বিজ্ঞাপন
আকাশপথে কানাডায় ঢুকেই অ্যাসাইলাম চাইলেন মার্কিন নারী, হাতে ছিল চিরকুট
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ: ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১২:৫০ পিএম
বিজ্ঞাপন
যুক্তরাষ্ট্রের অ্যারিজোনা অঙ্গরাজ্যের ফিনিক্স থেকে কানাডার মন্ট্রিয়লগামী এয়ার কানাডার একটি ফ্লাইটে মাঝ আকাশে অ্যাসাইলাম চাওয়ার ঘটনা ঘটেছে। ২০ সেপ্টেম্বরের AC1730 ফ্লাইটে থাকা এক মার্কিন নারী হাতে লেখা নোটের মাধ্যমে কেবিন ক্রুদের কাছে কানাডায় আশ্রয় চাওয়ার কথা জানান। ফ্লাইটটি নির্ধারিত সময়েই মন্ট্রিয়লে পৌঁছায় এবং অবতরণের পর ওই যাত্রীকে নিয়ে কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয় বলে একাধিক প্রতিবেদনে জানা গেছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, ফিনিক্স স্কাই হারবার আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে মন্ট্রিয়ল ট্রুডো আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের উদ্দেশে উড্ডয়নের পর ওই নারী কেবিন ক্রুদের নজরে আসেন। তিনি ১৪ নম্বর সারিতে বসেছিলেন। তার আচরণ নিয়ে ক্রুদের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হলে তিনি জানান, তিনি মানসিক স্বাস্থ্যের জন্য ওষুধ সেবন করছেন। এরপর তিনি ফ্লাইট অ্যাটেনডেন্টদের হাতে হাতে লেখা কয়েকটি নোট দেন, যেখানে কানাডায় অ্যাসাইলাম চাওয়ার কথা উল্লেখ ছিল।
ঘটনার পর পাইলট ও ফ্লাইট অপারেশনের মধ্যে যোগাযোগ হয়। সংশ্লিষ্ট প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ককপিট থেকে জানানো হয় যে ওই যাত্রী শান্ত ছিলেন এবং বিমানের জন্য কোনো হুমকি তৈরি করছেন না। এ কারণে ফ্লাইটটি অন্য কোনো বিমানবন্দরে ঘুরিয়ে না নিয়ে নির্ধারিত গন্তব্য মন্ট্রিয়লের দিকেই এগিয়ে যায়।
প্রায় চার ঘণ্টা পর বিমানটি নিরাপদে মন্ট্রিয়লে অবতরণ করে। অবতরণের পর স্থানীয় কর্তৃপক্ষ ও সীমান্ত নিরাপত্তা কর্মকর্তারা ওই যাত্রীর সঙ্গে যোগাযোগ করেন এবং তার অ্যাসাইলাম আবেদনের বিষয়টি প্রক্রিয়াগতভাবে দেখার উদ্যোগ নেওয়া হয় বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। তবে ওই নারীর নাম, তার অ্যাসাইলাম চাওয়ার নির্দিষ্ট কারণ বা কানাডার কর্তৃপক্ষ তার দাবির বিষয়ে কী সিদ্ধান্ত নিয়েছে, তা প্রকাশ্যে জানা যায়নি।
কানাডার নিয়ম অনুযায়ী, বিমানবন্দরসহ দেশটির যেকোনো বৈধ প্রবেশপথে পৌঁছানোর পর কেউ অ্যাসাইলাম বা রিফিউজি প্রোটেকশনের দাবি করতে পারেন। তবে আবেদন করলেই তা গ্রহণযোগ্য বা অনুমোদিত হয় না। কানাডা বর্ডার সার্ভিসেস এজেন্সি বা সিবিএসএ প্রথমে আবেদনটি নির্ধারিত শর্ত পূরণ করে কি না তা যাচাই করে। যোগ্য হলে আবেদনটি ইমিগ্রেশন অ্যান্ড রিফিউজি বোর্ড অব কানাডার কাছে পাঠানো হয়, যেখানে আবেদনকারীর রিফিউজি হিসেবে সুরক্ষা পাওয়ার যোগ্যতা নির্ধারণ করা হয়।
কানাডা সরকারের তথ্য অনুযায়ী, অ্যাসাইলাম পাওয়ার জন্য আবেদনকারীকে দেখাতে হয় যে নিজ দেশে ফিরে গেলে নির্দিষ্ট ধরনের নিপীড়ন, নির্যাতন বা গুরুতর ক্ষতির ঝুঁকি রয়েছে। শুধু উন্নত জীবন, চাকরি, শিক্ষা বা কানাডায় দীর্ঘদিন থাকার ইচ্ছা অ্যাসাইলামের ভিত্তি নয়। আবেদনকারীর পরিচয়, ভ্রমণের ইতিহাস এবং দাবির পক্ষে থাকা তথ্যও যাচাই করা হয়।
এ ঘটনার ক্ষেত্রে যেহেতু যাত্রী একজন মার্কিন নাগরিক এবং তিনি যুক্তরাষ্ট্র থেকে সরাসরি বিমানে কানাডায় পৌঁছেছেন, তাই কানাডা ও যুক্তরাষ্ট্রের স্থলসীমান্তে প্রযোজ্য সেফ থার্ড কান্ট্রি এগ্রিমেন্টের নিয়মটি একইভাবে প্রযোজ্য নয়। কানাডা সরকারের বর্তমান নির্দেশনায়ও বলা হয়েছে, এই চুক্তির নির্দিষ্ট বিধিনিষেধ মার্কিন নাগরিকদের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য নয়।
মাঝ আকাশে একজন যাত্রীর হাতে লেখা নোট দিয়ে অ্যাসাইলাম চাওয়ার ঘটনাটি তাই ব্যতিক্রমী হলেও, কানাডায় অ্যাসাইলাম দাবি করার পরবর্তী প্রক্রিয়া নির্ধারিত ইমিগ্রেশন ও রিফিউজি আইনের অধীনেই পরিচালিত হবে। এখন ওই নারীর দাবির বিষয়ে কানাডার সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ কী সিদ্ধান্ত নেয়, সেটিই পরবর্তী গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।