বিজ্ঞাপন
প্রশান্ত মহাসাগরের তলদেশে পাওয়া গেল বিপুল পরিমাণে সোনা-রুপার উচ্চ ঘনত্বের খনিজভান্ডার
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ: ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৪:৪৮ পিএম
বিজ্ঞাপন
পশ্চিম প্রশান্ত মহাসাগরের গভীর সমুদ্রতলে বিপুল পরিমাণ সোনা ও রুপার উপস্থিতি থাকা একটি বড় খনিজভান্ডারের সন্ধান পেয়েছেন চীনা গবেষকেরা। চীনের অর্থনৈতিক অঞ্চলের মধ্যে পরিচালিত ১৮ দিনের এক সমুদ্র অভিযানে উচ্চ তাপমাত্রার হাইড্রোথার্মাল এলাকায় এই খনিজভান্ডারের সন্ধান মেলে।
চীনের সিংহুয়া বিশ্ববিদ্যালয়, চিংদাও ইনস্টিটিউট অব মেরিন জিওলজি, সাংহাই জিয়াও থং বিশ্ববিদ্যালয়সহ কয়েকটি প্রতিষ্ঠানের গবেষকেরা যৌথভাবে এ অভিযান পরিচালনা করেন। গবেষণা জাহাজ শিয়াং ইয়াং হং ১০ গত ১০ আগস্ট শেনজেন থেকে যাত্রা করে। অভিযানের সময় গবেষকেরা সাবমার্সিবল ব্যবহার করে সমুদ্রতলে সাতবার ডুব দেন।
গবেষকদের প্রাথমিক বিশ্লেষণে দেখা গেছে, সমুদ্রতল থেকে সংগ্রহ করা কিছু আকরিকের প্রতি টনে সর্বোচ্চ ১৫ দশমিক ৪ গ্রাম সোনা এবং ১ হাজার ২৭১ গ্রাম পর্যন্ত রুপা রয়েছে। গবেষকেরা বলছেন, কিছু নমুনায় সোনা ও রুপার ঘনত্ব স্থলভাগের অনেক খনিজভান্ডারের তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে বেশি পাওয়া গেছে। তবে এগুলো প্রাথমিক নমুনা বিশ্লেষণের ফল এবং পুরো এলাকার মোট মজুত নির্ধারণে আরও গবেষণা প্রয়োজন।
অভিযানে সমুদ্রতলে শঙ্কু আকৃতির তিনটি বড় খনিজ স্তর শনাক্ত করা হয়েছে। এগুলো মূলত হাইড্রোথার্মাল তরল থেকে তৈরি সালফাইডের স্তর। এ ধরনের খনিজভান্ডারে সাধারণত তামা, দস্তা ও সিসার পাশাপাশি সোনা ও রুপা পাওয়া যায়। নতুন আবিষ্কৃত এলাকায় এসব ধাতুর সম্ভাব্য উপস্থিতি নিয়ে গবেষকেরা আরও বিস্তারিত অনুসন্ধান চালাচ্ছেন।
চীনা গবেষকদের দাবি, পশ্চিম প্রশান্ত মহাসাগরের ওই ব্যাক-আর্ক অববাহিকায় থাকা পলিমেটালিক সালফাইডের সম্ভাব্য মজুত বিশ্বের গুরুত্বপূর্ণ সমুদ্রতলীয় খনিজভান্ডারের পর্যায়ে পৌঁছাতে পারে। গবেষণা দলের বিজ্ঞানী সং শিজির মতে, আবিষ্কৃত বিশাল সমুদ্রতলীয় খনিজ এলাকার অর্থনৈতিক মূল্য উল্লেখযোগ্য হতে পারে।
তবে এই আবিষ্কারকে এখনই বাণিজ্যিকভাবে উত্তোলনযোগ্য সোনার খনি হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। সমুদ্রের গভীর তলদেশ থেকে খনিজ উত্তোলন প্রযুক্তিগতভাবে অত্যন্ত জটিল। একই সঙ্গে গভীর সমুদ্রে খনন কার্যক্রমের পরিবেশগত প্রভাব নিয়েও আন্তর্জাতিকভাবে বিতর্ক রয়েছে। সমুদ্রতলের এসব এলাকায় বিশেষ ধরনের সামুদ্রিক জীববৈচিত্র্য থাকায় ভবিষ্যতে খনন শুরু হলে পরিবেশের ওপর সম্ভাব্য প্রভাব নিয়ে আরও গবেষণার প্রয়োজন হবে।
চীনা রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, খনিজভান্ডারটি চীনের একচেটিয়া অর্থনৈতিক অঞ্চলের মধ্যে অবস্থিত। তবে এর সুনির্দিষ্ট অবস্থান প্রকাশ করা হয়নি। গবেষকদের এই আবিষ্কার গভীর সমুদ্রের খনিজসম্পদ নিয়ে বৈশ্বিক আগ্রহ আরও বাড়াতে পারে।