বিজ্ঞাপন
‘ইনশাআল্লাহ’, 'জাজাকাল্লাহ' বলায় বিতর্ক, ভারতে নারী আইপিএস কর্মকর্তাকে বদলি
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ: ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০২:২৫ এএম
বিজ্ঞাপন
পশ্চিমবঙ্গের খড়্গপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার বুশরা বানোকে বদলি করা হয়েছে একটি ভিডিওকে ঘিরে বিতর্কের কয়েক দিনের মধ্যেই। ২০২১ ব্যাচের এই আইপিএস কর্মকর্তাকে খড়্গপুরের পদ থেকে সরিয়ে রাজ্য সশস্ত্র পুলিশের ডেপুটি কমান্ড্যান্ট হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। তার প্রকাশিত ভিডিওতে ‘আসসালামু আলাইকুম’, ‘ইনশাআল্লাহ’ ও ‘জাজাকাল্লাহ’ শব্দ ব্যবহারের পর একটি সংগঠনের অভিযোগকে কেন্দ্র করে বিষয়টি আলোচনায় আসে। তবে পশ্চিমবঙ্গ সরকারের পক্ষ থেকে বদলিটিকে নিয়মিত প্রশাসনিক রদবদল হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।
১৩ সেপ্টেম্বর প্রকাশিত ওই ভিডিওতে বুশরা বানো মূলত নিজের সিভিল সার্ভিস পরীক্ষায় সফল হওয়ার গল্প তুলে ধরেন এবং ভবিষ্যৎ পরীক্ষার্থীদের উৎসাহ দেন। সেখানে তিনি আলিগড় মুসলিম বিশ্ববিদ্যালয়ের আবাসিক কোচিং একাডেমির সহায়তার কথা বলেন। নিজের বক্তব্যের শুরুতে তিনি ‘আসসালামু আলাইকুম’ এবং বিভিন্ন পর্যায়ে ‘ইনশাআল্লাহ’ ও ‘জাজাকাল্লাহ’ শব্দ ব্যবহার করেন।
ভিডিওটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর ‘হিন্দু লিগ্যাল ফান্ড’ নামে একটি সংগঠন পশ্চিমবঙ্গের স্বরাষ্ট্রসচিবের কাছে অভিযোগ করে। সংগঠনটির দাবি, রাষ্ট্রের প্রতিনিধিত্বকারী একজন দায়িত্বশীল সরকারি কর্মকর্তার জনসমক্ষে বক্তব্যে ধর্মীয় নিরপেক্ষতা বজায় রাখা উচিত। তারা প্রশ্ন তোলে, ভিডিওতে ‘জয় হিন্দ’ বা ‘বন্দে মাতরম’-এর মতো জাতীয় সম্ভাষণ ব্যবহার না করে কেন ইসলামী অভিবাদন ও ধর্মীয় শব্দ ব্যবহার করা হয়েছে।
অভিযোগের পরই বুশরা বানোর বদলির ঘটনা সামনে আসে। ১৪ সেপ্টেম্বর তাকে খড়্গপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপারের দায়িত্ব থেকে সরিয়ে রাজ্য সশস্ত্র পুলিশের ডেপুটি কমান্ড্যান্ট করা হয়। একই প্রশাসনিক আদেশে পার্থ ঘোষকে খড়্গপুরের নতুন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার এবং শুভেন্দু মণ্ডলকে চন্দননগর পুলিশ কমিশনারেটের অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার করা হয়েছে।
তবে বুশরা বানোর বদলির কারণ হিসেবে পশ্চিমবঙ্গ সরকারের পক্ষ থেকে ওই অভিযোগকে আনুষ্ঠানিকভাবে দায়ী করা হয়নি। আনন্দবাজারের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নবান্নের পক্ষ থেকে বদলিটিকে নিয়মিত প্রশাসনিক রদবদল হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। ফলে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তৈরি বিতর্ক এবং বদলির সময়ের মধ্যে সম্পর্ক থাকলেও সেটিকে সরকারি সিদ্ধান্তের নিশ্চিত কারণ হিসেবে বলা যাচ্ছে না।
বুশরা বানোর কর্মজীবনের পথও বেশ উল্লেখযোগ্য। উত্তরপ্রদেশের কনৌজে জন্ম নেওয়া এই কর্মকর্তা আলিগড় মুসলিম বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ম্যানেজমেন্ট স্টাডিজে পিএইচডি করেন। পরে সৌদি আরবের একটি বিশ্ববিদ্যালয়ে সহকারী অধ্যাপক হিসেবে কাজ করেন। এরপর ভারতে ফিরে সিভিল সার্ভিস পরীক্ষার প্রস্তুতি নেন।
২০১৮ সালে ইউপিএসসি পরীক্ষায় ২৭৭তম স্থান অর্জন করে তিনি ভারতীয় রেলওয়ে ট্রাফিক সার্ভিসে নির্বাচিত হন। তবে সে সময় দ্বিতীয় সন্তানের জন্মের কারণে ওই চাকরিতে যোগ দিতে পারেননি। পরের বছর আবার ইউপিএসসি পরীক্ষায় অংশ নিয়ে ২৩৪তম স্থান অর্জন করেন এবং ইন্ডিয়ান পুলিশ সার্ভিসে নির্বাচিত হন। পরে পশ্চিমবঙ্গ ক্যাডারে যোগ দিয়ে হুগলি গ্রামীণ এলাকায় সহকারী পুলিশ সুপার হিসেবে কর্মজীবন শুরু করেন। চলতি বছরের জুনে তিনি অতিরিক্ত পুলিশ সুপার পদে পদোন্নতি পান এবং খড়্গপুরে দায়িত্ব নেন।
বুশরা বানোর বদলিকে ঘিরে এখন মূল বিতর্ক হচ্ছে একজন সরকারি কর্মকর্তার ব্যক্তিগত বা জনসমক্ষে বক্তব্যে ধর্মীয় অভিব্যক্তি ব্যবহারের সীমা নিয়ে। অভিযোগকারী সংগঠনটি এটিকে সরকারি কর্মকর্তার নিরপেক্ষতার প্রশ্ন হিসেবে দেখছে। অন্যদিকে, বিভিন্ন মহল থেকে প্রশ্ন উঠেছে, ধর্মীয় সম্ভাষণ ব্যবহারের কারণে একজন কর্মকর্তার প্রশাসনিক বদলির সঙ্গে বিষয়টির কোনো সম্পর্ক রয়েছে কি না। এ বিষয়ে পশ্চিমবঙ্গ সরকারের পক্ষ থেকে বদলির সঙ্গে অভিযোগের সরাসরি সম্পর্কের কোনো ঘোষণা পাওয়া যায়নি।