বিজ্ঞাপন
শরণার্থী পুনর্বাসন চালু করছে যুক্তরাজ্য, আফগান নারী ও ফিলিস্তিনিদের অগ্রাধিকার
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ: ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১২:৪৪ পিএম
বিজ্ঞাপন
শরণার্থীদের জন্য স্থগিত থাকা ‘ইউকে রিসেটেলমেন্ট স্কিমে’ নতুন সুপারিশ গ্রহণ আবার শুরু করেছে যুক্তরাজ্য। সরকারের পরিকল্পনা অনুযায়ী, এই কর্মসূচিতে সুপারিশ পাওয়া ব্যক্তিদের প্রায় এক-চতুর্থাংশ হবেন আফগান নারী ও বালিকা এবং ফিলিস্তিনি শরণার্থী। জাতিসংঘের শরণার্থী সংস্থা ইউএনএইচসিআর ও ইন্টারন্যাশনাল রিফিউজি অ্যাসিস্ট্যান্স প্রজেক্টের সঙ্গে অংশীদারত্বে তাঁদের শনাক্ত ও সুপারিশ করা হবে।
সোমবার, ২৮ সেপ্টেম্বর লিভারপুলে লেবার পার্টির সম্মেলনে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী শাবানা মাহমুদ এ ঘোষণা দেন। সরকারি বিবৃতি অনুযায়ী, নতুন সুপারিশ গ্রহণ শুরু হয়েছে এবং এ পথে প্রথম শরণার্থীদের চলতি বছরের শেষ নাগাদ যুক্তরাজ্যে পৌঁছানোর কথা। ‘এক-চতুর্থাংশ’ হলো সুপারিশের প্রত্যাশিত অনুপাত; ইতিমধ্যে পৌঁছানো শরণার্থীদের হিসাব নয়।
এই পুনর্বাসন কর্মসূচির পাশাপাশি তিনটি নতুন স্পন্সরশিপ পথ চালুর পরিকল্পনা রয়েছে। অক্টোবর থেকে দাতব্য ও অলাভজনক প্রতিষ্ঠানগুলো কমিউনিটি এবং বিশ্ববিদ্যালয়ভিত্তিক স্পন্সরশিপের জন্য আবেদন করতে পারবে। এসব পথে শরণার্থীদের প্রথম আগমন প্রত্যাশিত ২০২৭ সালের শরতে। ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে কর্মসংস্থানভিত্তিক স্পন্সরশিপের আবেদন শুরু হওয়ার কথা ২০২৭ সালের বসন্তে; এর প্রথম আগমনও ওই বছরের পরের দিকে হতে পারে। স্পন্সরদের আবাসন ও নতুন পরিবেশে মানিয়ে নেওয়ার সহায়তা দিতে হবে।
সরকার বলছে, পুনর্বাসন ও নতুন তিনটি স্পন্সরশিপ পথ মিলিয়ে শুরুতে কয়েক শ শরণার্থী আসতে পারেন। পরে অনিয়মিত অভিবাসন কমার সঙ্গে সংখ্যা কয়েক হাজারে নেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। প্রতিবছর একটি সর্বোচ্চ সীমা নির্ধারণ করা হবে, তবে নির্দিষ্ট সংখ্যা এখনো ঘোষণা করা হয়নি। এসব পথে আসা শরণার্থীদের স্থায়ীভাবে বসবাসের অনুমতির জন্য পাঁচ বছরের পথ দেওয়া হবে।
শাবানা মাহমুদের বক্তব্য, যুদ্ধ ও নিপীড়ন থেকে পালানো মানুষকে নিরাপদ আশ্রয় দেওয়ার পাশাপাশি ছোট নৌকায় ইংলিশ চ্যানেল পারাপার কমাতে সরকার নিয়ন্ত্রিত আইনি পথ রাখতে চায়। তবে নতুন কর্মসূচির আকার এত ছোট হলে তা নৌকায় আগমন উল্লেখযোগ্যভাবে কমাবে কি না, সে বিষয়ে প্রশ্ন তুলেছেন অভিবাসন গবেষকেরা। অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের মাইগ্রেশন অবজারভেটরির পরিচালক ম্যাডেলিন সাম্পশন বলেছেন, এর প্রভাব শেষ পর্যন্ত কতজনকে নেওয়া হয়, তার ওপর নির্ভর করবে।
রিফিউজি কাউন্সিল নতুন নিরাপদ পথ তৈরির সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়েছে। তবে সংস্থাটির প্রধান নীতিবিশ্লেষক জন ফিটনবির মতে, মানবপাচারকারীদের ওপর প্রভাব ফেলতে হলে কয়েক শ নয়, হাজার হাজার মানুষের জন্য এসব পথ চালু করতে হবে। অন্যদিকে কনজারভেটিভ পার্টি ও রিফর্ম ইউকে নতুন পথ চালুর সমালোচনা করেছে। ব্রিটিশ রেড ক্রস পৃথকভাবে শরণার্থীদের পারিবারিক পুনর্মিলনের পথ কবে আবার চালু হবে, তা জানাতে সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে।
পুনর্বাসনের এই ঘোষণা যুক্তরাজ্যে যেতে ইচ্ছুক সবার জন্য সরাসরি আবেদনের সুযোগ নয়। ইউএনএইচসিআরের তথ্য অনুযায়ী, তাদের পুনর্বাসন প্রক্রিয়ায় ব্যক্তির নিজের আবেদন করার ব্যবস্থা নেই; সুরক্ষার প্রয়োজন বিচার করে সংস্থাটি শরণার্থী শনাক্ত ও সুপারিশ করে, আর গ্রহণের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেয় সংশ্লিষ্ট দেশ। পুনর্বাসনের প্রতিশ্রুতি দিয়ে কেউ অর্থ চাইলে তা-ও সতর্কতার বিষয়, কারণ এই প্রক্রিয়া শরণার্থীর জন্য বিনামূল্যে।