Logo
Logo
×

বিজ্ঞাপন

আন্তর্জাতিক

কানাডায় আবারও অভিবাসন বাড়াতে চায় সরকার, নভেম্বরে আসছে নতুন পরিকল্পনা

Icon

কানাডা প্রতিনিধি

প্রকাশ: ০৫ অক্টোবর ২০২৬, ০৯:৫৬ পিএম

কানাডায় আবারও অভিবাসন বাড়াতে চায় সরকার, নভেম্বরে আসছে নতুন পরিকল্পনা

বিজ্ঞাপন

কানাডায় টানা কয়েক বছর অভিবাসনের হার কমানোর পর আবার নিয়ন্ত্রিতভাবে জনসংখ্যা বাড়ানোর পথে যেতে পারে দেশটির সরকার। প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নি জানিয়েছেন, অভিবাসন ব্যবস্থা এখন অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে এসেছে। ফলে সরকারের সামনে নতুন প্রশ্ন হলো, কখন থেকে আবার পরিকল্পিতভাবে জনসংখ্যা বৃদ্ধি শুরু করা হবে।

এই আলোচনা এমন সময় সামনে এসেছে, যখন কানাডা ২০২৭ থেকে ২০২৯ সাল পর্যন্ত নতুন তিন বছরের ইমিগ্রেশন লেভেলস প্ল্যান প্রস্তুত করছে। পরিকল্পনাটি আগামী নভেম্বরে প্রকাশ করার কথা রয়েছে। এতে নতুন পার্মানেন্ট রেসিডেন্ট, আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থী এবং বিদেশি কর্মীদের জন্য ভবিষ্যৎ টার্গেট নির্ধারণ করা হবে।

গত কয়েক বছরে কানাডায় দ্রুত জনসংখ্যা বৃদ্ধি, হাউজিং সংকট, স্বাস্থ্যসেবা ও অন্যান্য সরকারি সেবার ওপর চাপ নিয়ে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়। এর পরিপ্রেক্ষিতে সরকার অভিবাসনের বিভিন্ন ক্যাটাগরিতে প্রবেশের সংখ্যা কমানোর সিদ্ধান্ত নেয়। বিশেষ করে আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থী ও টেম্পোরারি ফরেন ওয়ার্কারদের সংখ্যা নিয়ন্ত্রণে বেশ কিছু পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।

বর্তমান ২০২৬ থেকে ২০২৮ সালের পরিকল্পনা অনুযায়ী, ২০২৬ সালে কানাডা ৩ লাখ ৮০ হাজার নতুন পার্মানেন্ট রেসিডেন্ট নেওয়ার লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে। ২০২৭ ও ২০২৮ সালেও এই সংখ্যা ৩ লাখ ৮০ হাজার করে রাখার পরিকল্পনা রয়েছে। একই সময়ে ২০২৬ সালে নতুন টেম্পোরারি রেসিডেন্টের টার্গেট রাখা হয়েছে ৩ লাখ ৮৫ হাজার, যা ২০২৭ ও ২০২৮ সালে ৩ লাখ ৭০ হাজারে নামিয়ে আনার পরিকল্পনা রয়েছে।

সরকারের আরেকটি বড় লক্ষ্য হলো, ২০২৭ সালের শেষ নাগাদ কানাডার মোট জনসংখ্যার মধ্যে নন পার্মানেন্ট রেসিডেন্টের হার ৫ শতাংশের নিচে নামিয়ে আনা। একই সঙ্গে ২০২৭ সালের পর নতুন পার্মানেন্ট রেসিডেন্ট গ্রহণের সংখ্যা মোট জনসংখ্যার ১ শতাংশের নিচে রাখার প্রতিশ্রুতিও রয়েছে।

তবে সাম্প্রতিক বক্তব্যে কার্নি ইঙ্গিত দিয়েছেন, অভিবাসন নিয়ন্ত্রণের বর্তমান ধাপ সফলভাবে এগোলে ভবিষ্যতে আবার জনসংখ্যা বৃদ্ধির সুযোগ তৈরি হতে পারে। অর্থাৎ কানাডা স্থায়ীভাবে অভিবাসনের দরজা সংকুচিত রাখবে, এমন ধারণা এখনই নিশ্চিত নয়। বরং অর্থনীতি, শ্রমবাজার এবং অবকাঠামোর সক্ষমতা বিবেচনায় রেখে ধীরে ধীরে অভিবাসনের হার বাড়ানোর সম্ভাবনাই আলোচনায় এসেছে।

কানাডার বর্তমান ইমিগ্রেশন নীতিতে অর্থনৈতিক অভিবাসনকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। ২০২৬ সালের জন্য মোট ৩ লাখ ৮০ হাজার পার্মানেন্ট রেসিডেন্টের মধ্যে ২ লাখ ৩৯ হাজার ৮০০ জনকে অর্থনৈতিক ক্যাটাগরিতে নেওয়ার লক্ষ্য রয়েছে। এর পাশাপাশি ফ্যামিলি রিইউনিফিকেশন, শরণার্থী ও মানবিক বিবেচনার বিভিন্ন ক্যাটাগরিও চালু রয়েছে।

সরকার ইতোমধ্যে কানাডায় থাকা এবং কাজ করা কিছু টেম্পোরারি রেসিডেন্টকে পার্মানেন্ট রেসিডেন্সির পথে নেওয়ার উদ্যোগও রেখেছে। বর্তমান পরিকল্পনায় ২০২৬ ও ২০২৭ সালে সর্বোচ্চ ৩৩ হাজার টেম্পোরারি ওয়ার্কারকে পার্মানেন্ট রেসিডেন্সিতে নেওয়ার বিশেষ উদ্যোগের কথা বলা হয়েছে। এর লক্ষ্য হলো কানাডায় ইতোমধ্যে প্রতিষ্ঠিত এবং অর্থনীতিতে অবদান রাখা কর্মীদের অগ্রাধিকার দেওয়া।

আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের ক্ষেত্রেও আগের তুলনায় লক্ষ্য উল্লেখযোগ্যভাবে কমানো হয়েছে। ২০২৬ সালে নতুন আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীর টার্গেট ১ লাখ ৫৫ হাজার এবং ২০২৭ ও ২০২৮ সালে বছরে ১ লাখ ৫০ হাজার নির্ধারণ করা হয়েছে। ফলে নতুন পরিকল্পনায় শিক্ষার্থী ও টেম্পোরারি ওয়ার্কারদের সংখ্যা কতটা বাড়বে বা বর্তমান সীমা বহাল থাকবে, সেটিই এখন অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন।

বাংলাদেশিসহ কানাডায় পড়াশোনা, চাকরি বা স্থায়ীভাবে বসবাস করতে আগ্রহীদের জন্য আগামী ইমিগ্রেশন লেভেলস প্ল্যান গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে। তবে কার্নির বক্তব্যকে এখনই অভিবাসন ব্যাপকভাবে বাড়ানোর ঘোষণা হিসেবে দেখা ঠিক হবে না। তিনি মূলত ভবিষ্যতে নিয়ন্ত্রিতভাবে জনসংখ্যা বৃদ্ধির সম্ভাবনার কথা বলেছেন। নতুন টার্গেট ও কোন ক্যাটাগরিতে কতজন নেওয়া হবে, তার স্পষ্ট চিত্র পাওয়া যাবে সরকারের ২০২৭ থেকে ২০২৯ সালের আনুষ্ঠানিক ইমিগ্রেশন পরিকল্পনা প্রকাশের পর।

Logo

সম্পাদক ও প্রকাশক: মহিউদ্দিন সরকার