বিজ্ঞাপন
১ অক্টোবরের আগে মিটারের ছবি তুলুন, যুক্তরাজ্যে বাড়ছে জ্বালানি বিল
সতর্কতা বিশেষজ্ঞদের
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ: ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৪:০০ এএম
বিজ্ঞাপন
আগামী ১ অক্টোবর থেকে যুক্তরাজ্যে জ্বালানির দাম বাড়তে যাচ্ছে। এ পরিস্থিতিতে স্মার্ট মিটার নেই—এমন লাখ লাখ পরিবারকে বৃহস্পতিবার, ১ অক্টোবরের আগে অথবা ওই দিন নিজেদের গ্যাস ও বিদ্যুতের মিটারের রিডিং নেওয়া এবং সম্ভব হলে মিটারের একটি ছবি তুলে রাখার পরামর্শ দিয়েছেন জ্বালানি বিশেষজ্ঞরা।
অফজেমের এনার্জি প্রাইস ক্যাপ ১ অক্টোবর থেকে ৪ শতাংশ বাড়ছে। একটি সাধারণ পরিবারের জন্য বার্ষিক মূল্যসীমা ১ হাজার ৬৬৩ পাউন্ড থেকে বেড়ে ১ হাজার ৭২৩ পাউন্ড হবে। ফলে স্ট্যান্ডার্ড ভ্যারিয়েবল ট্যারিফে থাকা গ্রাহকদের গ্যাস ও বিদ্যুতের জন্য নতুন হারে অর্থ পরিশোধ করতে হবে।
জ্বালানি বিশেষজ্ঞ বেন গ্যালিজ্জির মতে, মিটারের সঠিক রিডিং সরবরাহকারীকে না দিলে ব্যবহারের পরিমাণ অনুমান করে বিল তৈরি হতে পারে। এতে ১ অক্টোবরের আগে ব্যবহৃত জ্বালানির একটি অংশ নতুন ও বেশি দরের হিসাবে বিল হওয়ার ঝুঁকি রয়েছে।
ইউসুইচের তথ্য অনুযায়ী, স্মার্ট মিটার নেই এমন ৪০ লাখের বেশি পরিবারকে মূল্যবৃদ্ধির আগে মিটার রিডিং জমা দেওয়ার বিষয়ে সতর্ক করা হয়েছে। বিশেষ করে ১ অক্টোবরের কাছাকাছি সময়ে রিডিং জমা দিলে মূল্যবৃদ্ধির আগে ও পরে ব্যবহারের হিসাব আলাদা করার ক্ষেত্রে সহায়তা হতে পারে।
মানি সেভিং এক্সপার্টের প্রতিষ্ঠাতা মার্টিন লুইসও গ্রাহকদের মিটারের ছবি তুলে রাখার পরামর্শ দিয়েছেন। ভবিষ্যতে বিল নিয়ে কোনো বিরোধ দেখা দিলে ওই ছবি মিটারের প্রকৃত রিডিংয়ের প্রমাণ হিসেবে ব্যবহার করা যেতে পারে।
শুধু মিটার রিডিং নেওয়াই নয়, গ্রাহকদের নিজেদের জন্যও সেই রিডিং সংরক্ষণ করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। অনলাইন অ্যাকাউন্টে রিডিং জমা দেওয়ার পাশাপাশি মিটারের ছবিটি নিজের ই-মেইলে পাঠিয়ে রাখলে পরবর্তীতে প্রয়োজনের সময় তা পাওয়া যাবে।
অক্টোবরের মূল্যবৃদ্ধির পাশাপাশি শীতের মাসগুলোতে জ্বালানি ব্যবহারের পরিমাণও বাড়তে পারে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গড় ব্যবহারের একটি স্ট্যান্ডার্ড ট্যারিফে থাকা পরিবারের অক্টোবরে জ্বালানি খরচ প্রায় ১৪৫ পাউন্ড হতে পারে। সেপ্টেম্বরে একই ধরনের খরচ ছিল প্রায় ১০৯ পাউন্ড। শরৎকালে কেন্দ্রীয় হিটিং ব্যবহারের পরিমাণ বেড়ে যাওয়াও এর অন্যতম কারণ।
এদিকে আগামী জানুয়ারিতে জ্বালানি বিল আরও বাড়তে পারে বলে পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে। বর্তমান পূর্বাভাস অনুযায়ী, জানুয়ারির এনার্জি প্রাইস ক্যাপ প্রায় ২ হাজার ১১৭ পাউন্ডে পৌঁছাতে পারে, যা অক্টোবরের ১ হাজার ৭২৩ পাউন্ডের তুলনায় প্রায় ২৩ শতাংশ বেশি।
জ্বালানি বিশেষজ্ঞরা অবশ্য জানিয়েছেন, সব গ্রাহককে নতুন মূল্যসীমার পুরো প্রভাব বহন করতে হবে এমন নয়। বাজারে বিভিন্ন নির্দিষ্ট মেয়াদের বা ফিক্সড ট্যারিফ রয়েছে, যেগুলোর কিছু নতুন অক্টোবরের মূল্যসীমার চেয়ে কম হতে পারে।
ইউসুইচের তথ্য অনুযায়ী, প্রায় ১ কোটি ৫০ লাখ পরিবার বর্তমানে স্ট্যান্ডার্ড ট্যারিফে রয়েছে। তাদের মধ্যে যারা মূল্যবৃদ্ধির আগে নির্দিষ্ট মেয়াদের চুক্তিতে যেতে চান, তারা বিভিন্ন সরবরাহকারীর প্রস্তাব তুলনা করতে পারেন।
প্রতিবেদনে ফিউজ এনার্জির একটি ১৮ মাসের নির্দিষ্ট মেয়াদের চুক্তির উদাহরণ দেওয়া হয়েছে। একটি সাধারণ পরিবারের ক্ষেত্রে এর বার্ষিক খরচ প্রায় ১ হাজার ৬৮৮ পাউন্ড হতে পারে, যা অক্টোবরের নতুন মূল্যসীমার তুলনায় ৩৫ পাউন্ড কম।
তবে নির্দিষ্ট কোনো চুক্তি নেওয়ার আগে গ্রাহকদের নিজেদের জ্বালানি ব্যবহারের ধরন, চুক্তির মেয়াদ, ইউনিট রেট এবং অন্যান্য শর্ত যাচাই করে নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
স্মার্ট মিটার না থাকা গ্রাহকদের ক্ষেত্রে ১ অক্টোবরের আগে বা ওই দিন মিটার রিডিং জমা দেওয়াকে বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। কারণ সঠিক রিডিং না থাকলে সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানকে ব্যবহারের পরিমাণ অনুমান করতে হতে পারে।
জ্বালানি বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ হলো, ১ অক্টোবরের আগে মিটারের বর্তমান রিডিং নিন, সম্ভব হলে মিটারের পরিষ্কার ছবি তুলে রাখুন এবং সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানের অনলাইন অ্যাকাউন্টে রিডিং জমা দিন। একই সঙ্গে ভবিষ্যতে বিল নিয়ে কোনো প্রশ্ন বা বিরোধ দেখা দিলে প্রমাণ দেখানোর জন্য রিডিংয়ের তথ্য সংরক্ষণ করে রাখুন।