Logo
Logo
×

বিজ্ঞাপন

আন্তর্জাতিক

এই বছরের ১৩ নভেম্বর ‘পৃথিবী ধ্বংসের’ পূর্বাভাস! কী বলেছিল সেই গবেষণা

Icon

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

প্রকাশ: ০৬ অক্টোবর ২০২৬, ০৪:৩২ এএম

এই বছরের ১৩ নভেম্বর ‘পৃথিবী ধ্বংসের’ পূর্বাভাস! কী বলেছিল সেই গবেষণা

বিজ্ঞাপন

২০২৬ সালের ১৩ নভেম্বরকে ‘ডুমসডে’ বা বিপর্যয়ের দিন হিসেবে উল্লেখ করেছিল ১৯৬০ সালে সায়েন্স সাময়িকীতে প্রকাশিত একটি গবেষণাপত্র। সেই তারিখ সামনে আসায় গবেষণাটি আবার আলোচনায় এসেছে। তবে এটিকে ওই দিন পৃথিবী ধ্বংস হয়ে যাওয়ার নিশ্চিত পূর্বাভাস হিসেবে উপস্থাপন করা সঠিক নয়। গবেষণার মূল বিষয় ছিল অতীতের জনসংখ্যা বৃদ্ধির ধারা ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকলে কী ঘটতে পারে, তার গাণিতিক হিসাব।

গবেষণাপত্রটি প্রকাশিত হয় ১৯৬০ সালের ৪ নভেম্বর। এর শিরোনাম ছিল ‘ডুমসডে: ফ্রাইডে, ১৩ নভেম্বর, এডি ২০২৬’। গবেষণার লেখক হাইঞ্জ ফন ফোরস্টার, প্যাট্রিসিয়া এম. মোরা ও লরেন্স ডব্লিউ. অ্যামিয়ট তখন যুক্তরাষ্ট্রের ইউনিভার্সিটি অব ইলিনয়ের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। গবেষণাপত্রের শুরুতেই বলা হয়েছিল, আগের দুই হাজার বছরের মতো জনসংখ্যা বাড়তে থাকলে আলোচিত তারিখে মানুষের সংখ্যা অসীমের দিকে এগোবে।

এই হিসাব তৈরিতে গবেষকেরা ঐতিহাসিক জনসংখ্যার তথ্য ব্যবহার করেন। তাঁদের সমীকরণে জনসংখ্যা বৃদ্ধির গতি সময়ের সঙ্গে আরও দ্রুত হওয়ার ধারণা অন্তর্ভুক্ত ছিল। সেই প্রবণতাকে ভবিষ্যতে সম্প্রসারণ করেই ২০২৬ সালের তারিখটি পাওয়া যায়। ফলে গবেষণার সিদ্ধান্তটি নির্ভর করছিল একটি গুরুত্বপূর্ণ শর্তের ওপর: অতীতের বৃদ্ধির ধারা ভবিষ্যতেও একইভাবে চলতে হবে। এটি পৃথিবী ধ্বংসের কোনো ভৌত প্রক্রিয়া শনাক্ত করার গবেষণা ছিল না।

কানাডার ওয়েস্টার্ন ইউনিভার্সিটির ইতিহাসের অধ্যাপক অ্যালান ম্যাকইচার্ন সম্প্রতি দ্য কনভারসেশনে প্রকাশিত এক বিশ্লেষণে গবেষণাটির দীর্ঘদিনের প্রভাব তুলে ধরেছেন। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, অস্বাভাবিক শিরোনাম এবং গাণিতিক যুক্তির কারণে গবেষণাটি সংবাদমাধ্যম ও শিক্ষাঙ্গনে ব্যাপক মনোযোগ পায়। টাইম ও নিউইয়র্ক টাইমসে এটি নিয়ে প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। জিনতত্ত্ব, বাস্তুসংস্থান ও জনমিতির বিভিন্ন পাঠ্যবইয়েও সমীকরণটির উল্লেখ আসে।

ম্যাকইচার্নের বিশ্লেষণ অনুযায়ী, ১৯৭০ ও ১৯৮০-এর দশকে ওই সমীকরণ থেকে পাওয়া জনসংখ্যার পূর্বাভাস অনেক জনমিতিবিদের হিসাবের তুলনায় ভালোভাবে মিলেছিল। তবে প্রায় ১৯৯৩ সাল থেকে বাস্তব জনসংখ্যা গবেষণাটির পূর্বাভাসের তুলনায় কম হতে থাকে। তিনি উল্লেখ করেন, গবেষকেরা বৈশ্বিক জন্মহার অর্ধেকে নামানোর আহ্বান জানিয়েছিলেন। বর্তমানে সেই হার ১৯৬০ সালের অর্ধেকেরও কিছুটা নিচে নেমেছে।

বিশ্বের জনসংখ্যা নিয়ে জাতিসংঘের পূর্বাভাসও ভিন্ন চিত্র তুলে ধরে। ‘ওয়ার্ল্ড পপুলেশন প্রসপেক্টস ২০২৪’ অনুযায়ী, বৈশ্বিক জনসংখ্যা ২০২৪ সালের প্রায় ৮২০ কোটি থেকে বেড়ে ২০৮০-এর দশকের মাঝামাঝি প্রায় ১ হাজার ৩০ কোটিতে সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছাতে পারে। এরপর শতাব্দীর শেষ নাগাদ তা কিছুটা কমে প্রায় ১ হাজার ২০ কোটিতে নামতে পারে। এই পূর্বাভাসে জনসংখ্যা অসীমের দিকে যাওয়ার কথা বলা হয়নি।

সুতরাং ১৯৬০ সালের গবেষণাটি বুঝতে এর শিরোনামের পাশাপাশি হিসাবের শর্তও বিবেচনায় নিতে হবে। অতীতের তথ্য থেকে তৈরি একটি জনসংখ্যা সমীকরণকে নির্দিষ্ট দিনে পৃথিবী ধ্বংসের প্রমাণ হিসেবে দেখানোর ভিত্তি নেই। পরবর্তী দশকগুলোতে জনসংখ্যা বৃদ্ধির ধারা বদলে যাওয়ায় ‘ডুমসডে’র সেই হিসাবও বাস্তব প্রবণতার সঙ্গে আর মিলছে না।

Logo

সম্পাদক ও প্রকাশক: মহিউদ্দিন সরকার