বিজ্ঞাপন
ইরাক থেকে মার্কিন সেনাদের চূড়ান্ত বিদায়, ২০ বছরের সামরিক অধ্যায়ের অবসান
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ: ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৩:৪৫ এএম
বিজ্ঞাপন
দীর্ঘ দুই দশকেরও বেশি সময়ের সামরিক উপস্থিতির পর ইরাক থেকে পুরোপুরি সেনা প্রত্যাহারের প্রস্তুতি নিচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র। আগামী বুধবারের মধ্যেই দেশটির সর্বশেষ সামরিক ঘাঁটিগুলো থেকেও মার্কিন সেনা প্রত্যাহার সম্পন্ন হওয়ার কথা রয়েছে। ২০২৪ সালে তৎকালীন মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের প্রশাসনের নেওয়া এই প্রত্যাহারের সিদ্ধান্তটি বর্তমানে ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন বাস্তবায়ন করছে।
তবে যুক্তরাষ্ট্রের এই চূড়ান্ত বিদায়কে ঘিরে একদিকে যেমন ইরানপন্থী গোষ্ঠীগুলোর মধ্যে উল্লাস দেখা যাচ্ছে, অন্যদিকে ইরাকের ভবিষ্যৎ নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে গভীর উদ্বেগও তৈরি হয়েছে।
ইরাকি নিরাপত্তা বিশ্লেষকদের আশঙ্কা, মার্কিন নেতৃত্বাধীন জোটের বিদায়ের পর দেশটিতে সৃষ্ট নিরাপত্তা শূন্যতার সুযোগ নিতে পারে বিভিন্ন সশস্ত্র গোষ্ঠী। বিশেষ করে ইরান-সমর্থিত গোষ্ঠীগুলো ইরাকের নিরাপত্তা ও রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত গ্রহণে নিজেদের প্রভাব আরও বাড়ানোর চেষ্টা করবে।
নিরাপত্তা বিশ্লেষক জসিম আল-বাহাদলি মনে করেন, দীর্ঘদিন ধরে ইরাকে মার্কিন সামরিক উপস্থিতি ইরানের ক্রমবর্ধমান প্রভাবের বিপরীতে একটি ভারসাম্য ধরে রেখেছিল। সেই উপস্থিতি শেষ হলে কৌশলগতভাবে ইরানই সবচেয়ে বেশি লাভবান হবে। পাশাপাশি, ইসলামিক স্টেটের (আইএস) মতো চরমপন্থী গোষ্ঠীগুলোও এই শূন্যতাকে কাজে লাগিয়ে পুনরায় মাথাচাড়া দিয়ে উঠতে পারে বলে শঙ্কা রয়েছে।
মার্কিন সেনা প্রত্যাহারকে অনেক ইরাকি স্বাগত জানালেও, নিজেদের নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে শঙ্কা কাটছে না অনেকেরই। ইরান-সমর্থিত সশস্ত্র গোষ্ঠী ‘ইরাকি ইসলামিক রেজিস্ট্যান্স’-এর কমান্ডার আবু মোজতবা আল-ইয়াসিরি মার্কিন বাহিনীর এই বিদায়কে ‘ঐতিহাসিক বিজয়’ হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন। তবে ফালুজার সুন্নি গোত্রের নেতা আব্দুল রহমান আল-জোবাইয়ের মতে, ইরাক এখনো নিজস্ব নিরাপত্তা সম্পূর্ণভাবে নিয়ন্ত্রণ করতে প্রস্তুত নয়।
কুর্দি নিরাপত্তা কর্মকর্তারাও সতর্ক করে জানিয়েছেন, মার্কিন বাহিনীর গুরুত্বপূর্ণ গোয়েন্দা তথ্য, লজিস্টিক সহায়তা ও ড্রোন নজরদারি ছাড়া আইএসের সুপ্ত সেলগুলো আবারো ভয়াবহভাবে সক্রিয় হয়ে উঠতে পারে।
প্রসঙ্গগত, ২০০৩ সালে সাদ্দাম হোসেনকে ক্ষমতাচ্যুত করতে ইরাকে সামরিক অভিযান শুরু করেছিল যুক্তরাষ্ট্র। পরবর্তীতে ২০১১ সালে তারা সেনা প্রত্যাহার করলেও ২০১৪ সালে আইএসের উত্থানের পর মিত্রদের নিয়ে ফের দেশটিতে সেনা মোতায়েন করে ওয়াশিংটন।
রয়টার্সের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ইরাক যুদ্ধ ও তৎপরবর্তী বিভিন্ন সামরিক অভিযানে এ পর্যন্ত প্রায় সাড়ে চার হাজার মার্কিন সেনা প্রাণ হারিয়েছেন। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান উভয়ের সঙ্গেই সম্পর্ক বজায় রেখে চলছিল ইরাক। তবে বর্তমান পরিস্থিতিতে মার্কিন সেনা প্রত্যাহার ইরাকের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা কাঠামো এবং আইএসের বিরুদ্ধে দেশটির লড়াইয়ের সক্ষমতার ওপর কী ধরনের প্রভাব ফেলবে, সেটিই এখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে।