Logo
Logo
×

বিজ্ঞাপন

আন্তর্জাতিক

ট্রাম্পের নিষেধাজ্ঞার পর হোয়াইট হাউসে ঢুকতে পারলেন না সিএনএন, এমএস নাউ ও পলিটিকোর সাংবাদিকরা

Icon

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

প্রকাশ: ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০২:০২ এএম

ট্রাম্পের নিষেধাজ্ঞার পর হোয়াইট হাউসে ঢুকতে পারলেন না সিএনএন, এমএস নাউ ও পলিটিকোর সাংবাদিকরা

বিজ্ঞাপন

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নিষেধাজ্ঞা ঘোষণার একদিন পর শনিবার হোয়াইট হাউসে ঢুকতে পারেননি সিএনএন, এমএস নাউ ও পলিটিকোর সাংবাদিকরা। শুক্রবার ট্রাম্প এই তিন সংবাদমাধ্যমকে হোয়াইট হাউসে নিষিদ্ধ করার ঘোষণা দেওয়ার পর শনিবার সকালে তাদের সাংবাদিকদের প্রবেশে বাধা দেওয়া হয়। সংশ্লিষ্ট সংবাদমাধ্যম, রয়টার্স ও অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসের প্রতিবেদনে বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে।

সিবিএস নিউজের প্রত্যক্ষ পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, শনিবার সকাল ৮টার দিকে এমএস নাউয়ের সংবাদদাতা আকায়লা গার্ডনার ও একজন ক্যামেরাকর্মী হোয়াইট হাউসে প্রবেশের চেষ্টা করেন। এ সময় তাদের প্রবেশের অনুমতিপত্র অকার্যকর করে দেওয়া হয় এবং তারা প্রবেশ করতে পারেননি। গার্ডনার জানান, অনুমতিপত্র দিয়ে প্রবেশের চেষ্টা করলে সেটি অকার্যকর দেখায়। কারণ জানতে চাইলে নিরাপত্তাকর্মী তাকে বলেন, বিষয়টি তার ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের পর্যায়ের।

সিএনএনের জ্যেষ্ঠ হোয়াইট হাউস প্রতিবেদক বেটসি ক্লেইনের প্রবেশের অনুমতিপত্রও অকার্যকর করে দেওয়া হয়। তিনি শনিবার হোয়াইট হাউসে প্রবেশের চেষ্টা করেও ঢুকতে পারেননি। সিবিএস নিউজ জানিয়েছে, তাদের সাংবাদিক ও ক্যামেরাকর্মীকে হোয়াইট হাউসের প্রাঙ্গণে প্রবেশের চেষ্টা করতে দেখা যায় এবং পরে তারা অনুমতিপত্র ছাড়া সেখান থেকে চলে যান।

পলিটিকোর হোয়াইট হাউস প্রতিবেদক শেয়েন হাসলেটকেও শনিবার সকালে প্রবেশ করতে দেওয়া হয়নি। পলিটোর তথ্য অনুযায়ী, গোপন নিরাপত্তা সংস্থার সদস্যরা তাকে থামিয়ে দেন এবং তার প্রবেশের অনুমতিপত্র নিয়ে নেন। ফলে তিনটি সংবাদমাধ্যমের সাংবাদিকদের ক্ষেত্রেই ট্রাম্পের আগের দিনের ঘোষণার পর বাস্তবে প্রবেশাধিকার বন্ধ করা হয়েছে।

এর আগে শুক্রবার ট্রাম্প সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক বার্তায় সিএনএন, এমএস নাউ ও পলিটোকে হোয়াইট হাউসে নিষিদ্ধ করার ঘোষণা দেন। তিনি এসব সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনকে মিথ্যা সংবাদ হিসেবে উল্লেখ করেন এবং অভিযোগ করেন, তারা তার প্রশাসন ও যুক্তরাষ্ট্র নিয়ে মিথ্যা তথ্য প্রকাশ করে। ট্রাম্প আরও ইঙ্গিত দেন, ভবিষ্যতে অন্য সংবাদমাধ্যমগুলোকেও নিষেধাজ্ঞার আওতায় আনা হতে পারে।

ওভাল অফিসে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার সময় ট্রাম্পকে এ সিদ্ধান্তের কারণ জানতে চাওয়া হলে তিনি বলেন, এসব সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন নিয়ে তিনি ক্লান্ত। তিনি কোনো নির্দিষ্ট প্রতিবেদনের কথা উল্লেখ না করে গত কয়েক বছরের সামগ্রিক সংবাদ কাভারেজের কথা বলেন। ট্রাম্প আরও বলেন, তিনি অসৎ সংবাদমাধ্যম পছন্দ করেন না।

ট্রাম্পের ঘোষণার পর সিএনএন, এমএস নাউ ও পলিটিকো তাদের সাংবাদিকতার অধিকার রক্ষার কথা জানিয়েছে। সিএনএন বলেছে, হোয়াইট হাউস ও মার্কিন সরকারের কর্মকাণ্ড নিয়ে প্রতিবেদন করার দায়িত্ব তারা অব্যাহত রাখবে। প্রতিষ্ঠানটি তাদের হোয়াইট হাউস দলের প্রতি সমর্থনও জানিয়েছে।

এমএস নাউ জানিয়েছে, তাদের সাংবিধানিক অধিকার এবং স্বাধীন সাংবাদিকতার ভূমিকা রক্ষায় প্রয়োজনীয় সব পদক্ষেপ নেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। পলিটোর প্রধান সম্পাদক জোনাথন গ্রিনবার্গারও প্রতিবেদক শেয়েন হাসলেট এবং হোয়াইট হাউস কাভার করা অন্য সাংবাদিকদের পাশে থাকার কথা জানিয়েছেন। প্রতিষ্ঠানটি সাংবিধানিক অধিকার রক্ষায় আইনি পদক্ষেপ নেওয়ার কথাও জানিয়েছে।

হোয়াইট হাউস সংবাদদাতা সমিতিও তিন সংবাদমাধ্যমের সাংবাদিকদের প্রতি সমর্থন জানিয়েছে। সংগঠনটির সভাপতি ও ফক্স নিউজের প্রতিবেদক জ্যাকুই হাইনরিশ বলেছেন, সিএনএন, এমএস নাউ ও পলিটোর সহকর্মীদের পক্ষে সংগঠনটি অবস্থান করছে।

এই ঘটনায় যুক্তরাষ্ট্রের সংবিধানের প্রথম সংশোধনী এবং সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা নিয়ে আইনি প্রশ্নও সামনে এসেছে। সিবিএস নিউজের আইনবিষয়ক সহযোগী জেসিকা লেভিনসন ট্রাম্পের সর্বশেষ পদক্ষেপকে সংবাদবিষয়ক মতের ভিত্তিতে বৈষম্যের সঙ্গে তুলনা করেছেন। তবে এটি তার আইনি বিশ্লেষণ, আদালতের চূড়ান্ত রায় নয়।

এর আগে ট্রাম্প প্রশাসনের সঙ্গে অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসেরও হোয়াইট হাউস প্রবেশাধিকার নিয়ে বিরোধ হয়েছিল। ২০২৫ সালে মেক্সিকো উপসাগরের নাম পরিবর্তন করে ট্রাম্পের নির্ধারিত নাম ব্যবহার না করায় অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসের প্রবেশাধিকার সীমিত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়। পরে সংবাদমাধ্যমটি সংবিধানের প্রথম সংশোধনীর অধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগে মামলা করে। ২০২৫ সালের এপ্রিলে একটি ফেডারেল আদালত হোয়াইট হাউসকে অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসের প্রেসিডেন্টের বিভিন্ন স্থানে প্রবেশাধিকার পুনর্বহালের নির্দেশ দেয়। পরে আপিল আদালতের মাধ্যমে কিছু সীমিত স্থানে প্রবেশাধিকার নিয়ে বিরোধ চলতে থাকে।

ট্রাম্পের প্রথম মেয়াদেও সিএনএনের তৎকালীন প্রতিবেদক জিম অ্যাকোস্টার প্রেস অনুমতিপত্র নিয়ে বিরোধ হয়েছিল। সিএনএন মামলা করার পর একজন ফেডারেল বিচারক তার অনুমতিপত্র পুনর্বহালের নির্দেশ দেন। সর্বশেষ ঘটনায় সিএনএন, এমএস নাউ ও পলিটিকোর সাংবাদিকদের প্রবেশাধিকার বন্ধ হওয়ার পর সংবাদমাধ্যমগুলোর সাংবিধানিক অধিকার এবং হোয়াইট হাউসের সংবাদ কভারেজ নিয়ে নতুন করে আইনি বিতর্ক তৈরি হয়েছে।

সূত্র: সিবিএস নিউজ

Logo

সম্পাদক ও প্রকাশক: মহিউদ্দিন সরকার