বিজ্ঞাপন
যুক্তরাষ্ট্রের উইসকনসিনে বিশ্ববিদ্যালয়ে ভয়ংকর র্যাগিং, নোংরা বেসমেন্ট থেকে উদ্ধার ৩০ অর্ধনগ্ন তরুণ
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ: ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০২:১৮ এএম
বিজ্ঞাপন
যুক্তরাষ্ট্রের ইউনিভার্সিটি অব উইসকনসিন-ম্যাডিসনের (ইউডব্লিউ-ম্যাডিসন) একটি ছাত্র সংগঠনের বেসমেন্ট থেকে ভয়ংকর র্যাগিং বা 'হেজিং'-এর শিকার অন্তত ৩০ জন তরুণকে উদ্ধার করেছে পুলিশ। 'আলফা এপসিলন পাই' নামের ওই ফ্র্যাটার্নিটির আস্তানায় অভিযান চালিয়ে তাদের অর্ধনগ্ন ও জখম অবস্থায় পাওয়া যায়।
তবে সবচেয়ে চাঞ্চল্যকর তথ্য হলো, এই সংগঠনটিকে এক দশক আগেই বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস থেকে আজীবনের জন্য বহিষ্কার করা হয়েছিল। মূলত একগুচ্ছ নিয়মভঙ্গ এবং বেপরোয়া আচরণের কারণেই তাদের বিরুদ্ধে ওই কঠোর ব্যবস্থা নিয়েছিল বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ।
বিশ্ববিদ্যালয়ের রেকর্ড অনুযায়ী, ২০১৩ সালে এই ফ্র্যাটার্নিটির একটি পার্টিতে মাত্রাতিরিক্ত মদ্যপানের কারণে ১৭ বছর বয়সী এক কিশোরসহ দুজনকে জরুরি ভিত্তিতে হাসপাতালে নিয়ে ‘ডিটক্স’ বা বিষমুক্ত করতে হয়েছিল। এই গুরুতর ঘটনার পর ইউডব্লিউ-ম্যাডিসন কর্তৃপক্ষ সংগঠনটিকে নজরদারিতে বা প্রবেশনে রাখে।
কিন্তু নজরদারিতে থাকা অবস্থায় এবং মদ পানের ওপর নিষেধাজ্ঞা থাকার পরও তারা অন্তত চারবার একই ধরনের অপরাধমূলক ও নিয়মবহির্ভূত কাজে জড়িয়ে পড়ে। বারংবার নিয়ম ভাঙার কারণে অবশেষে ২০১৫ সালে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ আলফা এপসিলন পাই-এর সঙ্গে সব ধরনের সম্পর্ক ছিন্ন করে তাদের আনুষ্ঠানিকভাবে নিষিদ্ধ ঘোষণা করে। তা সত্ত্বেও, জাতীয় পর্যায়ের অনুমোদনের সুযোগ নিয়ে তারা ক্যাম্পাসের বাইরে নিজেদের কার্যক্রম চালিয়ে আসছিল।
সবশেষ গত বুধবার রাতে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে ম্যাডিসন পুলিশ ওই ফ্র্যাটার্নিটির একটি বাড়িতে অভিযান চালায়। পুলিশ জানায়, বাড়িটির নোংরা ও ৮১ ডিগ্রি ফারেনহাইটের চরম উত্তপ্ত একটি বেসমেন্ট থেকে ওই ৩০ জন তরুণকে (যাদের বেশিরভাগের বয়স ১৮ বছর) উদ্ধার করা হয়।
তাদের গায়ে খাবার, সস এবং অন্যান্য তরল পদার্থ মাখানো ছিল এবং অনেকের শরীরেই শারীরিক নির্যাতনের স্পষ্ট ক্ষতচিহ্ন পাওয়া গেছে। এ ঘটনায় অবৈধভাবে র্যাগিং পরিচালনা এবং বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির অভিযোগে ফ্র্যাটার্নিটির ২০ বছর বয়সী সভাপতি এবং সহ-সভাপতিকে গ্রেপ্তার করে ডেন কাউন্টি জেলে পাঠানো হয়েছে। নিষিদ্ধ হওয়ার পরও কীভাবে এমন একটি সংগঠন এত বছর ধরে শিক্ষার্থীদের ওপর নির্যাতন চালিয়ে আসছিল, তা নিয়ে বর্তমানে তীব্র সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে।