বিজ্ঞাপন
নিউইয়র্কে বকেয়া করের জন্য ভবন বাজেয়াপ্ত, মালিকদের ৬০ মিলিয়ন ডলার দিচ্ছে শহর
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ: ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০২:২১ এএম
বিজ্ঞাপন
বকেয়া করের দায়ে একটি বিতর্কিত কর্মসূচির অধীনে বাজেয়াপ্ত হওয়া ভবনের মালিকদের ৬০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার ক্ষতিপূরণ দিতে সম্মত হয়েছে নিউইয়র্ক শহর। গত শুক্রবার ম্যানহাটন ফেডারেল আদালতে দায়ের করা একটি আপস-মীমাংসা চুক্তির অধীনে, শহর কর্তৃপক্ষের বাজেয়াপ্ত করা ৬৪টি সম্পত্তির মালিকরা ক্ষতিপূরণের এই অর্থ পাবেন। প্রায় এক দশক আগে দায়ের করা একটি 'ক্লাস-অ্যাকশন' বা গণমামলার প্রেক্ষিতে এই সিদ্ধান্ত এসেছে।
বাড়ির মালিকদের পক্ষের অন্যতম আইনজীবী সারা কেইন এই সিদ্ধান্তে সন্তোষ প্রকাশ করে জানান, তারা অবশেষে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোকে কিছুটা স্বস্তি দিতে পেরে আনন্দিত।
২০১৯ সালে দায়ের করা ওই মামলার নথিতে বাদীরা অভিযোগ করেছিলেন যে, "যথাযথ ক্ষতিপূরণ" ছাড়াই তাদের সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করা হয়েছিল, যা সরাসরি তাদের সাংবিধানিক অধিকারের লঙ্ঘন। এমনকি তাদের বাড়িগুলো যে কেড়ে নেওয়া হচ্ছে, সে বিষয়েও শহর কর্তৃপক্ষ কোনো আগাম নোটিশ দেয়নি বলে দাবি করা হয়।
মূলত 'থার্ড পার্টি ট্রান্সফার প্রোগ্রাম' নামের ওই কর্মসূচির অধীনে, যেসব ভবনে হাউজিং কোড লঙ্ঘনের ব্যাপক অভিযোগ রয়েছে এবং উল্লেখযোগ্য পরিমাণ সম্পত্তি কর বকেয়া থাকে, সেগুলোর মালিকানা যেকোনো অলাভজনক সংস্থার কাছে হস্তান্তর করা যায়। পরবর্তীতে সংস্থাগুলো সাশ্রয়ী মূল্যের আবাসন নির্মাতাদের কাছে ওই ভবনগুলো হস্তান্তর করে। কিন্তু আদালতের নথিতে বলা হয়েছে, বকেয়া করের তুলনায় বাজেয়াপ্ত করা সম্পত্তিগুলোর বাজারমূল্য অনেক বেশি ছিল।
গত এক দশকের মধ্যে নিউইয়র্ক শহরের অন্যতম বৃহৎ এই ক্ষতিপূরণ চুক্তির খবরটি এমন এক সময়ে প্রকাশ্যে এলো, যখন বর্তমান মেয়র জোহরান মামদানি তার 'ফিক্স দ্য সিটি' আবাসন পরিকল্পনার অংশ হিসেবে বিতর্কিত এই কর্মসূচিটিকে আবারও চালুর ঘোষণা দিয়েছেন।
শহরের আবাসন সংরক্ষণ ও উন্নয়ন বিভাগের মুখপাত্র অ্যান্ড্রু স্টার্ন অবশ্য দাবি করেছেন, সম্পত্তি হস্তান্তরের মাধ্যমে সাবেক মালিকদের কোনো অধিকার ক্ষুণ্ণ করা হয়নি। তবে একটি দীর্ঘস্থায়ী আইনি বিরোধের দ্রুত নিষ্পত্তির লক্ষ্যেই শহর কর্তৃপক্ষ এই আপস-মীমাংসায় সম্মত হয়েছে। বর্তমান চুক্তিটি শুধুমাত্র ২০১৯ সালে বাজেয়াপ্ত হওয়া সর্বশেষ সম্পত্তিগুলোর ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হবে। বাদীদের আইনজীবীদের মতে, গণমামলাটির অংশ হিসেবে এখনও আরও ৫০০টির বেশি সম্পত্তির নিষ্পত্তি হওয়া বাকি।
আইনজীবী কেইন আশা প্রকাশ করে বলেন, আদালত ব্যবস্থা বাকি মামলাগুলোর ক্ষেত্রেও এমন ইতিবাচক রায় দেবেন।