বিজ্ঞাপন
মা-বাবাকে আমেরিকায় আনতে চান? জানুন আইআর-৫ ভিসার আবেদন প্রক্রিয়া
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ: ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১:৪৮ পিএম
বিজ্ঞাপন
মা-বাবাকে স্থায়ীভাবে আমেরিকায় আনতে আবেদন করতে পারেন ২১ বছর বা তার বেশি বয়সী মার্কিন নাগরিকেরা। বাবা-মায়ের জন্য নির্ধারিত আইআর-৫ ভিসা ইমিডিয়েট রিলেটিভ ক্যাটাগরির অন্তর্ভুক্ত। এতে বছরে ভিসা দেওয়ার সংখ্যাগত সীমা নেই। তবে আবেদন যাচাই, কাগজপত্র পর্যালোচনা ও ইন্টারভিউয়ের সময় পেতে অপেক্ষা করতে হয়। কোটা না থাকা দ্রুত ভিসা পাওয়ার নিশ্চয়তা নয়।
ইউএসসিআইএসের নির্দেশনা অনুযায়ী, শুধু গ্রিন কার্ড থাকলে মা-বাবাকে এই ক্যাটাগরিতে স্পন্সর করা যায় না। আবেদনকারীকে মার্কিন নাগরিক হতে হবে। মা ও বাবার জন্য আলাদা আই-১৩০ পিটিশন জমা দিতে হয়।
আবেদনের সঙ্গে নাগরিকত্ব এবং পারিবারিক সম্পর্কের প্রমাণ প্রয়োজন। সাধারণত মার্কিন পাসপোর্ট বা ন্যাচারালাইজেশন সার্টিফিকেট এবং জন্মসনদ দিতে হয়। বাবার জন্য আবেদনে বাবা-মায়ের বিয়ের সনদসহ পরিস্থিতি অনুযায়ী অতিরিক্ত নথিও প্রয়োজন হতে পারে।
আই-১৩০ ফরমের ফি এখন অনলাইনে ৬২৫ ডলার এবং কাগজে জমা দিলে ৬৭৫ ডলার। মা-বাবা দুজনের জন্য আবেদন করলে প্রত্যেকের পিটিশনের ফি আলাদাভাবে দিতে হবে। এটি পুরো অভিবাসন প্রক্রিয়ার মোট খরচ নয়।
মা-বাবা বাংলাদেশে থাকলে আই-১৩০ অনুমোদনের পর সাধারণত ন্যাশনাল ভিসা সেন্টার বা এনভিসির মাধ্যমে পরবর্তী ধাপ শুরু হয়। সেখানে ডিএস-২৬০ ভিসা আবেদন, আই-৮৬৪ আর্থিক সহায়তার অঙ্গীকারনামা এবং প্রয়োজনীয় সিভিল ডকুমেন্ট জমা দিতে হয়। এরপর নির্ধারিত দূতাবাসে ইন্টারভিউয়ের ব্যবস্থা করা হয়।
পারিবারিক অভিবাসন ভিসার আবেদন ফি জনপ্রতি ৩২৫ ডলার। এনভিসিতে অ্যাফিডেভিট অব সাপোর্ট পর্যালোচনার ফি ১২০ ডলার। এর বাইরে স্বাস্থ্য পরীক্ষা, প্রয়োজনীয় টিকা, নথি সংগ্রহ এবং প্রযোজ্য অন্যান্য খরচ থাকে। তাই শুধু ভিসা আবেদন ফি ধরে বাজেট করলে পুরো খরচের হিসাব মিলবে না।
বাংলাদেশি আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে সাম্প্রতিক ভিসা নির্দেশনাও গুরুত্বপূর্ণ। স্টেট ডিপার্টমেন্টের ২৮ আগস্টের হালনাগাদে বলা হয়েছে, আদালতের আদেশ অনুযায়ী বাংলাদেশসহ ৭৫ দেশের নাগরিকদের ইমিগ্র্যান্ট ভিসা দেওয়ার ওপর জানুয়ারিতে আরোপিত বিরতি ২১ আগস্ট থেকে আর কার্যকর নেই। তবে ৮ সেপ্টেম্বর রয়টার্স জানিয়েছিল, নতুন প্রশিক্ষণ কর্মসূচির কারণে বহু দূতাবাসে ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইন্টারভিউয়ের সাময়িক বিরতি তখনো চলছিল। আবেদনকারীর নিজস্ব ইন্টারভিউয়ের অবস্থা জানতে এনভিসি ও দূতাবাসের সর্বশেষ বার্তা অনুসরণ করতে হবে।
আর্থিক স্পন্সরশিপের ক্ষেত্রে সাধারণত প্রযোজ্য ফেডারেল দারিদ্র্যসীমার অন্তত ১২৫ শতাংশ আয় দেখাতে হয়। ২০২৬ সালের হিসাবে যুক্তরাষ্ট্রের মূল ভূখণ্ডের ৪৮ স্টেট ও ওয়াশিংটন ডিসিতে তিন সদস্যের পরিবারের জন্য এই অঙ্ক বছরে ৩৪ হাজার ১৫০ ডলার। স্পন্সরের পরিবারের সদস্যসংখ্যা সঠিকভাবে গণনা করা জরুরি।
আয় যথেষ্ট না হলে যোগ্য জয়েন্ট স্পন্সর বা নিয়ম অনুযায়ী পরিবারের অন্য সদস্যের আয় ব্যবহার করা যেতে পারে। জয়েন্ট স্পন্সর থাকলেও মূল আবেদনকারীকে নিজের আই-৮৬৪ জমা দিতে হয়। এই অঙ্গীকারনামা সরকারের সঙ্গে আইনগতভাবে বাধ্যতামূলক আর্থিক সহায়তার চুক্তি।
মা-বাবা ইতিমধ্যে আমেরিকায় থাকলে তাঁদের প্রবেশের ইতিহাস ও অন্যান্য যোগ্যতার ওপর নির্ভর করে দেশের ভেতরে গ্রিন কার্ডের জন্য আবেদন করার সুযোগ থাকতে পারে। শুধু আমেরিকায় অবস্থান করলেই এই সুযোগ নিশ্চিত হয় না। আই-৪৮৫ জমা দেওয়ার মাধ্যমে কাজ বা বিদেশভ্রমণের অনুমতিও স্বয়ংক্রিয়ভাবে পাওয়া যায় না। সংশ্লিষ্ট অনুমতির জন্য আলাদা আবেদন ও অনুমোদন প্রয়োজন। আই-৪৮৫-এর সাধারণ কাগজে আবেদন ফি ১ হাজার ৪৪০ ডলার; এর সঙ্গে পুরোনো নিয়মের মতো আলাদা ৮৫ ডলার বায়োমেট্রিক ফি যোগ করা ঠিক নয়।
অনুমোদিত সময়ের বেশি অবস্থান বা অনুমতি ছাড়া প্রবেশের ইতিহাস থাকলে পরিস্থিতি বিশেষভাবে পর্যালোচনা করা প্রয়োজন। নির্দিষ্ট সময় বেআইনিভাবে অবস্থানের পর আমেরিকা ছাড়লে তিন বা দশ বছরের প্রবেশ নিষেধাজ্ঞা কার্যকর হতে পারে। তাই দেশে ফিরে ভিসা নিলেই সমস্যার সমাধান হবে, এমন ধারণা নিয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া উচিত নয়।
ভিসা অনুমোদন হলে তাতে উল্লেখ করা মেয়াদ শেষ হওয়ার আগেই আমেরিকায় প্রবেশ করতে হবে। ঢাকার আবেদনকারীদের নির্দেশনায় বলা হয়েছে, স্বাস্থ্য পরীক্ষার ফলের ওপর নির্ভর করে ভিসার মেয়াদ সীমিত হতে পারে। ফলে ভিসা হাতে পাওয়ার দিন থেকে সবার জন্য নতুন করে ছয় মাস সময় থাকে না।
মা-বাবার চিকিৎসা খরচও আগেই পরিকল্পনা করা দরকার। নতুন অভিবাসীরা প্রথম দশ বছর কোনোভাবেই মেডিকেয়ার পাবেন না, এমন সাধারণ নিয়ম নেই। মেডিকেয়ারের যোগ্যতা বয়স, কাজের ইতিহাস এবং বসবাসের শর্তের ওপর নির্ভর করে। পর্যাপ্ত কাজের ইতিহাস না থাকা স্থায়ী বাসিন্দাদের ক্ষেত্রে সাধারণত ৬৫ বছর বয়স এবং আমেরিকায় টানা পাঁচ বছর বসবাসসহ শর্ত পূরণ করে প্রিমিয়াম দিয়ে কভারেজ নেওয়ার সুযোগ থাকতে পারে।
গ্রিন কার্ড পাওয়ার পর সাধারণ পাঁচ বছরের নিয়মে নাগরিকত্বের আবেদন করা সম্ভব হলেও সময় পার হওয়াই একমাত্র শর্ত নয়। ধারাবাহিক বসবাস, প্রয়োজনীয় সময় আমেরিকায় উপস্থিত থাকা এবং অন্যান্য যোগ্যতাও পূরণ করতে হয়। মা-বাবাকে আনার পরিকল্পনায় তাই আবেদন ফি, ইন্টারভিউয়ের অপেক্ষা, আর্থিক দায়িত্ব ও হেলথ ইন্স্যুরেন্সের খরচ একসঙ্গে বিবেচনা করা প্রয়োজন।