Logo
Logo
×

বিজ্ঞাপন

আন্তর্জাতিক

নিউইয়র্কে সাবেক ছাত্রীর সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর সাক্ষাৎ

গর্বিত শিক্ষক মামুনুর রশিদ

Icon

যুক্তরাষ্ট্র প্রতিনিধি

প্রকাশ: ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০২:০৫ এএম

নিউইয়র্কে সাবেক ছাত্রীর সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর সাক্ষাৎ

বিজ্ঞাপন

শিক্ষক হিসেবে একজন শিক্ষার্থীর সাফল্য দেখার আনন্দই হয়তো সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি। আর সেই শিক্ষার্থী যখন হাজার হাজার মাইল দূরে যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্ক সিটিতে দায়িত্বশীল পুলিশ কর্মকর্তা হিসেবে কাজ করেন, তখন সেই গর্ব আরও গভীর হয়। জাতিসংঘের ৮১তম সাধারণ অধিবেশন ঘিরে নিউইয়র্কে এমনই এক আবেগঘন মুহূর্তের সাক্ষী হয়েছেন শিক্ষক মামুনুর রশিদ।

প্রায় ২২ থেকে ২৩ বছর আগে তাঁর ছাত্রী ছিলেন রুশমী রোজ। বগুড়া শহরের কাটনারপাড়ার বিশিষ্ট সমাজসেবী ও পেসডের নির্বাহী পরিচালক প্রয়াত মাহফুজ আরা মিভার বড় মেয়ে রুশমী বর্তমানে নিউইয়র্ক পুলিশ বিভাগে (NYPD) দায়িত্ব পালন করছেন। তাঁর ছোট বোন রোশানাও যুক্তরাষ্ট্রপ্রবাসী এবং তিনিও মামুনুর রশিদের সাবেক ছাত্রী।

সম্প্রতি জাতিসংঘের ৮১তম সাধারণ অধিবেশনে যোগ দিতে নিউইয়র্কে যান বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। ২১ সেপ্টেম্বর নিউইয়র্কে পৌঁছানোর পর ২২ সেপ্টেম্বর থেকে তাঁর বিভিন্ন উচ্চপর্যায়ের কর্মসূচি শুরু হয়। ২৩ ও ২৪ সেপ্টেম্বরও জাতিসংঘকেন্দ্রিক একাধিক অনুষ্ঠানে তাঁর অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে। 

এই সফরের সময় জাতিসংঘ সদর দপ্তরের সামনেই দায়িত্ব পালন করছিলেন রুশমী রোজ। সেখানেই প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে তাঁর দেখা হয়। মামুনুর রশিদের বর্ণনা অনুযায়ী, বগুড়ার মেয়ে রুশমী নিউইয়র্ক পুলিশের কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন—এ কথা জানতে পেরে প্রধানমন্ত্রী তাঁর সঙ্গে কথা বলেন এবং তাঁর খোঁজখবর নেন।

মামুনুর রশিদের ভাষ্য অনুযায়ী, এই সাক্ষাৎ ছিল অত্যন্ত স্বাভাবিক ও আন্তরিক পরিবেশের। তাঁর সাবেক ছাত্রী রুশমীও শিক্ষককে জানিয়েছেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে সরাসরি দেখা করা তাঁর দীর্ঘদিনের একটি স্বপ্ন ছিল। নিউইয়র্কে দায়িত্ব পালন করার সময় সেই স্বপ্ন পূরণ হওয়ায় তিনি আনন্দিত ও আবেগাপ্লুত হন।

একজন শিক্ষকের কাছে মুহূর্তটি তাই কেবল প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সাবেক ছাত্রীর সাক্ষাৎ নয়। এটি বগুড়ার একটি পরিবারের দুই মেয়ের দীর্ঘ পথচলারও প্রতিচ্ছবি।

শিক্ষক মামুনুর রশিদের লেখায় উঠে এসেছে, দুই বোনই তাঁর ছাত্রী ছিলেন। একসময় বগুড়ায় পড়াশোনা করা সেই শিক্ষার্থীদের একজন আজ নিউইয়র্কের মতো বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ মহানগরে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। নিজের শিকড় ও শিক্ষকের সঙ্গে সেই সম্পর্কের স্মৃতিও রুশমীর জীবনের এই সাফল্যের গল্পকে আলাদা মাত্রা দিয়েছে।

প্রধানমন্ত্রীর ‘কম প্রটোকল’ ভাবনার সঙ্গে মিলল নিউইয়র্কের এই মুহূর্ত

তারেক রহমানের প্রধানমন্ত্রিত্বের শুরু থেকেই তাঁর চলাচলে প্রটোকল কমানোর বিষয়টি আলোচনায় এসেছে। সরকারি সূত্রের বরাতে প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, তাঁর মোটরকেড ছোট করা হয়েছে এবং চলাচলের সময় ট্রাফিক সিগন্যাল বন্ধ না করার নীতি অনুসরণ করা হচ্ছে। মার্চে দেওয়া এক প্রতিবেদনে প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিব জানিয়েছিলেন, ভিআইপি ও ভিভিআইপি প্রটোকল কমানোর ফলে ঢাকার যান চলাচলেও পরিবর্তন এসেছে। 

ফেব্রুয়ারিতে প্রধানমন্ত্রীর নিজস্ব গাড়ি ব্যবহারের সিদ্ধান্ত এবং মোটরকেড ১৩–১৪টি গাড়ি থেকে চারটিতে কমানোর কথাও জানানো হয়েছিল। 

তবে নিউইয়র্কে রুশমী রোজের সঙ্গে সাক্ষাৎকে বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ প্রটোকল পরিবর্তনের সরাসরি ফল হিসেবে দেখানোর মতো স্বাধীন কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। বরং জাতিসংঘ অধিবেশনের ব্যস্ত আন্তর্জাতিক কর্মসূচির মধ্যেও একজন বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত পুলিশ কর্মকর্তার সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর স্বাভাবিক সাক্ষাৎ—এই মানবিক মুহূর্তটিই ছবিটির মূল আকর্ষণ।

জাতিসংঘের ৮১তম অধিবেশন ঘিরে নিউইয়র্কে বর্তমানে ব্যাপক নিরাপত্তা ব্যবস্থা রয়েছে এবং শহরজুড়ে বিপুল সংখ্যক আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী সদস্য দায়িত্ব পালন করছেন। 

সেই নিরাপত্তা বলয়ের মধ্যেই দায়িত্ব পালনরত বগুড়ার মেয়ে রুশমী রোজের সঙ্গে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর সাক্ষাৎ তাই প্রবাসী বাংলাদেশিদের কাছে বিশেষ তাৎপর্য বহন করছে।

একদিকে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক কর্মসূচি, অন্যদিকে নিউইয়র্ক পুলিশের দায়িত্বে থাকা একজন বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত নারীর পেশাগত সাফল্য—দুটি আলাদা গল্প এসে মিলেছে জাতিসংঘ সদর দপ্তরের সামনে একটি ছবিতে।

আর সেই ছবির পেছনে রয়েছে আরও একটি গল্প—একজন শিক্ষকের। দুই দশকেরও বেশি আগে যাকে পড়িয়েছিলেন, আজ সেই ছাত্রী বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ শহরে দায়িত্ব পালন করছেন এবং বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে দাঁড়িয়ে কথা বলছেন।

মামুনুর রশিদের চোখে সেটিই হয়তো একজন শিক্ষকের সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি।

Logo

সম্পাদক ও প্রকাশক: মহিউদ্দিন সরকার