Logo
Logo
×

বিজ্ঞাপন

আন্তর্জাতিক

ফিলাডেলফিয়ায় কুখ্যাত পর্নোগ্রাফারের বাড়িতে বিপুল ভিডিও, নিখোঁজ ৭ নারীকে ঘিরে তদন্ত

Icon

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

প্রকাশ: ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০২:০৬ পিএম

ফিলাডেলফিয়ায় কুখ্যাত পর্নোগ্রাফারের বাড়িতে বিপুল ভিডিও, নিখোঁজ ৭ নারীকে ঘিরে তদন্ত

বিজ্ঞাপন

যুক্তরাষ্ট্রের পেনসিলভানিয়া অঙ্গরাজ্যের ফিলাডেলফিয়ার একটি বাড়ি থেকে উদ্ধার হওয়া এক মিলিয়নের বেশি ছবি ও ভিডিওকে ঘিরে ভয়াবহ তদন্তে অন্তত ৭ নিখোঁজ নারীর সন্ধান মিলেছে। পুলিশ জানিয়েছে, উদ্ধার করা ডিজিটাল তথ্যের মধ্যে ৫ নারীকে মৃত বা মৃত অবস্থায় দেখা গেছে বলে তদন্তকারীদের ধারণা, আর আরও ২ নারী এখনো নিখোঁজ। তবে এখন পর্যন্ত ওই নারীদের কোনো মরদেহ উদ্ধার হয়নি এবং হত্যাকাণ্ডের অভিযোগে কাউকে অভিযুক্তও করা হয়নি।

তদন্তের কেন্দ্রবিন্দু ফিলাডেলফিয়ার অলনি এলাকার ওয়েস্ট চিউ অ্যাভিনিউয়ের একটি বাড়ি। বাড়িটিতে দীর্ঘদিন বসবাস করতেন প্রয়াত রেমন্ড ‘আরসি’ হর্শ এবং তার ছেলে ইউজিন হর্শ। রেমন্ড হর্শ ২০২৫ সালে ৮২ বছর বয়সে মারা যান। তিনি যৌনধর্মী ছবি ও ভিডিও নির্মাণের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন এবং তার কাজের বড় একটি ডিজিটাল সংগ্রহ বাড়িটিতে সংরক্ষিত ছিল।

ফিলাডেলফিয়া পুলিশের ডেপুটি কমিশনার ফ্র্যাঙ্ক ভ্যানোরে জানিয়েছেন, তদন্তকারীরা এখন পর্যন্ত উদ্ধার করা ডিজিটাল তথ্যের প্রায় ৩০ শতাংশ পর্যালোচনা করেছেন। এর মধ্যেই ৫৮ জনকে শনাক্ত করা হয়েছে। তাদের মধ্যে ১৬ জনকে জীবিত অবস্থায় খুঁজে পাওয়া গেছে এবং তাদের সাক্ষাৎকার নেওয়া হয়েছে। আরও ২৫ জনকে শনাক্ত করে তাদের সঙ্গে কথা বলার চেষ্টা চলছে। তদন্তকারীদের মতে, আরও বিপুল পরিমাণ ছবি ও ভিডিও এখনো পর্যালোচনা করা বাকি।

নতুন করে তদন্তে যুক্ত হয়েছে আরও দুই নারী। পুলিশ জানিয়েছে, একটি ভিডিও ও ছবিতে প্রায় ২৫ বছর বয়সী এক নারীকে অচেতন ও শরীরে আঘাতের চিহ্নসহ দেখা গেছে। পরিবারটির অনুরোধে তার পরিচয় প্রকাশ করা হয়নি। আরেকটি ছবিতে মধ্য বিশের এক নারীকে আহত ও প্রাণহীন অবস্থায় দেখা গেছে বলে তদন্তকারীরা জানিয়েছেন। তার পরিচয় এখনো নিশ্চিত করা যায়নি। এর আগে আরও তিন নারীকে শনাক্ত করে তাদের মৃত বলে ধারণা করেছিল পুলিশ।

তদন্তে আলোচিত নারীদের মধ্যে রয়েছেন গ্যাব্রিয়েল আমারান্দো, মারিবেল ফ্রেসেস ও নিকোল ফুসারো। ফুসারো ২০১৮ সালে ২৭ বছর বয়সে নিখোঁজ হন। পুলিশ জানিয়েছে, উদ্ধার করা একটি ভিডিওতে রেমন্ড হর্শকে তার গলায় বাঁধন দেওয়ার মতো আচরণ করতে দেখা যায়। তবে তার মরদেহ এখনো উদ্ধার হয়নি। আরও দুই নিখোঁজ নারী হলেন ব্লেয়ার টনজেলি ও অ্যামি ম্যাকহেল। টনজেলি ২০২৩ সালে নিখোঁজ হন। ম্যাকহেল ছিলেন রেমন্ড হর্শের সাবেক স্ত্রী এবং ২০১৬ সালে নিখোঁজ হন।

তদন্তের শুরু হয় চলতি বছরের জুনে ইউজিন হর্শ গ্রেপ্তার হওয়ার পর। ফিলাডেলফিয়ায় তাকে অস্ত্র ও মাদকসংক্রান্ত অভিযোগে আটক করা হয়। তার কাছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ভুয়া পরিচয়পত্রও পাওয়া যায় বলে পুলিশ জানিয়েছে। তার সঙ্গে থাকা এক নারীর কাছে ব্লেয়ার টনজেলির পরিচয়পত্র পাওয়ার পর তদন্তকারীদের নজর আরও গভীরভাবে ওই বাড়ির দিকে যায়। পরে বাড়িতে তল্লাশি চালিয়ে বিপুল পরিমাণ ছবি, ভিডিও, কম্পিউটার সরঞ্জাম, রাসায়নিক পদার্থ এবং অন্যান্য আলামত উদ্ধার করা হয়।

বাড়িতে পাওয়া রাসায়নিক পদার্থ নিয়েও তদন্ত চলছে। কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, সেখানে একটি কথিত ল্যাবরেটরির মতো জায়গা, বিভিন্ন রাসায়নিকের পাত্র এবং পাঁচটি ছাই রাখার পাত্র পাওয়া গেছে। এর মধ্যে কিছু পাত্রে মানুষের দেহাবশেষ থাকতে পারে বলে তদন্তকারীদের ধারণা রয়েছে। তবে এসব দেহাবশেষ নিখোঁজ নারীদের কারও কি না, তা এখনো নিশ্চিত হয়নি। তদন্তকারীরা রাসায়নিকগুলো কোনোভাবে প্রমাণ নষ্ট বা দেহাবশেষ গোপন করার কাজে ব্যবহার করা হয়েছিল কি না, সেটিও খতিয়ে দেখছেন।

তদন্ত আরও জটিল হয়েছে কারণ রেমন্ড হর্শের তৈরি অনেক ছবি ও ভিডিওতে সহিংসতার দৃশ্য ছিল। পুলিশ জানিয়েছে, এসবের কিছু দৃশ্য সাজানো বা অভিনয় হতে পারে। আবার কিছু দৃশ্য বাস্তব সহিংসতার ঘটনাও হতে পারে বলে তদন্তকারীদের আশঙ্কা। তাই ভিডিওতে দেখা প্রতিটি ঘটনা আলাদাভাবে যাচাই করা হচ্ছে। পুলিশ বলেছে, শুধু ভিডিওর দৃশ্যের ওপর ভিত্তি করে কোনো ঘটনাকে হত্যাকাণ্ড হিসেবে চূড়ান্ত ঘোষণা করতে তারা সতর্কভাবে প্রমাণ যাচাই করছে।

ফিলাডেলফিয়া পুলিশ ও এফবিআই যৌথভাবে তদন্ত চালাচ্ছে। এফবিআই ফিলাডেলফিয়া বিভাগের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ওয়েইন জ্যাকবস জানিয়েছেন, চলতি মাসের শেষ দিকে বাড়িটিতে আরও তল্লাশি চালানো হবে। কর্মকর্তারা বলছেন, তদন্তের লক্ষ্য দ্রুত সিদ্ধান্তে পৌঁছানো নয়, বরং উদ্ধার করা বিপুল ডিজিটাল তথ্যের প্রতিটি অংশ যথাসম্ভব যাচাই করে নিখোঁজ নারীদের পরিচয় ও তাদের সঙ্গে কী ঘটেছিল, তার উত্তর খুঁজে বের করা।

ইউজিন হর্শ বর্তমানে ফেডারেল হেফাজতে রয়েছেন। তার বিরুদ্ধে অস্ত্র ও ভুয়া আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পরিচয়পত্রসংক্রান্ত ফেডারেল অভিযোগ রয়েছে। তবে নিখোঁজ নারীদের মৃত্যু বা হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় এখনো তার বিরুদ্ধে অভিযোগ আনা হয়নি। একইভাবে, রেমন্ড হর্শ ২০২৫ সালে মারা যাওয়ায় তার বিরুদ্ধেও এসব ঘটনায় কোনো ফৌজদারি অভিযোগ আনা সম্ভব হয়নি। তদন্তকারীরা এখনো ডিজিটাল প্রমাণ, রাসায়নিক পদার্থ, নিখোঁজ ব্যক্তিদের তথ্য এবং অন্যান্য আলামত মিলিয়ে দেখছেন।

তদন্তকারীদের হাতে থাকা তথ্যের মাত্র একাংশ এখনো পর্যালোচনা করা হয়েছে। ফলে ফিলাডেলফিয়ার ওই বাড়িকে ঘিরে নিখোঁজ নারীদের রহস্যের পুরো চিত্র এখনো স্পষ্ট হয়নি। পুলিশ জানিয়েছে, আরও তথ্য যাচাই ও নতুন তল্লাশি শেষ না হওয়া পর্যন্ত ঘটনাগুলোর চূড়ান্ত ব্যাখ্যা দেওয়া সম্ভব নয়।

Logo

সম্পাদক ও প্রকাশক: মহিউদ্দিন সরকার