বিজ্ঞাপন
যুক্তরাষ্ট্রের উচ্চশিক্ষায় ইতিহাসের সবচেয়ে বড় ব্যক্তিগত দান, মিয়ামিতে নতুন ক্যাম্পাসে ৩ বিলিয়ন ডলার
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ: ০৪ অক্টোবর ২০২৬, ০৩:০৭ এএম
বিজ্ঞাপন
যুক্তরাষ্ট্রের উচ্চশিক্ষার ইতিহাসে এক নতুন এবং অভাবনীয় রেকর্ড তৈরি হয়েছে। কার্নেগি মেলন ইউনিভার্সিটিকে ৩ বিলিয়ন ডলারের বিশাল অঙ্কের অর্থ দান করেছেন সিটাডেলের প্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান নির্বাহী কেন গ্রিফিন। রয়টার্স ও বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের তথ্যমতে, যুক্তরাষ্ট্রের কোনো উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানে একক ব্যক্তির পক্ষ থেকে এটিই এখন পর্যন্ত সর্বোচ্চ ব্যক্তিগত দানের ঘটনা। এই বিপুল পরিমাণ অর্থের সাহায্যে ফ্লোরিডার মিয়ামিতে কার্নেগি মেলনের একটি সম্পূর্ণ নতুন ক্যাম্পাস গড়ে তোলার পাশাপাশি মূল ক্যাম্পাসের প্রযুক্তিগত উৎকর্ষ আরও বৃদ্ধি করা হবে।
ঐতিহাসিক এই দানের ৩ বিলিয়ন ডলারের মধ্যে ২ বিলিয়ন ডলারই ব্যয় করা হবে মিয়ামির উইনউড এলাকায় কার্নেগি মেলনের নতুন ক্যাম্পাস নির্মাণের কাজে। ৩৫ একরের বেশি জমির ওপর প্রস্তাবিত এই ক্যাম্পাসের নির্মাণকাজ ২০২৭ সালে শুরু হওয়ার কথা রয়েছে।
প্রয়োজনীয় অনুমোদন সাপেক্ষে ২০২৮ সাল নাগাদ সেখানে প্রথমবারের মতো শিক্ষার্থী ভর্তি করার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। পূর্ণাঙ্গ রূপে চালু হওয়ার পর এই অত্যাধুনিক ক্যাম্পাসে সাড়ে তিন হাজারের বেশি আন্ডারগ্র্যাজুয়েট, মাস্টার্স ও পিএইচডি শিক্ষার্থীর পাশাপাশি প্রায় তিন শ শিক্ষক এবং ছয় শতাধিক কর্মী থাকবেন।
গতানুগতিক বিশ্ববিদ্যালয়ের মতো নির্দিষ্ট বিভাগভিত্তিক পড়াশোনার বদলে এই ক্যাম্পাসটি মানবস্বাস্থ্য, জাতীয় নিরাপত্তা, জ্বালানি ও জলবায়ু সহনশীলতা এবং শিল্প প্রযুক্তির মতো বৈশ্বিক সমস্যাগুলো সমাধানের লক্ষ্যে শিক্ষা ও গবেষণার কাঠামো সাজাবে।
অন্যদিকে, দানের অবশিষ্ট ১ বিলিয়ন ডলার বরাদ্দ করা হয়েছে কার্নেগি মেলনের ঐতিহ্যবাহী পিটসবার্গ ক্যাম্পাসের জন্য। এর মধ্যে ৫০০ মিলিয়ন ডলার সরাসরি ব্যয় হবে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিশ্বখ্যাত কম্পিউটার সায়েন্স বিভাগে। এই বিপুল বিনিয়োগের স্বীকৃতিস্বরূপ বিশ্ববিদ্যালয়ের ‘স্কুল অব কম্পিউটার সায়েন্স’-এর নাম পরিবর্তন করে ‘কেনেথ সি. গ্রিফিন স্কুল অব কম্পিউটার সায়েন্স’ রাখা হয়েছে।
বাকি ৫০০ মিলিয়ন ডলার দিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক নিয়োগ, শিক্ষার্থীদের আর্থিক সহায়তা প্রদান এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও কম্পিউটিং সক্ষমতা সম্প্রসারণের মতো সর্বোচ্চ অগ্রাধিকারমূলক কাজগুলো সম্পন্ন করা হবে। এর ফলে নতুন ক্যাম্পাসের পাশাপাশি পুরোনো ক্যাম্পাসের গবেষণার ভিতও অনেক বেশি শক্তিশালী হবে।
কার্নেগি মেলন ইউনিভার্সিটি এমনিতেই রোবোটিকস, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও মেশিন লার্নিং গবেষণায় বিশ্বজোড়া খ্যাতির অধিকারী। কেন গ্রিফিনের এই যুগান্তকারী বিনিয়োগ তাদের সেই সক্ষমতাকে শিল্প ও উদ্যোক্তা কার্যক্রমের সঙ্গে আরও নিবিড়ভাবে যুক্ত করবে।
এর আগে শিক্ষা ও স্বাস্থ্যখাতে ৫.৭ বিলিয়ন ডলারের বেশি দান করা গ্রিফিন এই উদ্যোগকে ভবিষ্যতের উদ্ভাবনের জন্য একটি দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগ হিসেবে দেখছেন। কার্নেগি মেলনের প্রেসিডেন্ট ফারনাম জাহানিয়ান মনে করেন, এই বিপুল অর্থায়ন কেবল একটি নতুন ক্যাম্পাসই তৈরি করবে না, বরং মিয়ামি ও পিটসবার্গের মধ্যে শিক্ষা ও প্রযুক্তিগত সহযোগিতার এক নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে।