Logo
Logo
×

বিজ্ঞাপন

আন্তর্জাতিক

কানাডা–ইউরোপ অর্থনৈতিক জোটে যুক্তরাজ্যকে যুক্ত হওয়ার আহ্বান কানাডার

Icon

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

প্রকাশ: ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০২:৫৩ এএম

কানাডা–ইউরোপ অর্থনৈতিক জোটে যুক্তরাজ্যকে যুক্ত হওয়ার আহ্বান কানাডার

বিজ্ঞাপন

কানাডা ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) মধ্যে প্রস্তাবিত নতুন অর্থনৈতিক জোটে যুক্তরাজ্যকে যুক্ত হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন কানাডার অর্থমন্ত্রী ফ্রাঁসোয়া-ফিলিপ শ্যাম্পেন। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসিকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, বদলে যাওয়া বৈশ্বিক ভূরাজনীতিতে একটি কার্যকর অর্থনৈতিক বলয় গড়ে তুলতে অংশীদারত্বের ধরন নতুন করে সংজ্ঞায়িত করতে হবে। যুক্তরাজ্য ও কানাডার মূল্যবোধ এবং বৈশ্বিক দৃষ্টিভঙ্গি এক হওয়ায় এই জোটে তাদের যৌথ অংশগ্রহণ অত্যন্ত সময়োপযোগী হতে পারে বলে তিনি মন্তব্য করেন।

সম্প্রতি ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভন ডার লিয়েন কানাডাকে ইইউ-এর প্রথম ‘সহযোগী সদস্য’ (Associate Member) করার নজিরবিহীন এক প্রস্তাব দেন। এরপরই কানাডার প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নি স্ট্রাসবার্গে ইউরোপীয় পার্লামেন্টে ভাষণ দেন। ব্যাংক অব ইংল্যান্ডের সাবেক এই গভর্নর দীর্ঘদিন ধরে মাঝারি শক্তির গণতান্ত্রিক দেশগুলোর মধ্যে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি, বৈশ্বিক স্থিতিস্থাপকতা ও নিরাপত্তা নিশ্চিতে একটি যৌথ জোট গড়ে তোলার পক্ষে মত দিয়ে আসছেন।

শ্যাম্পেন জানান, বৈশ্বিক শক্তির ভারসাম্য বদলের সাথে সাথে মধ্যম শক্তির দেশগুলোর এমন সম্মিলিত উদ্যোগই হবে মূলত ‘ভবিষ্যতের জোট’।

যুক্তরাষ্ট্রের সাথে কানাডার ক্রমবর্ধমান বাণিজ্য সংঘাতের পটভূমিতে এই উদ্যোগ বিশেষভাবে তাৎপর্যপূর্ণ। গত মাসে মার্কিন প্রশাসনের সাথে আলোচনা ভেস্তে যাওয়ার পর উভয় পক্ষই পাল্টা শুল্ক আরোপ শুরু করে। শ্যাম্পেন স্পষ্ট জানান, নিজের দেশের শিল্প ও শ্রমিকদের অর্থনৈতিক সার্বভৌমত্ব রক্ষার্থেই অটোয়া শুল্কের জবাবে পাল্টা শুল্ক আরোপ করতে বাধ্য হয়েছে।

তবে উত্তেজনার পারদ না বাড়িয়ে উপযুক্ত সময়ে ওয়াশিংটনের সাথে তারা পুনরায় সংলাপে বসতে প্রস্তুত বলেও উল্লেখ করেন তিনি। অন্যদিকে, ডোনাল্ড ট্রাম্প এই সহযোগী সদস্যপদের পরিকল্পনাকে উপহাস করার পাশাপাশি ইউরোপ ও কানাডার বিরুদ্ধে আরও কঠোর বাণিজ্য পদক্ষেপের হুমকি দিয়ে রেখেছেন।

যদিও কানাডার ‘সহযোগী সদস্যপদ’-এর রূপরেখা এখনো চূড়ান্ত হয়নি, তবে এই প্রক্রিয়ার মাধ্যমে ইউরোপীয় ইউনিয়নের প্রযুক্তি, শিক্ষা, গবেষণা তহবিল ও প্রতিরক্ষা খাতে সমন্বয়ের ব্যাপক সুযোগ তৈরি হবে বলে আশা করা হচ্ছে। পাশাপাশি কানাডার খনিজ সম্পদ ও জ্বালানি ইউরোপের সরবরাহ সংকট নিরসনে ভূমিকা রাখতে পারে।

এছাড়া ব্রেক্সিট-পরবর্তী বাস্তবতায় ইউরোপ ও আমেরিকার সঙ্গে সম্পর্কের ভারসাম্য বজায় রাখা ব্রিটেনের জন্য এই জোট নতুন একটি কূটনৈতিক ও অর্থনৈতিক সমীকরণ তৈরি করতে পারে।

Logo

সম্পাদক ও প্রকাশক: মহিউদ্দিন সরকার