বিজ্ঞাপন
ডিভি-২০২৭ নিয়ে আদালতে মামলা, বাংলাদেশিদের জন্যও কি খুলবে লটারির সুযোগ?
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ: ০৬ অক্টোবর ২০২৬, ০৪:৪৯ এএম
বিজ্ঞাপন
যুক্তরাষ্ট্রের ডাইভারসিটি ভিসা বা ডিভি লটারি-২০২৭-এর নিবন্ধন এখনো শুরু না হওয়ায় বিষয়টি গড়িয়েছে ফেডারেল আদালতে। ক্যালিফোর্নিয়ার একটি অভিবাসন আইন প্রতিষ্ঠান নিবন্ধন চালুর জন্য সরকারের বিরুদ্ধে মামলা করার পর ২৪ সেপ্টেম্বর আদালতে এ বিষয়ে শুনানি হয়েছে। বিচারক জিনসুক ওহতা আগামী ১৪ অক্টোবরের মধ্যে এ মামলায় সিদ্ধান্ত দেওয়ার কথা জানিয়েছেন। ফলে দীর্ঘদিন ধরে ডিভি লটারির অপেক্ষায় থাকা সম্ভাব্য আবেদনকারীদের নজর এখন ওই সিদ্ধান্তের দিকে।
ক্যালিফোর্নিয়াভিত্তিক রেড ঈগল ল’ যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিওর বিরুদ্ধে মামলাটি করে। প্রতিষ্ঠানটির অভিযোগ, পররাষ্ট্র দপ্তর ডিভি-২০২৭-এর নিবন্ধন চালু না করে আইনগত দায়িত্ব পালনে ব্যর্থ হয়েছে। মামলায় আদালতের কাছে অন্তত ৩০ দিনের জন্য ডাইভারসিটি ভিসা কর্মসূচির নিবন্ধন চালুর নির্দেশ দেওয়ার আবেদন করা হয়েছে।
ডিভি লটারি কর্মসূচির মাধ্যমে প্রতিবছর সর্বোচ্চ ৫৫ হাজার ডাইভারসিটি ভিসা দেওয়ার ব্যবস্থা রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে তুলনামূলক কম হারে অভিবাসী পাঠানো দেশগুলোর নাগরিকদের স্থায়ীভাবে যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসের সুযোগ দেওয়ার উদ্দেশ্যে এই কর্মসূচি চালু করা হয়। তবে কোন কোন দেশের নাগরিকরা আবেদন করতে পারবেন, সেই যোগ্যতার তালিকা প্রতিবছর আলাদাভাবে নির্ধারিত হয়।
ডিভি-২০২৭-এর নিবন্ধন শুরুর তারিখ এখনো যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর ঘোষণা করেনি। ২০২৫ সালের নভেম্বরে দপ্তর জানিয়েছিল, নিবন্ধন প্রক্রিয়ায় কিছু পরিবর্তন আনা হচ্ছে এবং ডিভি-২০২৭-এর নিবন্ধনের তারিখ পরে ঘোষণা করা হবে। একই সময়ে দপ্তর জানায়, নির্বাচিত আবেদনকারীদের ভিসা আবেদনের সময়সীমা ১ অক্টোবর ২০২৬ থেকে ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৭ পর্যন্ত থাকবে।
এদিকে মামলায় সরকারের পক্ষ থেকে যুক্তি দেওয়া হয়েছে, ডিভি-২০২৭-এর নিবন্ধন চালুর জন্য নির্ধারিত সময় পেরিয়ে গেছে এবং এখন নতুন করে ৩০ দিনের নিবন্ধন পর্ব চালু করা কার্যত অসম্ভব। সরকারের এই অবস্থানের সঙ্গে মামলাকারী প্রতিষ্ঠান একমত নয়। ২৪ সেপ্টেম্বরের শুনানিতে দুই পক্ষের বক্তব্য শোনার পর বিচারক ওহটা তাৎক্ষণিক কোনো সিদ্ধান্ত দেননি।
বাংলাদেশিদের জন্যও বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ। কারণ সর্বশেষ ডিভি-২০২৬ কর্মসূচিতে বাংলাদেশে জন্মগ্রহণকারীরা আবেদন করার যোগ্য ছিলেন না। যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তরের প্রকাশিত তালিকায় বাংলাদেশসহ ১৯টি দেশকে ডিভি-২০২৬ কর্মসূচির জন্য অযোগ্য হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছিল। আগের কয়েকটি ডিভি কর্মসূচিতেও বাংলাদেশ অযোগ্য দেশের তালিকায় ছিল।
তবে ডিভি-২০২৭-এর ক্ষেত্রে বাংলাদেশিদের যোগ্যতা নিয়ে এখনই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত দেওয়ার সুযোগ নেই। কারণ পররাষ্ট্র দপ্তর এখনো ডিভি-২০২৭-এর নিবন্ধন শুরু করেনি এবং নতুন কর্মসূচির চূড়ান্ত যোগ্য দেশের তালিকাও প্রকাশ করেনি। ফলে আদালত যদি নিবন্ধন চালুর পথ খুলে দেন, তার পরও বাংলাদেশে জন্মগ্রহণকারীরা আবেদন করতে পারবেন কি না, তা নির্ভর করবে ডিভি-২০২৭-এর সরকারি যোগ্যতার তালিকার ওপর।
বর্তমানে ডিভি-২০২৭-এর জন্য কোনো নিবন্ধন চালু নেই। তাই আদালতের সিদ্ধান্তের আগে কেউ ডিভি-২০২৭-এর আবেদন গ্রহণের দাবি করলে সতর্ক থাকার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, ডাইভারসিটি ভিসা কর্মসূচির সরকারি তথ্য ও নিবন্ধন প্রক্রিয়া তাদের নির্ধারিত সরকারি ব্যবস্থার মাধ্যমেই পরিচালিত হয়।
১৪ অক্টোবরের সিদ্ধান্ত তাই শুধু নিবন্ধন আদৌ শুরু হবে কি না, সেই প্রশ্নেই গুরুত্বপূর্ণ নয়; সম্ভাব্য বাংলাদেশি আবেদনকারীদের জন্যও এটি পরবর্তী পরিস্থিতি বোঝার একটি গুরুত্বপূর্ণ ধাপ হয়ে উঠতে পারে। তবে বাংলাদেশিদের জন্য আবেদনযোগ্যতা নিশ্চিত হবে কি না, সে বিষয়ে চূড়ান্ত উত্তর পেতে ডিভি-২০২৭-এর সরকারি নির্দেশনা প্রকাশ হওয়া পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে।