বিজ্ঞাপন
জন্মের পর বলা হয়েছিল বেশিদিন বাঁচবেন না, সেই ক্লাউদিওই আজ বিশ্বজুড়ে অনুপ্রেরণা
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ: ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০২:৫২ এএম
বিজ্ঞাপন
ব্রাজিলের ক্লাউদিও ভিয়েরা ডি অলিভেইরা ১৯৭৬ সালে এক বিরল শারীরিক অবস্থা নিয়ে জন্মগ্রহণ করেন। এই বিরল রোগের কারণে তার জয়েন্ট ও পেশিগুলোর বিকাশ স্বাভাবিকভাবে হয়নি, এমনকি তার মাথাটিও পেছনের দিকে উল্টানো বা বাঁকানো অবস্থায় থাকে।
জন্মের পর তার অস্বাভাবিক শারীরিক গঠন দেখে চিকিৎসকরা আশঙ্কা করেছিলেন যে তিনি হয়তো বেশিদিন বাঁচবেন না। তবে চারপাশের সব নেতিবাচক ধারণা ও শঙ্কাকে ভুল প্রমাণ করে ক্লাউদিও আজ জীবনযুদ্ধে এক অনন্য বিজয়ী হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছেন।
শারীরিক সীমাবদ্ধতা সত্ত্বেও মায়ের অকৃত্রিম ভালোবাসা ও সমর্থন ক্লাউদিওকে আত্মনির্ভরশীল হতে সাহায্য করেছে। দৈনন্দিন জীবনের সব কাজ করার জন্য তিনি নিজের মতো করে অভিনব উপায় বের করে নেন। মুখে কলম আটকে টাইপ করা থেকে শুরু করে নিজে নিজে পড়া, লেখা এমনকি স্বাধীনভাবে কম্পিউটার ব্যবহারের কৌশলও তিনি আয়ত্ত করেন।
পড়াশোনায় অদম্য ক্লাউদিও পরবর্তীতে অ্যাকাউন্টিং বা হিসাববিজ্ঞানে ডিগ্রি অর্জন করেন এবং নিজের একটি সফল পেশাদার ক্যারিয়ার গড়ে তোলেন। এর মধ্য দিয়ে তিনি বিশ্ববাসীর কাছে প্রমাণ করেছেন যে, শারীরিক গঠন বা প্রতিবন্ধকতা কখনোই কোনো মানুষের মেধা ও সক্ষমতাকে সংজ্ঞায়িত করতে পারে না।
সময়ের পরিক্রমায় বিভিন্ন টেলিভিশন অনুষ্ঠান, সংবাদমাধ্যমের ডকুমেন্টারি এবং পাবলিক ইভেন্টের মাধ্যমে ক্লাউদিও বিশ্বজুড়ে ব্যাপক পরিচিতি লাভ করেন। বর্তমানে তিনি বিশ্বের বিভিন্ন দেশে ভ্রমণ করে নিজের জীবনসংগ্রামের অভিজ্ঞতা মানুষের মাঝে ছড়িয়ে দিচ্ছেন।
বিশেষত প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের অধিকার, সমাজের সর্বস্তরে তাদের প্রবেশগম্যতা এবং মানসিক দৃঢ়তার বিষয়ে সচেতনতা তৈরিতে তিনি জোরালো ভূমিকা রাখছেন। ক্লাউদিওর এই অবিশ্বাস্য পথচলা আমাদের মনে করিয়ে দেয় যে—সঠিক সমর্থন, সুযোগ এবং অদম্য ইচ্ছাশক্তি থাকলে যেকোনো মানুষ সমাজের প্রচলিত প্রত্যাশার চেয়েও অনেক বড় কিছু অর্জন করতে পারে।