বিজ্ঞাপন
আকাশসীমা জটিলতা কাটিয়ে বৃহস্পতিবার আসছে রূপপুরের নতুন ইউরেনিয়াম চালান রাশিয়া থেকে
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ: ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১:৫১ পিএম
বিজ্ঞাপন
রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের দ্বিতীয় ইউনিটের জন্য রাশিয়া থেকে ইউরেনিয়ামবাহী কার্গো বাংলাদেশে আসা আবার শুরু হচ্ছে। নতুন সূচি অনুযায়ী আগামী বৃহস্পতিবার, ১ অক্টোবর একটি চালান দেশে পৌঁছানোর কথা রয়েছে। এর আগে ২৪ সেপ্টেম্বর চালানটি আসার কথা থাকলেও নির্ধারিত আকাশপথে প্রয়োজনীয় অনুমতি না পাওয়ায় সেই ফ্লাইট স্থগিত করা হয়।
বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয় এবং প্রকল্পসংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের তথ্য অনুযায়ী, রাশিয়া থেকে ইউরেনিয়াম পরিবহনের জন্য যে রুট নির্ধারিত রয়েছে, সেখানে একাধিক দেশের আকাশসীমা ব্যবহারের প্রয়োজন হয়। এর মধ্যে কাজাখস্তান, তুর্কমেনিস্তান, আফগানিস্তান, পাকিস্তান ও ভারতের আকাশসীমা রয়েছে। ২৪ সেপ্টেম্বরের নির্ধারিত ফ্লাইটের ক্ষেত্রে পাকিস্তানের আকাশসীমা ব্যবহারের অনুমোদন না পাওয়ায় কার্গো বিমানটি বাংলাদেশে আসতে পারেনি।
রূপপুর প্রকল্পের পরিচালক ড. কবির হোসেন জানিয়েছেন, প্রথম ইউনিটের জ্বালানি পরিবর্তনের জন্য প্রয়োজনীয় ৪৮টি ফুয়েল অ্যাসেম্বলি দুটি ফ্লাইটে আসার কথা ছিল। এর একটি ২৪ সেপ্টেম্বর এবং আরেকটি ১ অক্টোবর আসার কথা ছিল। একই সঙ্গে দ্বিতীয় ইউনিটের প্রাথমিক জ্বালানি সরবরাহের জন্যও একাধিক ফ্লাইটের পরিকল্পনা করা হয়েছিল।
রাশিয়ার রাষ্ট্রীয় পারমাণবিক শক্তি করপোরেশন রোসাটম জানিয়েছে, রূপপুরের দ্বিতীয় ইউনিটের পারমাণবিক জ্বালানি সরবরাহ অক্টোবর থেকে শুরু হয়ে ডিসেম্বর পর্যন্ত চলবে। কয়েকটি পৃথক ফ্লাইটে জ্বালানি সরবরাহ করা হবে এবং ডিসেম্বরের শেষ নাগাদ পুরো সরবরাহ শেষ করার পরিকল্পনা রয়েছে।
এর আগে পরিকল্পনা অনুযায়ী দ্বিতীয় ইউনিটের প্রথম জ্বালানি ৮ অক্টোবর থেকে প্রতি সপ্তাহে একটি করে সাতটি ফ্লাইটে আনার কথা ছিল। সাম্প্রতিক পরিবর্তনের পর ১ অক্টোবর থেকেই নতুন করে সরবরাহ কার্যক্রম শুরু করার কথা জানানো হয়েছে।
রূপপুর বাংলাদেশের প্রথম পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র। পাবনার ঈশ্বরদীতে নির্মাণাধীন এই প্রকল্পে দুটি ভিভিইআর-১২০০ ধরনের পারমাণবিক চুল্লি রয়েছে। প্রতিটি ইউনিটের বিদ্যুৎ উৎপাদন ক্ষমতা ১ হাজার ২০০ মেগাওয়াট। দুই ইউনিট মিলিয়ে কেন্দ্রটির মোট উৎপাদন ক্ষমতা ২ হাজার ৪০০ মেগাওয়াট। প্রকল্পটি রাশিয়ার রাষ্ট্রীয় পারমাণবিক সংস্থা রোসাটমের কারিগরি সহযোগিতায় নির্মিত হচ্ছে।
রূপপুরের প্রথম ইউনিটের জন্য প্রথম দফার পারমাণবিক জ্বালানি ২০২৩ সালের সেপ্টেম্বরে রাশিয়া থেকে বাংলাদেশে আসে। ওই চালানে ১৬৪টি ফুয়েল অ্যাসেম্বলি ছিল। বিশেষ নিরাপত্তাব্যবস্থায় সেগুলো রূপপুরে নেওয়া হয়।
চলতি বছরের এপ্রিল মাসে প্রথম ইউনিটে পারমাণবিক জ্বালানি লোডিং শুরু হয়। এর মাধ্যমে বাংলাদেশ পারমাণবিক বিদ্যুৎ উৎপাদনের পর্যায়ে প্রবেশের প্রক্রিয়া শুরু করে। এখন প্রথম ইউনিটের জ্বালানি পুনঃস্থাপনের পাশাপাশি দ্বিতীয় ইউনিটের প্রাথমিক জ্বালানি সরবরাহের কাজ এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে।
তবে বৃহস্পতিবারের চালানটি নির্ধারিত সময়েই পৌঁছাবে কি না, সেটি শেষ পর্যন্ত সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর আকাশসীমা অনুমোদন ও উড়োজাহাজ চলাচলের ওপর নির্ভর করবে। বর্তমানে বাংলাদেশ ও রাশিয়ার পক্ষ থেকে নতুন সূচি অনুযায়ী সরবরাহ শুরু করার প্রস্তুতির কথা জানানো হয়েছে। সমকালও জানিয়েছে, প্রয়োজনীয় আকাশসীমা অনুমোদন পাওয়ার পর নতুন সূচি অনুযায়ী ফ্লাইট পরিচালনার প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে।