বিজ্ঞাপন
বাড়ি গুছাতে গিয়ে স্বামীর লুকানো ১ লাখ ১৩ হাজার পাউন্ডের সোনার মুদ্রা খুঁজে পেলেন বিধবা
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ: ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০২:২৯ এএম
বিজ্ঞাপন
যুক্তরাজ্যের কর্নওয়ালের পেনজ্যান্সে বাড়ি গুছাতে গিয়ে বিস্কুটের পুরোনো একটি টিনে ১ লাখ ১৩ হাজার পাউন্ডের বেশি মূল্যের সোনার মুদ্রার সন্ধান পেয়েছেন এক বিধবা। প্রায় ৫০ বছর ধরে টিনটির ভেতর সেগুলো লুকিয়ে রেখেছিলেন তাঁর প্রয়াত স্বামী। অবিশ্বাস্য এই সঞ্চয়ের কথা স্ত্রী নিজেও জানতেন না।
দ্য ইন্ডিপেনডেন্টের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বাড়ির একটি শেড পরিষ্কার করার সময় ভারী টিনটি পাওয়া যায়। সেটি খুলে প্রথমে কিছু রুপার মুদ্রা দেখা গেলেও পরে নিচের দিকে খুঁজে পাওয়া যায় বিপুল পরিমাণ সোনার মুদ্রা। মুদ্রাগুলো আলাদা প্যাকেটে রাখা ছিল। সঙ্গে ছিল সেগুলো কেনার সময়ের কাগজপত্র এবং একটি পুরোনো পকেট মানি গাইড।
টিনটিতে ছিল দক্ষিণ আফ্রিকার ৪১টি গোল্ড ক্রুগেরান্ড এবং ২১টি ব্রিটিশ গোল্ড সোভারেইন। এর মধ্যে অধিকাংশ মুদ্রাই ১৯৭৫ সালে তৈরি করা হয়েছিল। তখন অর্থনৈতিক মন্দা, মূল্যস্ফীতি এবং শেয়ারবাজার নিয়ে অনিশ্চয়তার কারণে অনেকেই সোনাকে তুলনামূলক নিরাপদ বিনিয়োগ হিসেবে দেখতেন।
নিলামকারী ডেভিড লে জানান, ওই ব্যক্তি ১৯৭৫ সালে প্রতিটি মুদ্রার জন্য প্রায় ৭০ থেকে ৮০ পাউন্ড করে দিয়েছিলেন। অর্থাৎ কয়েক হাজার পাউন্ড খরচ করে তিনি সোনা কিনেছিলেন। এরপর মুদ্রাগুলো এমনভাবে সংরক্ষণ করেন যে প্রায় পাঁচ দশক ধরে সেগুলোর কথা কাউকে জানাননি।
নিলাম শেষে শুধু ৪১টি গোল্ড ক্রুগেরান্ড থেকেই পাওয়া গেছে ১ লাখ পাউন্ড। আর ২১টি ব্রিটিশ গোল্ড সোভারেইন বিক্রি হয়েছে প্রায় ১৩ হাজার পাউন্ডে। সব মিলিয়ে সোনার মুদ্রাগুলোর মূল্য দাঁড়িয়েছে ১ লাখ ১৩ হাজার পাউন্ডের বেশি।
নিলামকারী ডেভিড লে বলেন, মুদ্রাগুলো আবিষ্কারের বিষয়টি ছিল তাদের জন্যও বিস্ময়কর। তাঁর মতে, স্বামী যখন সোনায় বিনিয়োগ করেছিলেন, তখনকার তুলনায় বর্তমানে এর মূল্য অনেক বেড়েছে। মুদ্রাগুলো প্রায় অক্ষত অবস্থায় নিজ নিজ প্যাকেটের মধ্যেই পাওয়া গেছে।
১৯৭০-এর দশকে ব্যাংকের ওপর অনাস্থা এবং উচ্চ মূল্যস্ফীতির সময় কিছু মানুষ নগদ অর্থ বা মূল্যবান সম্পদ ঘরে রেখে দিতেন। তবে একটি সাধারণ বিস্কুটের টিনে এত বড় অঙ্কের সোনা প্রায় ৫০ বছর ধরে লুকিয়ে থাকা ঘটনাটিকে বিশেষভাবে আলোচনায় এনেছে।
বাড়ি ছোট করার প্রস্তুতি নিতে গিয়ে স্ত্রী যখন পুরোনো জিনিসপত্র গুছাচ্ছিলেন, তখনই প্রকাশ্যে আসে স্বামীর সেই গোপন বিনিয়োগ। কয়েক হাজার পাউন্ডের সেই সিদ্ধান্ত পাঁচ দশক পর পরিবারের জন্য পরিণত হয়েছে ১ লাখ ১৩ হাজার পাউন্ডের বেশি মূল্যের সম্পদে।