানীয় গণমাধ্যমে দ্বিতীয় মৃত্যুর দাবি ছড়িয়ে পড়ে। ইউনিল্যাড জানিয়েছে, কয়েকটি রুশ সংবাদমাধ্যমে এ নিয়ে প্রকাশিত খবর পরে আর দেখা যায়নি। তবে ওই প্রতিবেদন সরিয়ে নেওয়ার কারণ স্বাধীনভাবে নিশ্চিত করা যায়নি।
শিপিলোভার মৃত্যুর পর সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবে ইরকুতস্কের কয়েকটি হাসপাতালের কার্যক্রমে বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়। বিভিন্ন প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, প্রায় ২০০ জনকে চিকিৎসা পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে। ইরকুতস্ক অ্যান্টি-প্লেগ ইনস্টিটিউটের ৬০ জনের বেশি কর্মীকেও কিছু সময়ের জন্য আলাদা করে রাখা হয়।
ইরকুতস্কের কয়েকটি হাসপাতাল এবং মাতৃসেবা প্রতিষ্ঠানেও বাড়তি স্বাস্থ্য পরীক্ষা চালু হয়েছে। দ্য মস্কো টাইমস জানিয়েছে, একটি মাতৃসেবা কেন্দ্রে রোগীদের সম্ভাব্য প্লেগ সংস্পর্শ নিয়ে প্রশ্নপত্র পূরণ করতে দেওয়া হচ্ছে এবং দর্শনার্থীদের প্রবেশেও বিধিনিষেধ দেওয়া হয়েছে। তবে এসব পদক্ষেপকে কর্তৃপক্ষ সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবে বর্ণনা করেছে।
রসপোত্রেবনাদজর মঙ্গলবার ইরকুতস্ক অঞ্চলে কঠোর স্যানিটারি বিধিনিষেধ জারির খবরও অস্বীকার করেছে। সংস্থাটি জানিয়েছে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া কয়েকটি দাবি সত্য নয় এবং অঞ্চলের মহামারি পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।
ঘটনার পর প্রতিবেশী কয়েকটি দেশও বাড়তি সতর্কতা নিয়েছে। কিরগিজস্তানের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় সীমান্তের স্যানিটারি ও কোয়ারেন্টাইন পয়েন্টগুলোতে নজরদারি বাড়িয়েছে। দেশটির কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, মানুষের পাশাপাশি যানবাহন ও পণ্য পরিবহনেও স্বাস্থ্য পর্যবেক্ষণ জোরদার করা হয়েছে। কাজাখস্তানও রাশিয়ার ইরকুতস্ক অঞ্চলের পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে।
প্লেগ ইয়েরসিনিয়া পেস্টিস নামের ব্যাকটেরিয়ার কারণে হয়ে থাকে। এর নিউমোনিক ধরন ফুসফুসে সংক্রমণ ঘটায় এবং দ্রুত চিকিৎসা না হলে গুরুতর হতে পারে। তবে আধুনিক অ্যান্টিবায়োটিকের মাধ্যমে দ্রুত শনাক্ত হলে রোগটির চিকিৎসা সম্ভব। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মতে, নিউমোনিক প্লেগ সাধারণত আক্রান্ত ব্যক্তির সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সংস্পর্শ এবং সংক্রমিত শ্বাসতন্ত্রের ড্রপলেটের মাধ্যমে ছড়াতে পারে।
বর্তমান তথ্য অনুযায়ী, ইরকুতস্কে প্লেগের প্রাদুর্ভাব বা দ্বিতীয় প্লেগজনিত মৃত্যুর কোনো আনুষ্ঠানিক নিশ্চিতকরণ নেই। ফলে দ্বিতীয় মৃত্যুর দাবিকে নিশ্চিত তথ্য হিসেবে নয়, স্থানীয় গণমাধ্যমে প্রকাশিত একটি অযাচাইকৃত দাবি হিসেবেই বিবেচনা করা হচ্ছে। রুশ কর্তৃপক্ষ ও বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা উভয়ই এখন পর্যন্ত জানিয়েছে, নিশ্চিত সংক্রমণের প্রমাণ পাওয়া যায়নি এবং সাধারণ মানুষের জন্য ঝুঁকি কম।