Logo
Logo
×

বিজ্ঞাপন

আন্তর্জাতিক

তরুণদের কোলন ক্যানসারে মৃত্যুর হার বাড়ছে, সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে কারা

Icon

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

প্রকাশ: ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৭:১৫ পিএম

তরুণদের কোলন ক্যানসারে মৃত্যুর হার বাড়ছে, সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে কারা

বিজ্ঞাপন

একসময় কোলন ও রেক্টামের ক্যানসারকে মূলত বয়স্কদের রোগ হিসেবে দেখা হতো। কিন্তু সাম্প্রতিক বছরগুলোতে যুক্তরাষ্ট্রে তরুণদের মধ্যে এ রোগের প্রবণতা বাড়ছে। নতুন এক গবেষণায় দেখা গেছে, ৫০ বছরের কম বয়সী মানুষের মধ্যে কোলোরেক্টাল ক্যানসার এখন ক্যানসারজনিত মৃত্যুর অন্যতম প্রধান কারণ হয়ে উঠেছে। তবে এই মৃত্যুহার সব মানুষের মধ্যে সমানভাবে বাড়েনি।

আমেরিকান ক্যানসার সোসাইটির গবেষকেরা ১৯৯৪ থেকে ২০২৩ সাল পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রে ২৫ থেকে ৪৯ বছর বয়সী কোলন ও রেক্টাল ক্যানসারে মারা যাওয়া এক লাখ এক হাজারের বেশি মানুষের সরকারি তথ্য বিশ্লেষণ করেছেন। গবেষণায় দেখা যায়, এই ৩০ বছরে ওই বয়সী মানুষের কোলোরেক্টাল ক্যানসারে মৃত্যুহার প্রতি এক লাখে প্রায় ৩ জন থেকে বেড়ে প্রায় ৪ জনে দাঁড়িয়েছে।

তবে তথ্য আরও বিশ্লেষণ করার পর শিক্ষাগত যোগ্যতার ভিত্তিতে বড় ধরনের পার্থক্য দেখা যায়। যাদের চার বছরের কলেজ ডিগ্রি নেই, তাদের মধ্যে মৃত্যুহার প্রতি এক লাখে প্রায় ৪ জন থেকে বেড়ে ৫ দশমিক ২ জন হয়েছে। অন্যদিকে অন্তত ব্যাচেলর ডিগ্রিধারীদের মধ্যে মৃত্যুহার প্রায় ২ দশমিক ৭ জনের কাছাকাছিই স্থির রয়েছে।

গবেষকদের মতে, শিক্ষাগত যোগ্যতার সঙ্গে আয়, স্বাস্থ্যসেবায় প্রবেশাধিকার ও জীবনযাপনের বিভিন্ন সুযোগের সম্পর্ক রয়েছে। কলেজ ডিগ্রি না থাকা মানুষের একটি বড় অংশ তুলনামূলক কম বেতনের কাজে যুক্ত থাকেন, যেখানে স্বাস্থ্যবিমা বা বেতনসহ ছুটির সুবিধা কম থাকতে পারে। এর ফলে নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা বা উপসর্গ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের কাছে যাওয়া কঠিন হতে পারে।

শিক্ষার সঙ্গে স্বাস্থ্যসংক্রান্ত তথ্য বোঝার সক্ষমতারও সম্পর্ক রয়েছে বলে গবেষণায় উল্লেখ করা হয়েছে। পাশাপাশি কম শিক্ষাগত যোগ্যতার মানুষের মধ্যে এমন এলাকায় বসবাসের সম্ভাবনা বেশি হতে পারে, যেখানে পরিবেশ দূষণ বেশি এবং স্বাস্থ্যকর খাবার বা শরীরচর্চার সুযোগ তুলনামূলক কম। ধূমপান ও দীর্ঘমেয়াদি মানসিক চাপের মতো বিষয়ও স্বাস্থ্যঝুঁকির সঙ্গে যুক্ত বলে গবেষকেরা উল্লেখ করেছেন।

তবে কোলোরেক্টাল ক্যানসারে তরুণদের মৃত্যুহার কেন বাড়ছে, তার নির্দিষ্ট কারণ এখনো পুরোপুরি জানা যায়নি। গবেষকেরা মনে করছেন, খাদ্যাভ্যাস, পরিবেশ দূষণ, চিকিৎসা নিতে দেরি করা এবং স্বাস্থ্যসেবায় অসম প্রবেশাধিকারের মতো একাধিক কারণ এতে ভূমিকা রাখতে পারে।

আমেরিকান ক্যানসার সোসাইটির হিসাব অনুযায়ী, চলতি বছর যুক্তরাষ্ট্রে এক লাখ ৫৮ হাজারের বেশি নতুন কোলোরেক্টাল ক্যানসারের ঘটনা শনাক্ত হতে পারে এবং ৫৫ হাজারের বেশি মানুষের মৃত্যু হতে পারে। ৬৫ বছরের কম বয়সীদের মধ্যে এ রোগের নতুন রোগীও এখন উল্লেখযোগ্য হারে বাড়ছে। ১৯৯০-এর দশকের তুলনায় এটি বড় পরিবর্তন, কারণ সে সময় রোগটি মূলত বয়স্কদের মধ্যেই বেশি দেখা যেত।

তরুণদের মধ্যে রোগটির ঝুঁকি বাড়তে থাকায় ২০২১ সালে আমেরিকান ক্যানসার সোসাইটি কোলোরেক্টাল ক্যানসারের নিয়মিত স্ক্রিনিং শুরুর সুপারিশ করা বয়স ৫০ থেকে কমিয়ে ৪৫ বছর করেছে। চিকিৎসকেরা একই সঙ্গে মলত্যাগের অভ্যাসে পরিবর্তন, অকারণে ওজন কমে যাওয়া, পেটে ব্যথা, মলের সঙ্গে রক্ত এবং দীর্ঘস্থায়ী ক্লান্তির মতো উপসর্গকে গুরুত্ব দেওয়ার পরামর্শ দিচ্ছেন।

গবেষণায় আরও বলা হয়েছে, ৫০ বছরের কম বয়সী কোলোরেক্টাল ক্যানসার রোগীদের প্রায় চারজনের মধ্যে তিনজনের ক্ষেত্রে রোগটি উন্নত পর্যায়ে শনাক্ত হয়। এর একটি কারণ হতে পারে, তরুণদের ক্ষেত্রে প্রাথমিক উপসর্গগুলো অনেক সময় গুরুত্ব দিয়ে দেখা হয় না। তাই বয়স কম হলেও অস্বাভাবিক উপসর্গ দীর্ঘদিন থাকলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া গুরুত্বপূর্ণ।

Logo

সম্পাদক ও প্রকাশক: মহিউদ্দিন সরকার