বিজ্ঞাপন
ইতালিতে ২০২৭ সালে ১ লাখ ৬৫ হাজার ৮৫০ বিদেশি কর্মী নেওয়া হবে
তালিকায় বাংলাদেশও
ইতালি প্রতিনিধি
প্রকাশ: ০৫ অক্টোবর ২০২৬, ০৪:০৫ এএম
বিজ্ঞাপন
ইতালিতে ২০২৭ সালে বিভিন্ন খাতে ১ লাখ ৬৫ হাজার ৮৫০ জন বিদেশি কর্মী নেওয়ার জন্য কোটা নির্ধারণ করেছে সরকার। ২০২৬ থেকে ২০২৮ মেয়াদের ‘ডিক্রেতো ফ্লুসি’ কর্মসূচির আওতায় নির্ধারিত এই কোটায় মৌসুমি, অমৌসুমি ও স্বনিয়োজিত কাজের সুযোগ থাকছে। যোগ্য দেশের তালিকায় বাংলাদেশের নাগরিকরাও রয়েছেন।
সরকারি তথ্য অনুযায়ী, ২০২৭ সালের মোট কোটার মধ্যে ৭৬ হাজার ২০০ জন অমৌসুমি কাজে, ৮৯ হাজার জন কৃষি ও পর্যটন খাতের মৌসুমি কাজে এবং ৬৫০ জন স্বনিয়োজিত হিসেবে ইতালিতে যাওয়ার সুযোগ পাবেন। অমৌসুমি কর্মীদের জন্য নির্ধারিত কোটার মধ্যে পরিবারভিত্তিক পরিচর্যা বা কেয়ারগিভিং খাতে ১৪ হাজার স্থান রাখা হয়েছে।
বাংলাদেশ ছাড়াও ভারত, পাকিস্তান, শ্রীলঙ্কা, নেপালসহ বিভিন্ন শ্রমবাজারের দেশ এবং আফ্রিকার কয়েকটি দেশের নাগরিকদের জন্য এই কর্মসূচিতে সুযোগ রাখা হয়েছে।
২০২৭ সালের কোটায় আবেদন করতে আগ্রহীদের জন্য প্রাথমিক প্রস্তুতির ধাপ শুরু হবে ২০২৬ সালেই। ইতালির স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পোর্টালে আবেদনপত্র প্রাক-পূরণের কার্যক্রম শুরু হবে ২৩ অক্টোবর ২০২৬ সকাল ৯টায়। এই কার্যক্রম চলবে ৭ ডিসেম্বর রাত ৮টা পর্যন্ত।
তবে বিদেশে থাকা কর্মীদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, তারা সাধারণত নিজেরা সরাসরি এই কোটায় চাকরির অনুমতির আবেদন করতে পারেন না। ইতালিতে থাকা নিয়োগকর্তা অথবা অনুমোদিত প্রতিনিধি সংশ্লিষ্ট কর্মীর জন্য কাজের অনুমতি বা নুল্লা ওস্তার আবেদন করেন। অনুমোদন পাওয়ার পর নিজ দেশে থাকা কর্মী ইতালীয় দূতাবাস বা কনস্যুলেটের মাধ্যমে কাজের ভিসার পরবর্তী প্রক্রিয়ায় যেতে পারেন।
খাতভেদে আবেদন জমা দেওয়ার নির্দিষ্ট দিনও নির্ধারণ করা হয়েছে। কৃষি খাতের মৌসুমি কর্মীদের জন্য আবেদন শুরু হবে ১২ জানুয়ারি ২০২৭ সকাল ৯টায়। পর্যটন খাতের মৌসুমি কর্মীদের আবেদন শুরু হবে ৯ ফেব্রুয়ারি, অমৌসুমি কাজের জন্য ১৬ ফেব্রুয়ারি এবং পরিবারভিত্তিক পরিচর্যা খাতের জন্য ১৮ ফেব্রুয়ারি। প্রতিটি আবেদনই ইতালির স্থানীয় সময় সকাল ৯টা থেকে গ্রহণ করা হবে।
নির্ধারিত কোটায় আসন খালি থাকা সাপেক্ষে ২০২৭ সালের ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত আবেদন জমা দেওয়ার সুযোগ থাকবে।
ইতালির ২০২৬ থেকে ২০২৮ মেয়াদের কর্মী নিয়োগ পরিকল্পনায় তিন বছরে মোট ৪ লাখ ৯৭ হাজার ৫৫০ জন বিদেশি কর্মীর জন্য কোটা রাখা হয়েছে। এর মধ্যে ২০২৬ সালে ১ লাখ ৬৪ হাজার ৮৫০, ২০২৭ সালে ১ লাখ ৬৫ হাজার ৮৫০ এবং ২০২৮ সালে ১ লাখ ৬৬ হাজার ৮৫০ জন কর্মীর জন্য সুযোগ নির্ধারণ করা হয়েছে।
বিদেশি কর্মীদের ক্ষেত্রে পুরো নিয়োগ ও ভিসা প্রক্রিয়া বৈধ নিয়োগকর্তা এবং ইতালির সরকারি ব্যবস্থার মাধ্যমে সম্পন্ন করার নিয়ম রয়েছে। ফলে চাকরি বা ভিসা পাইয়ে দেওয়ার কথা বলে কোনো ব্যক্তি বা মধ্যস্থতাকারীকে অর্থ দেওয়ার আগে নিয়োগপত্র, নিয়োগকর্তার পরিচয় এবং নুল্লা ওস্তার অনুমোদন যাচাই করা গুরুত্বপূর্ণ।