বিজ্ঞাপন
যুক্তরাষ্ট্রে ননসিটিজেন ভোটার খুঁজতে ভোটার তালিকা দ্রুত যাচাইয়ের নির্দেশ হোয়াইট হাউসের
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ: ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০২:৪৩ এএম
বিজ্ঞাপন
যুক্তরাষ্ট্রে ননসিটিজেন ভোটার খুঁজে বের করতে অন্তত ৪৭টি অঙ্গরাজ্যের ভোটার তালিকা দ্রুত পর্যালোচনার জন্য কেন্দ্রীয় সংস্থাগুলোকে নির্দেশ দিয়েছে হোয়াইট হাউস। অভ্যন্তরীণ একটি ই-মেইল পর্যালোচনা করে এ তথ্য জানিয়েছে বার্তা সংস্থা রয়টার্স। আসন্ন মধ্যবর্তী নির্বাচন সামনে রেখে এই উদ্যোগের অংশ হিসেবে দেশটির নিরাপত্তা ও অভিবাসন ব্যবস্থার শত শত কর্মকর্তাকে ভোটার তালিকা যাচাইয়ের কাজে যুক্ত করা হয়েছে।
১ সেপ্টেম্বরের ওই ই-মেইলটি পাঠিয়েছিলেন যুক্তরাষ্ট্রের হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগের (ডিএইচএস) এক কর্মকর্তা। এতে ভোটার তালিকা পর্যালোচনার অগ্রগতি ও নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রা পূরণে কর্মকর্তাদের সমস্যার কথা উঠে এসেছে। ই-মেইলটি আরও দেখায়, পুরো প্রক্রিয়াটিতে হোয়াইট হাউসের সরাসরি তদারকি রয়েছে। একপর্যায়ে অগ্রগতি না হলে হোয়াইট হাউসের চিফ অব স্টাফ সুসি ওয়াইলসের সঙ্গে বিষয়টি তোলার কথাও উল্লেখ করা হয়।
ডিএইচএসের ‘আনলফুল ভোটার ইনিশিয়েটিভ’-এর আওতায় এই যাচাই চলছে। সরকারি কর্মকর্তাদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, সাম্প্রতিক মাসগুলোতে দেশটির নিরাপত্তা ও অভিবাসন ব্যবস্থার বিভিন্ন শাখা থেকে শত শত কর্মকর্তাকে ভোটার তালিকায় সম্ভাব্য অনিয়ম খুঁজতে কাজে লাগানো হয়েছে। একই সঙ্গে ডিএইচএসের কাছে পাওয়া ৪৭টি অঙ্গরাজ্যের ভোটার তালিকা দ্রুত যাচাই করার ওপর জোর দেওয়া হয়েছে।
তবে এই প্রক্রিয়ায় ভুলভাবে মার্কিন নাগরিকদের ননসিটিজেন হিসেবে চিহ্নিত হওয়ার আশঙ্কাও দেখা দিয়েছে। ডিএইচএসের কাছে থাকা ভোটার তালিকার কিছু সংস্করণে জন্মসালসহ গুরুত্বপূর্ণ তথ্য না থাকায় বিভিন্ন সরকারি তথ্যভান্ডারের সঙ্গে নাম মিলিয়ে দেখা কঠিন হচ্ছে। কর্মকর্তাদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, সাম্প্রতিক সময়ে এ ধরনের যাচাইয়ে একই নামের অভিবাসীদের সঙ্গে মিল থাকার কারণে মার্কিন নাগরিকদেরও সম্ভাব্য ননসিটিজেন হিসেবে চিহ্নিত করার ঘটনা ঘটেছে। বিদেশে জন্ম নেওয়া মার্কিন নাগরিকরাও ভুলভাবে এই তালিকায় চলে এসেছেন বলে সংশ্লিষ্ট একজন জানিয়েছেন।
ভোটার তালিকার ঘাটতি পূরণ করতে ডিএইচএস বেসরকারি তথ্য সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান অ্যাকুরিন্টের কাছ থেকেও তথ্য নিচ্ছে। সরকারি তদন্তকারীরা এসব তথ্য ইমিগ্রেশন অ্যান্ড কাস্টমস এনফোর্সমেন্ট, ইউএস সিটিজেনশিপ অ্যান্ড ইমিগ্রেশন সার্ভিসেস, পররাষ্ট্র দপ্তর এবং সামাজিক নিরাপত্তা প্রশাসনের তথ্যভান্ডারের সঙ্গে মিলিয়ে দেখছেন। উদ্দেশ্য হলো ভোটার তালিকায় থাকা সম্ভাব্য ননসিটিজেনদের শনাক্ত করা।
ডিএইচএসের সচিব মার্কওয়েন মুলিন সম্প্রতি বলেছেন, বর্তমানে ১ হাজার ৬২০টি মামলা তদন্তাধীন রয়েছে এবং এই সংখ্যা প্রতিদিন বাড়ছে। তবে ১ সেপ্টেম্বরের ই-মেইল অনুযায়ী, যাচাইয়ে চিহ্নিত ব্যক্তিরা সত্যিই ননসিটিজেন এবং ভোট দেওয়ার জন্য নিবন্ধিত বা ভোট দিয়েছেন—এ বিষয়ে ডিএইচএসের কর্মকর্তাদের ‘কিছুটা নিশ্চিততা’ রয়েছে। অর্থাৎ সব চিহ্নিত ব্যক্তির বিষয়ে নিশ্চিত সিদ্ধান্তে পৌঁছানো যায়নি।
এই উদ্যোগের জন্য ইউএসসিআইএসের জালিয়াতি শনাক্তকরণ ও জাতীয় নিরাপত্তা বিভাগের শত শত কর্মকর্তাকেও সাময়িকভাবে পুনর্নিয়োগ করা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, আগস্ট থেকে অন্তত তিন সপ্তাহের জন্য তাদের এই কাজে যুক্ত করা হয়। কর্মকর্তাদের প্রতি ঘণ্টায় পাঁচটি নাম যাচাইয়ের লক্ষ্য দেওয়া হলেও বাস্তবে সেই লক্ষ্যমাত্রা খুব কমই পূরণ হয়েছে বলে জানা গেছে।
এদিকে, হোমল্যান্ড সিকিউরিটি ইনভেস্টিগেশনসের কর্মকর্তাদেরও সম্ভাব্য ননসিটিজেন ভোটারদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার মতো প্রমাণ আছে কি না, তা যাচাই করতে অতিরিক্ত সম্পদ ব্যবহারের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। আগস্টের শেষ দিকে হোয়াইট হাউসের সঙ্গে একটি ফোনালাপের পর ডিএইচএস কর্মকর্তাদের বৈঠকে আইসিইর সংশ্লিষ্ট দলটি কাজের পরিমাণ ও বাস্তবায়ন নিয়ে অনিশ্চয়তা প্রকাশ করেছিল বলেও ই-মেইলে উল্লেখ করা হয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের বেশির ভাগ অঙ্গরাজ্য ডিএইচএসকে সম্পূর্ণ ভোটার তালিকা দিতে রাজি হয়নি। নিউইয়র্ক বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্রেনান সেন্টারের তথ্য অনুযায়ী, অন্তত ১৬টি অঙ্গরাজ্য কোনো তথ্য বাদ না দিয়ে পূর্ণ ভোটার তালিকা দিতে সম্মত হয়েছে। অন্যদিকে, বেশির ভাগ অঙ্গরাজ্য এ ধরনের অনুরোধ প্রত্যাখ্যান করেছে। ফলে ডিএইচএসকে অনেক ক্ষেত্রে ব্যক্তিগত তথ্য বাদ দেওয়া প্রকাশ্য ভোটার তালিকার ওপর নির্ভর করতে হচ্ছে।
নেভাদার ঘটনা এই যাচাই প্রক্রিয়ার জটিলতাও তুলে ধরেছে। জুলাইয়ে ডিএইচএস দাবি করেছিল, অঙ্গরাজ্যটির ভোটার তালিকায় প্রায় ১৬ হাজার সম্ভাব্য ননসিটিজেন রয়েছে। পরে নেভাদা কর্তৃপক্ষ প্রমাণ চাইলে ডিএইচএস জানায়, ওই সংখ্যা প্রাথমিক এবং মাত্র ১৮৫টি ঘটনা যাচাই করা হয়েছে। নেভাদার সেক্রেটারি অব স্টেটের কার্যালয় জানিয়েছে, প্রাথমিক দাবিগুলো যাচাইয়ের জন্য আরও তথ্য চাওয়া হলেও ডিএইচএস তা দিতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে।
রয়টার্সের সাম্প্রতিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, ২০০০ সাল থেকে সফটওয়্যার ত্রুটি ও প্রশাসনিক ভুলের কারণে অঙ্গরাজ্যগুলোর ভোটার তালিকায় ৩০ হাজারের বেশি ননসিটিজেন যুক্ত হয়ে থাকতে পারেন। তবে তাদের কতজন ভোট দিয়েছেন, তা স্পষ্ট নয়। একইভাবে, ১৯৯৬ সালে ‘ভোটিং বাই এলিয়েনস’ আইন কার্যকর হওয়ার পর এ আইনে মাত্র ১২৯ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ আনা হয়েছিল বলে রয়টার্সের জুলাইয়ের পর্যালোচনায় উঠে আসে। ট্রাম্প প্রশাসন ক্ষমতায় আসার পর এ আইনে আরও অন্তত ২০ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ আনা হয়েছে।
হোয়াইট হাউস জানিয়েছে, সম্ভাব্য ননসিটিজেন ভোটের সব ঘটনাই তদন্ত ও আইনি প্রক্রিয়ার আওতায় আনা হবে। ডিএইচএসও বলেছে, তাদের তদন্ত আইন অনুযায়ী পেশাদারভাবে পরিচালিত হচ্ছে। তবে রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যাচাই প্রক্রিয়ায় ভুলভাবে মার্কিন নাগরিকদের চিহ্নিত করার ঝুঁকি নিয়ে সরকারি কর্মকর্তা ও বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করেছেন।
সূত্র: রয়টার্স