Logo
Logo
×

বিজ্ঞাপন

আন্তর্জাতিক

ট্রাম্পের ইমিগ্রেশন নীতিসহ বড় কয়েকটি মামলায় সিদ্ধান্ত দেবেন সুপ্রিম কোর্ট

Icon

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

প্রকাশ: ০৬ অক্টোবর ২০২৬, ০৫:০৩ এএম

ট্রাম্পের ইমিগ্রেশন নীতিসহ বড় কয়েকটি মামলায় সিদ্ধান্ত দেবেন সুপ্রিম কোর্ট

বিজ্ঞাপন

ইমিগ্রেশন, অস্ত্রের অধিকার, জলবায়ু পরিবর্তন, ভোটের নিয়ম এবং ধর্মীয় স্বাধীনতাসহ বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ মামলা নিয়ে সোমবার, ৫ অক্টোবর নতুন মেয়াদ শুরু করেছে যুক্তরাষ্ট্রের সুপ্রিম কোর্ট। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসনের ইমিগ্রেশন নীতির সঙ্গে সম্পর্কিত দুটি গুরুত্বপূর্ণ মামলাও এবার সর্বোচ্চ আদালতের সামনে আসছে। এসব মামলার সিদ্ধান্ত যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন অঙ্গরাজ্যের আইন ও ফেডারেল সরকারের নীতিতে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলতে পারে।

নতুন মেয়াদের শুরুতেই জলবায়ু পরিবর্তন নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ একটি মামলা বিবেচনা করছেন বিচারপতিরা। কলোরাডোর বোল্ডার থেকে আসা মামলাটিতে জ্বালানি প্রতিষ্ঠান সানকর ও এক্সনমোবিল জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে সৃষ্ট ক্ষয়ক্ষতির জন্য তাদের দায়ী করে করা মামলা ঠেকানোর চেষ্টা করছে।

বোল্ডারের স্থানীয় কর্তৃপক্ষের বক্তব্য, জলবায়ু পরিবর্তনের সঙ্গে সম্পর্কিত দুর্যোগ ও ক্ষয়ক্ষতি মোকাবিলায় ক্রমবর্ধমান ব্যয়ের একটি অংশ জ্বালানি শিল্পের বহন করা উচিত। এই ধরনের মামলায় কয়েকশ কোটি ডলারের সম্ভাব্য আর্থিক দায় জড়িত থাকতে পারে।

অন্যদিকে জ্বালানি প্রতিষ্ঠানগুলোর বক্তব্য, বৈশ্বিক জলবায়ু পরিবর্তনের মতো বিষয় এ ধরনের মামলার মাধ্যমে মোকাবিলা করা উচিত নয়। ট্রাম্প প্রশাসনও প্রতিষ্ঠানগুলোর অবস্থানকে সমর্থন করছে। প্রশাসনের যুক্তি, এসব মামলার মাধ্যমে নির্গমন নিয়ন্ত্রণে আদালতকে ব্যবহার করে নতুন ধরনের বিধিনিষেধ আরোপের চেষ্টা করা হচ্ছে।

অস্ত্রের অধিকার নিয়েও গুরুত্বপূর্ণ মামলা রয়েছে সুপ্রিম কোর্টের নতুন মেয়াদে। যুক্তরাষ্ট্রের প্রায় এক ডজন অঙ্গরাজ্যে এআর-১৫-এর মতো আধা-স্বয়ংক্রিয় রাইফেলের ওপর নিষেধাজ্ঞা রয়েছে। এসব অস্ত্রকে সাধারণভাবে অ্যাসল্ট ওয়েপন হিসেবেও উল্লেখ করা হয়।

নিষেধাজ্ঞার পক্ষে থাকা অঙ্গরাজ্যগুলোর বক্তব্য, গণগুলির ঘটনায় এ ধরনের অস্ত্রের ব্যবহার নিয়ে উদ্বেগ রয়েছে এবং নিষেধাজ্ঞা অস্ত্র সহিংসতা কমাতে সহায়তা করতে পারে। অন্যদিকে এসব আইনের বিরোধীরা বলছেন, এআর-১৫ ও একই ধরনের অস্ত্র যুক্তরাষ্ট্রে ব্যাপকভাবে মানুষের মালিকানায় রয়েছে এবং এগুলোর ওপর নিষেধাজ্ঞা সংবিধানের দ্বিতীয় সংশোধনীতে থাকা অস্ত্র রাখার অধিকারের পরিপন্থী।

সাম্প্রতিক বছরগুলোতে সুপ্রিম কোর্ট অস্ত্রের অধিকার নিয়ে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত দিয়েছে। আধা-স্বয়ংক্রিয় রাইফেলের ওপর অঙ্গরাজ্যগুলোর নিষেধাজ্ঞা নিয়ে মামলাটি ডিসেম্বরে বিবেচনা করার কথা রয়েছে।

ইমিগ্রেশন নিয়ে দুটি গুরুত্বপূর্ণ মামলা এবার সুপ্রিম কোর্টের সামনে আসছে। এর একটি এমন অভিবাসীদের তৃতীয় দেশে পাঠানোর নীতি নিয়ে, যাঁদের দ্রুত নিজ দেশে ফেরত পাঠানো সম্ভব হচ্ছে না। ট্রাম্প প্রশাসন এমন অভিবাসীদের তাঁদের সঙ্গে কোনো সম্পর্ক নেই এমন তৃতীয় দেশে পাঠিয়েছে।

এই প্রক্রিয়ায় অভিবাসীদের তৃতীয় কোনো দেশে পাঠানোর আগে সেখানে নির্যাতন বা নিপীড়নের ঝুঁকি নিয়ে আপত্তি জানানোর সুযোগ কতটা দিতে হবে, তা নিয়ে আইনি বিরোধ তৈরি হয়েছে। নিম্ন আদালতের নির্দেশের বিরুদ্ধে ট্রাম্প প্রশাসন সুপ্রিম কোর্টে অবস্থান নিয়েছে। মামলার চূড়ান্ত নিষ্পত্তির আগ পর্যন্ত তৃতীয় দেশে পাঠানোর কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার সুযোগ দিয়েছে সর্বোচ্চ আদালত।

ইমিগ্রেশনসংক্রান্ত দ্বিতীয় গুরুত্বপূর্ণ মামলাটি যুক্তরাষ্ট্রে বৈধ কাগজপত্র ছাড়া দীর্ঘদিন ধরে বসবাসরত কিছু অভিবাসীকে বাধ্যতামূলকভাবে আটক রাখার নীতি নিয়ে। ট্রাম্প প্রশাসনের বক্তব্য, সংশ্লিষ্ট আইনের আওতায় এসব ব্যক্তিকে বন্ড শুনানি ছাড়াই আটক রাখা যেতে পারে।

তবে এই প্রশ্ন বিবেচনা করা অধিকাংশ আপিল আদালত প্রশাসনের অবস্থানের সঙ্গে একমত হয়নি। ফলে দীর্ঘদিন ধরে যুক্তরাষ্ট্রে বসবাস করা অনথিভুক্ত অভিবাসীদের বন্ড শুনানি ছাড়া বাধ্যতামূলকভাবে আটক রাখা যাবে কি না, সে বিষয়ে সুপ্রিম কোর্টের সিদ্ধান্ত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।

ভোটার নিবন্ধনের নিয়ম নিয়েও এবারের মেয়াদে গুরুত্বপূর্ণ মামলা রয়েছে। অ্যারিজোনায় ভোটার হিসেবে নিবন্ধনের সময় নাগরিকত্বের নথিপত্র দেখানোর নিয়ম নিয়ে আইনি বিরোধ সুপ্রিম কোর্টের সামনে আসছে।

একটি ব্যবস্থায় অঙ্গরাজ্যের নির্ধারিত ফরম ব্যবহার করে ভোটার হিসেবে নিবন্ধনের সময় নাগরিকত্বের প্রমাণ দেখাতে হয়। আরেকটি ব্যবস্থায় যেসব ব্যক্তির নাগরিকত্ব নিশ্চিত করা যাচ্ছে না, তাঁদের নাম ভোটার তালিকা থেকে বাদ দেওয়ার প্রক্রিয়া রয়েছে। এসব নিয়মের বৈধতা নিয়ে ডিসেম্বরে শুনানি হওয়ার কথা রয়েছে।

ধর্মীয় অধিকারের প্রশ্নেও গুরুত্বপূর্ণ মামলা বিবেচনা করবেন বিচারপতিরা। কলোরাডোর সরকারি অর্থায়নে পরিচালিত সর্বজনীন প্রাক-বিদ্যালয় কর্মসূচিতে অংশ নিতে না পারা ক্যাথলিক প্রাক-বিদ্যালয়গুলোর একটি মামলা নভেম্বরে সুপ্রিম কোর্টের সামনে আসার কথা রয়েছে।

সেন্ট মেরি ক্যাথলিক প্যারিশের বক্তব্য, ধর্মীয় বিশ্বাসভিত্তিক ভর্তি নীতির কারণে তাদের অঙ্গরাজ্যের সর্বজনীন প্রাক-বিদ্যালয় কর্মসূচি থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে। ওই ভর্তি নীতিতে এলজিবিটিকিউ প্লাস পরিবারের শিশুদের বাদ দেওয়ার বিষয় রয়েছে।

অন্যদিকে কলোরাডো অঙ্গরাজ্যের বক্তব্য, ধর্মীয় বিদ্যালয়গুলো সরকারি অর্থায়নের এই কর্মসূচিতে অংশ নিতে পারে, তবে তাদের বৈষম্যবিরোধী আইন মেনে চলতে হবে। কর্মসূচিটি ২০২০ সালের একটি ব্যালট উদ্যোগের মাধ্যমে তৈরি হয়েছিল এবং এতে অভিভাবকদের নির্বাচিত বিদ্যালয়ে প্রাক-বিদ্যালয় শিক্ষার জন্য সরকারি অর্থায়নের ব্যবস্থা রয়েছে।

ফলে নতুন মেয়াদে সুপ্রিম কোর্টের সামনে একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের বেশ কয়েকটি বড় সাংবিধানিক ও নীতিগত প্রশ্ন এসেছে। এর মধ্যে রয়েছে জলবায়ু পরিবর্তনের ক্ষতির জন্য জ্বালানি প্রতিষ্ঠানকে দায়ী করার সুযোগ, আধা-স্বয়ংক্রিয় রাইফেলের ওপর নিষেধাজ্ঞা, অভিবাসীদের আটক ও তৃতীয় দেশে পাঠানোর নিয়ম, ভোটার নিবন্ধনে নাগরিকত্বের প্রমাণ এবং সরকারি অর্থায়নে ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের অংশগ্রহণ।

তবে এসব মামলায় এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত আসেনি। নতুন মেয়াদের বিভিন্ন সময়ে বিচারপতিরা মামলাগুলোর যুক্তিতর্ক শুনবেন এবং পরে রায় দেবেন। ফলে মামলাগুলোর সম্ভাব্য ফলাফলকে এখনই নিশ্চিত হিসেবে দেখার সুযোগ নেই।

বিশেষ করে ট্রাম্প প্রশাসনের ইমিগ্রেশন নীতির সঙ্গে সম্পর্কিত মামলাগুলোর সিদ্ধান্ত অভিবাসীদের আটক ও ডিপোর্টেশন প্রক্রিয়ায় গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলতে পারে। একইভাবে অস্ত্রের অধিকার নিয়ে মামলাটি বিভিন্ন অঙ্গরাজ্যের আধা-স্বয়ংক্রিয় রাইফেল নিষিদ্ধ করার ক্ষমতার ক্ষেত্রেও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।

জলবায়ু মামলা, ভোটের নিয়ম এবং ধর্মীয় স্বাধীনতা নিয়ে আদালতের সিদ্ধান্তও সংশ্লিষ্ট অঙ্গরাজ্য ও ফেডারেল নীতিতে প্রভাব ফেলতে পারে। ফলে নতুন মেয়াদের শুরু থেকেই যুক্তরাষ্ট্রের সর্বোচ্চ আদালতের দিকে নজর থাকবে বিভিন্ন পক্ষের।

আগামী কয়েক মাস ধরে পর্যায়ক্রমে এসব মামলার শুনানি হবে। এরপর বিচারপতিরা সিদ্ধান্ত দেবেন। ইমিগ্রেশন থেকে অস্ত্রের অধিকার, জলবায়ু থেকে ভোটের নিয়ম—যুক্তরাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি নীতির আইনি সীমা কোথায় থাকবে, তার উত্তর নির্ধারণে বড় ভূমিকা রাখবে সুপ্রিম কোর্টের এই নতুন মেয়াদ।

সূত্র: অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস

Logo

সম্পাদক ও প্রকাশক: মহিউদ্দিন সরকার