বিজ্ঞাপন
৫৪ হাজার ডলারের এইচ-১বি ইন্টার্নশিপ, যুক্তরাষ্ট্রে বিতর্কের কেন্দ্রে ভার্জিনিয়া টেক
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ: ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৪:০১ এএম
বিজ্ঞাপন
যুক্তরাষ্ট্রের অন্যতম প্রধান শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ভার্জিনিয়া টেক সম্প্রতি বার্ষিক ৫৪ হাজার ডলার বেতনে একজন 'রোটেটিং ইন্টার্ন' নিয়োগের জন্য এইচ-ওয়ানবি (H-1B) ভিসার আবেদন করেছে। এই খবর প্রকাশ্যে আসার পর থেকেই যুক্তরাষ্ট্রের শ্রমবাজারে দেশীয় কর্মীদের সুযোগ থেকে বঞ্চিত করে বিদেশি কর্মী আনার অভিযোগ তুলে তীব্র বিতর্ক শুরু হয়েছে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে (সাবেক টুইটার) ক্রিস ব্রুনেট নামের এক ব্যক্তি মার্কিন শ্রম দপ্তরের একটি লেবার কন্ডিশন অ্যাপ্লিকেশনের (LCA) ছবি শেয়ার করে দাবি করেন, এই পদের জন্য কোনো যোগ্য মার্কিন নাগরিক পাওয়া যায়নি বলেই প্রতিষ্ঠানটি বিদেশি কর্মী নিয়োগের উদ্যোগ নিয়েছে। তার এই পোস্টটি শেয়ার করে মার্কিন প্রতিনিধি পরিষদের সদস্য (রিপাবলিকান) রাইলি এম. মুর এইচ-ওয়ানবি ভিসা কর্মসূচির তীব্র সমালোচনা করেন।
৫৪ হাজার ডলার বেতনের একটি ইন্টার্ন পদের জন্য একজনও যোগ্য আমেরিকান খুঁজে না পাওয়ার বিষয়টিতে বিস্ময় প্রকাশ করে তিনি এই কর্মসূচিকে ‘স্ক্যাম’ বা প্রতারণা আখ্যা দেন এবং অবিলম্বে এটি বন্ধের দাবি জানান।
তবে অনলাইনে ছড়িয়ে পড়া এই নথিটি মূলত একটি এলসিএ (LCA), যা এইচ-ওয়ানবি ভিসা প্রক্রিয়ার একটি প্রাথমিক ধাপ মাত্র। মার্কিন শ্রম দপ্তরের নিয়ম অনুযায়ী, কোনো প্রতিষ্ঠান বিদেশি কর্মী নিয়োগের আগে এই আবেদন করে থাকে। এর মানে এই নয় যে, কোনো বিদেশি কর্মীকে ইতোমধ্যেই নিয়োগ দেওয়া সম্পন্ন হয়েছে বা ভিসা চূড়ান্তভাবে অনুমোদিত হয়ে গেছে।
এলসিএ জমা দেওয়ার সময় নিয়োগকর্তাকে আইনিভাবে নিশ্চিত করতে হয় যে, তারা কর্মীকে নির্দিষ্ট বা প্রচলিত মজুরি প্রদান করবে এবং এর ফলে সমমনা দেশীয় কর্মীদের কাজের পরিবেশ কোনোভাবেই ক্ষতিগ্রস্ত হবে না।
ভার্জিনিয়া টেকের ক্ষেত্রে কেবল এই এলসিএ নথির ওপর ভিত্তি করে এমনটি প্রমাণ করার কোনো সুযোগ নেই যে, তারা মার্কিন কর্মীদের বাদ দিয়ে ইচ্ছে করেই বিদেশি কর্মী নিয়োগ দিচ্ছে কিংবা ওই পদের জন্য কতজন মার্কিনি আবেদন করেছিলেন।
পাবলিক ডেটাবেস থেকে প্রাপ্ত তথ্যানুযায়ী, ভার্জিনিয়া টেক (যার আইনি নাম ভার্জিনিয়া পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট অ্যান্ড স্টেট ইউনিভার্সিটি) এর আগেও 'রোটেটিং ইন্টার্ন' পদের জন্য এইচ-ওয়ানবি ভিসার আবেদন করেছিল, যেখানে ২০২৩ থেকে ২০২৫ সাল পর্যন্ত বেতনসীমা ছিল ৪০ হাজার থেকে ৫২ হাজার ডলারের মধ্যে।
এইচ-ওয়ানবি প্রোগ্রামটি মূলত উচ্চ দক্ষতাসম্পন্ন ও বিশেষায়িত পদের জন্য তৈরি হলেও, 'রোটেটিং ইন্টার্ন' পদের জন্য এই ভিসার ব্যবহার এবং এর বেতনকাঠামো নিয়ে ওয়াশিংটনে নতুন করে সমালোচনার ঝড় উঠেছে। সমালোচকদের দাবি, যে কাজগুলো মার্কিন কর্মীরা খুব সহজেই করতে পারেন, সেগুলোর জন্যই সস্তা বিদেশি শ্রমিকের খোঁজে এই ভিসার অপব্যবহার করা হচ্ছে কি না, তা গভীরভাবে খতিয়ে দেখার সময় এসেছে।