বিজ্ঞাপন
জ্বালানি তেলের দাম বাড়ায় ফ্লাইট কমাচ্ছে বড় এয়ারলাইনগুলো, বাড়তে পারে ভাড়া
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ: ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৬:১২ পিএম
বিজ্ঞাপন
জেট ফুয়েলের দাম দ্রুত বেড়ে যাওয়ায় যুক্তরাষ্ট্রের বড় কয়েকটি এয়ারলাইন ফ্লাইটের সংখ্যা ও সক্ষমতা কমানোর প্রস্তুতি নিচ্ছে। আমেরিকান এয়ারলাইনস, ইউনাইটেড এয়ারলাইনস ও সাউথওয়েস্ট এয়ারলাইনসের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, বাড়তি জ্বালানি খরচ সামাল দিতে তারা ফ্লাইট সূচি নিয়মিত পর্যালোচনা করছেন এবং প্রয়োজন অনুযায়ী পরিবর্তন আনছেন।
ইন্টারন্যাশনাল এয়ার ট্রান্সপোর্ট অ্যাসোসিয়েশনের তথ্য অনুযায়ী, গত সপ্তাহে বিশ্ববাজারে জেট ফুয়েলের গড় দাম আগের সপ্তাহের তুলনায় ৬ দশমিক ১ শতাংশ বেড়ে ব্যারেলপ্রতি ১৮১ দশমিক ৪৬ ডলারে পৌঁছেছে। জ্বালানির এই মূল্যবৃদ্ধি এয়ারলাইনগুলোর পরিচালন ব্যয়ে বড় চাপ তৈরি করছে।
আমেরিকান এয়ারলাইনসের প্রধান আর্থিক কর্মকর্তা ডেভন মে জানিয়েছেন, চতুর্থ প্রান্তিকে জেট ফুয়েলের দাম জুলাইয়ে করা পূর্বাভাসের তুলনায় গ্যালনপ্রতি প্রায় ১ ডলার বেশি হতে পারে। এতে শুধু আমেরিকান এয়ারলাইনসের জ্বালানি ব্যয় প্রায় ১০০ কোটি ডলার বাড়তে পারে বলে তিনি জানান।
মে বলেন, বাড়তি জ্বালানি খরচের সঙ্গে সামঞ্জস্য রাখতে বছরের শেষ প্রান্তিকে এয়ারলাইনটির ফ্লাইট সক্ষমতায় আরও কিছু পরিবর্তন আনা হবে। তবে তিনি জানান, চলতি তৃতীয় প্রান্তিকে কোম্পানির ব্যবসায়িক কার্যক্রম নিয়ে তারা সন্তুষ্ট।
আমেরিকান এয়ারলাইনসের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা রবার্ট আইসমের মতে, জ্বালানির বাড়তি খরচের একটি বড় অংশ যাত্রীদের কাছ থেকে পাওয়া বাড়তি আয় দিয়ে সামাল দেওয়া সম্ভব হয়েছে। তিনি আরও জানান, তৃতীয় প্রান্তিকে গত বছরের একই সময়ের তুলনায় এয়ারলাইনটির আয় ১৬ থেকে ১৯ শতাংশ বাড়তে পারে বলে তারা আশা করছেন।
এদিকে ইউনাইটেড এয়ারলাইনসের প্রধান আর্থিক কর্মকর্তা মাইকেল লেস্কিনেন জানিয়েছেন, জ্বালানির দাম বেশি থাকায় ডিসেম্বরে নির্ধারিত কিছু ফ্লাইট পরিচালনা করা হবে না। পরিস্থিতি অপরিবর্তিত থাকলে আগামী বছরের প্রথম প্রান্তিক এবং পরবর্তী সময়েও ফ্লাইট সূচিতে আরও পরিবর্তন আনা হতে পারে।
তবে ইউনাইটেডের কর্মকর্তার বক্তব্য অনুযায়ী, জ্বালানির দাম বাড়লেও তাদের ফ্লাইট বুকিংয়ে এখনো বড় ধরনের নেতিবাচক প্রভাব দেখা যাচ্ছে না। প্রিমিয়াম যাত্রী, করপোরেট ভ্রমণ এবং সাধারণ শ্রেণির বুকিং—সব ক্ষেত্রেই চাহিদা তুলনামূলকভাবে শক্তিশালী রয়েছে।
সাউথওয়েস্ট এয়ারলাইনসও জ্বালানি খরচের চাপ সামাল দিতে ফ্লাইট সক্ষমতা নিয়ে পরিবর্তনের কথা জানিয়েছে। কোম্পানির প্রধান আর্থিক কর্মকর্তা টম ডক্সি বলেন, ২০২৬ সালের শুরুতে যে পরিমাণ সক্ষমতা বৃদ্ধির পরিকল্পনা করা হয়েছিল, তার প্রায় অর্ধেক ইতোমধ্যে বাদ দেওয়া হয়েছে।
ডক্সি বলেন, জ্বালানির দাম দীর্ঘ সময় বেশি থাকলে ফ্লাইট সক্ষমতা কমানো স্বাভাবিক পদক্ষেপ হতে পারে। তবে সাউথওয়েস্টের এক মুখপাত্র পরে জানান, এখন পর্যন্ত সূচিতে যে পরিবর্তন করা হয়েছে তা খুবই সীমিত। ডক্সির বক্তব্যটি মূলত পরিস্থিতি বোঝানোর উদাহরণ ছিল, ইতোমধ্যে নেওয়া কোনো বড় পদক্ষেপের ঘোষণা নয়।
সাউথওয়েস্ট জানিয়েছে, শরৎকালের প্রত্যাশার চেয়ে ভালো বুকিং বাড়তি জ্বালানি খরচের প্রভাব কিছুটা সামাল দিতে সাহায্য করছে। এ কারণে চলতি তৃতীয় প্রান্তিকের আয়সংক্রান্ত পূর্বাভাসও তারা বজায় রেখেছে।
এয়ারলাইনগুলো বলছে, যাত্রী চাহিদা এখনো তুলনামূলকভাবে শক্তিশালী থাকলেও জেট ফুয়েলের দাম কতদিন উচ্চ থাকবে, তার ওপর পরবর্তী সিদ্ধান্ত অনেকটাই নির্ভর করছে। জ্বালানি খরচ দীর্ঘ সময় বেশি থাকলে ফ্লাইট সংখ্যা কমানোর পাশাপাশি যাত্রীদের টিকিটের দামেও এর প্রভাব পড়তে পারে।