Logo
Logo
×

বিজ্ঞাপন

আন্তর্জাতিক

মিয়ামিতে জি-টোয়েন্টি সম্মেলনে পুতিনকে ট্রাম্পের আমন্ত্রণ, ক্ষুব্ধ ইউরোপ

Icon

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

প্রকাশ: ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৫:১৪ এএম

মিয়ামিতে জি-টোয়েন্টি সম্মেলনে পুতিনকে ট্রাম্পের আমন্ত্রণ, ক্ষুব্ধ ইউরোপ

বিজ্ঞাপন

ইউক্রেন যুদ্ধের অবসান ঘটানোর কূটনৈতিক প্রচেষ্টার অংশ হিসেবে রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনকে যুক্তরাষ্ট্রে অনুষ্ঠেয় আসন্ন জি-টোয়েন্টি সম্মেলনে যোগ দেওয়ার আনুষ্ঠানিক আমন্ত্রণ জানিয়েছে ওয়াশিংটন। নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনের ফাঁকে রাশিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই ল্যাভরভের সঙ্গে বৈঠকের পর মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও এই তথ্য নিশ্চিত করেন।

আগামী ডিসেম্বরে ফ্লোরিডার মিয়ামিতে অনুষ্ঠেয় এই শীর্ষ সম্মেলনকে পুতিনের জন্য অন্যান্য বিশ্বনেতাদের সঙ্গে যুক্ত হওয়ার এক বড় ‘সুযোগ’ হিসেবে উল্লেখ করেছেন রুবিও। পুতিন যদি এই আমন্ত্রণ গ্রহণ করেন, তবে ২০২২ সালে ইউক্রেনে পূর্ণমাত্রায় সামরিক অভিযান শুরুর পর এটিই হবে যুক্তরাষ্ট্রের মূল ভূখণ্ডে তাঁর প্রথম সফর এবং ২০১৯ সালের পর কোনো জি-টোয়েন্টি সম্মেলনে সশরীরে প্রথম উপস্থিতি।

আমন্ত্রণের বিষয়ে ক্রেমলিনের মুখপাত্র দিমিত্রি পেসকভ জানিয়েছেন, মস্কো এখনো এ বিষয়ে কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেয়নি। তবে ওয়াশিংটনের ইতিবাচক এই উদ্যোগকে রাশিয়া গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করছে এবং সমন্বয়ের পর আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্ত জানানো হবে। পেসকভ আবারও স্পষ্ট করেন, মস্কো কোনো সাময়িক যুদ্ধবিরতি নয়, বরং একটি স্থায়ী শান্তি সমাধান চায়। দৃশ্যত দুই দেশের সম্পর্কের টানাপোড়েন চললেও নেপথ্যে কূটনৈতিক তৎপরতা অব্যাহত রয়েছে।

সম্প্রতি মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থা সিআইএ-র প্রধান জন র‍্যাটক্লিফ অঘোষিত সফরে মস্কো গিয়েছিলেন। এছাড়া অর্থনৈতিক সহযোগিতা, জ্বালানি ইস্যু ও ইউক্রেন শান্তি আলোচনা এগিয়ে নিতে রুশ বিশেষ দূত কিরিল দিমিত্রিয়েভ মার্কিন বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ এবং ট্রাম্পের জামাতা জ্যারেড কুশনারের সঙ্গে বৈঠক করতে যাচ্ছেন বলে জানা গেছে।

এদিকে নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে যুক্তরাষ্ট্রে ডিজেল ও জ্বালানির রেকর্ড মূল্যবৃদ্ধির কারণে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইউক্রেন ও রাশিয়ার মধ্যে একটি ‘জ্বালানি যুদ্ধবিরতি’র ওপর জোর দিচ্ছেন। যদিও গত সপ্তাহেই তিনি রুশ জ্বালানি ক্রেতা ও পুতিনের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপের ক্ষমতাসম্পন্ন একটি কঠোর আইনে স্বাক্ষর করেছিলেন।

ট্রাম্পের দাবি, ইউক্রেনের পক্ষ থেকে রাশিয়ার জ্বালানি অবকাঠামোয় হামলা বিশ্ব অর্থনীতিকে ক্ষতিগ্রস্ত করছে। তবে আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, ট্রাম্প ভুল জায়গায় চাপ প্রয়োগ করছেন; আক্রমণ বন্ধ করা এবং ইউক্রেনের সার্বভৌমত্ব স্বীকার করার মূল দায়িত্ব রাশিয়ার। তদুপরি, মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত ও হরমুজ প্রণালী বন্ধ হওয়ার কারণেই মূলত জ্বালানির বাজার অস্থির হয়েছে।

আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত (আইসিসি) ইউক্রেনীয় শিশুদের বেআইনিভাবে রাশিয়ায় স্থানান্তরের যুদ্ধাপরাধের অভিযোগে পুতিনের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করে রাখলেও মিয়ামি সফরে পুতিনের গ্রেপ্তার হওয়ার কোনো আইনি ঝুঁকি নেই। কারণ যুক্তরাষ্ট্র আইসিসির প্রতিষ্ঠাতা চুক্তি ‘রোম সংবিধি’র সদস্য নয়।

উল্টো ডোনাল্ড ট্রাম্প আইসিসিকে ‘নিয়ন্ত্রণহীন ও দুর্বৃত্ত প্রতিষ্ঠান’ আখ্যা দিয়ে সাধারণ পরিষদে সদস্য দেশগুলোকে এটি থেকে অবিলম্বে পদত্যাগ করার আহ্বান জানিয়েছেন। তাছাড়া গাজা যুদ্ধের প্রেক্ষাপটে ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহুর বিরুদ্ধেও পরোয়ানা থাকায় সংস্থাটির ওপর মার্কিন নিষেধাজ্ঞা আরোপের প্রস্তুতিও চলছে।

তবে পুতিনকে জি-টোয়েন্টিতে আমন্ত্রণের ঘটনায় ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে ইউরোপের দেশগুলো। ইউরোপীয় ইউনিয়নের পররাষ্ট্রনীতি বিষয়ক প্রধান কাজা কালাস এই পদক্ষেপের কড়া সমালোচনা করে বলেছেন, যারা আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘন করে যুদ্ধ শুরু করেছে এবং বেসামরিক মানুষ হত্যা করেছে, তাদের এভাবে স্বাভাবিক হিসেবে গ্রহণ করা বিশ্বজুড়ে ভুল বার্তা দেবে।

অন্যদিকে ইউক্রেনের অন্যতম মিত্র পোল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী ডোনাল্ড তুস্ক গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে জানিয়েছেন, এমন পদক্ষেপ রাশিয়াকে শান্তি আলোচনার দিকে আনার বদলে তাদের আক্রমণাত্মক নীতি অব্যাহত রাখতে আরও বেশি উৎসাহিত করবে।

Logo

সম্পাদক ও প্রকাশক: মহিউদ্দিন সরকার