বিজ্ঞাপন
ফ্লাইদুবাইয়ের কো-পাইলটের টার্গেট কী ছিল, নতুন দাবি সামনে আনল ইসরাইল
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ: ০৬ অক্টোবর ২০২৬, ১০:২৩ এএম
বিজ্ঞাপন
দুবাই থেকে তেল আবিবগামী ফ্লাই দুবাইয়ের উড়োজাহাজ ছিনতাইয়ের চেষ্টার পেছনে ইসরাইলের প্রধান আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর বেন গুরিয়নে বিধ্বস্তের পরিকল্পনা ছিল। ইসরাইলের এক কর্মকর্তা ও বিষয়টি সম্পর্কে অবগত একটি সূত্র এ তথ্য জানিয়েছে।
সিএনএনের প্রতিবেদনে বলা হয়, গত ৩০ সেপ্টেম্বর ফ্লাইদুবাইয়ের এফজেড১০৭৩ ফ্লাইটে ছিনতাইয়ের চেষ্টা চালান সহকারী পাইলট হামাম আল-হামামি। সৌদি আরবের আকাশসীমায় থাকা অবস্থায় তিনি ককপিটে ক্যাপ্টেন স্মিথ মাচ্ছারকে কুড়াল দিয়ে আক্রমণ করে উড়োজাহাজটির নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার চেষ্টা করেন। পরে ক্যাপ্টেন ও কয়েকজন যাত্রী তাকে কাবু করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন। ঘটনার পর ফ্লাইটটি সৌদি আরবে জরুরি অবতরণ করে। পরে যাত্রীদের বহনকারী উড়োজাহাজটি ইসরাইলের বেন গুরিয়ন বিমানবন্দরে পৌঁছায়।
ইসরাইলের চ্যানেল-১২ নিউজ জানায়, হামামির সম্ভাব্য লক্ষ্য ছিল বেন গুরিয়ন বিমানবন্দর।
তবে এই দাবির সঙ্গে কিছু প্রশ্নও রয়েছে। হামামি যদি বেন গুরিয়ন বিমানবন্দরেই হামলা চালানোর পরিকল্পনা করে থাকেন, তাহলে ইসরাইলের আকাশসীমার অনেক আগে সৌদি আরবের আকাশে কেন তিনি ক্যাপ্টেনকে আক্রমণ করলেন, তা স্পষ্ট নয়।
ফ্লাইট থেকে সম্ভাব্য ছিনতাইয়ের সংকেত পাওয়ার পর ইসরাইলও দ্রুত ব্যবস্থা নেয়। দেশটির কর্তৃপক্ষ বেন গুরিয়নের দিকে আসা বাণিজ্যিক উড়োজাহাজটির নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে যুদ্ধবিমান পাঠায়। সম্ভাব্য ছিনতাইয়ের ক্ষেত্রে এটি ইসরাইলের নিয়মিত সতর্কতামূলক পদক্ষেপ।
সিএনএনের অনুসন্ধানে উঠে এসেছে, হামামি সম্ভবত একাই এই হামলার পরিকল্পনা ও বাস্তবায়ন করেছেন। এখন পর্যন্ত কোনো সন্ত্রাসী সংগঠনের সঙ্গে তার যোগাযোগ বা কোনো সংগঠনের কাছ থেকে প্রশিক্ষণ, অর্থায়ন কিংবা নির্দেশনা পাওয়ার তথ্য ইসরাইলের হাতে নেই।
সংযুক্ত আরব আমিরাতের অ্যাটর্নি জেনারেল হামাদ সাইফ আল শামসি ঘটনাটিকে ‘সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড’ হিসেবে অভিহিত করেছেন। তার ভাষ্য অনুযায়ী, হামামি একটি ক্র্যাশ অ্যাক্স দিয়ে ক্যাপ্টেনকে আক্রমণ করে উড়োজাহাজটির নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার চেষ্টা করেন।
তদন্তে হামামির অতীত নিয়েও তথ্য সামনে এসেছে। সূত্রের বরাতে জানা যায়, ওমানের জাতীয় বিমান সংস্থায় পাইলট হওয়ার পথে থাকা হামামিকে তার চরমপন্থি মতাদর্শ নিয়ে উদ্বেগের কারণে আগের দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছিল। পরে তাকে ডেস্কের কাজে স্থানান্তর করা হয়।
এদিকে ফ্লাই দুবাই তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত এ বিষয়ে মন্তব্য করতে রাজি হয়নি। ওমান এয়ার, সংযুক্ত আরব আমিরাতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এবং দুবাই সরকারের গণমাধ্যম কার্যালয়ের কাছেও মন্তব্য চাওয়া হয়েছে।
বিমান চলাচল বিশেষজ্ঞরা বলছেন, পাইলটদের নিরাপত্তা যাচাইয়ের দায়িত্ব একক কোনো প্রতিষ্ঠানের নয়। সংশ্লিষ্ট দেশের সরকার, এয়ারলাইনস ও নিরাপত্তা সংস্থাগুলো এ প্রক্রিয়ায় যুক্ত থাকে। তবে দেশভেদে পাইলটদের লাইসেন্স, নিরাপত্তা অনুমোদন ও যাচাইয়ের নিয়মে পার্থক্য রয়েছে।