বিজ্ঞাপন
শিশুদের খাবারের অর্থ আত্মসাত, ফাহাদ নুরকে ধরতে ১ লাখ ৫০ হাজার ডলার পুরস্কার
যুক্তরাষ্ট্র প্রতিনিধি
প্রকাশ: ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১২:১০ এএম
বিজ্ঞাপন
যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (এফবিআই) শিশুদের খাবারের জন্য বরাদ্দ ফেডারেল অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে পলাতক ফাহাদ মোহামেদ নুরকে গ্রেপ্তার ও দোষী সাব্যস্ত করতে সহায়তাকারী তথ্যের জন্য সর্বোচ্চ ১ লাখ ৫০ হাজার ডলার পুরস্কার ঘোষণা করেছে। এফবিআইয়ের অভিযোগ, কোভিড-১৯ মহামারির সময় ফেডারেল চাইল্ড নিউট্রিশন প্রোগ্রামের অর্থ জালিয়াতির মাধ্যমে নেওয়া হয় এবং নুরের নিয়ন্ত্রণাধীন একটি প্রতিষ্ঠান ওই অর্থের ৫০ লাখ ডলারের বেশি পেয়েছিল।
এফবিআইয়ের মোস্ট ওয়ান্টেড ফ্রডস্টার্স তালিকায় নুরকে যুক্ত করা হয়েছে। সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, তিনি যুক্তরাষ্ট্রের ন্যাচারালাইজড নাগরিক এবং সোমালিয়ার সঙ্গে তার যোগাযোগ রয়েছে। তিনি বর্তমানে সোমালিয়ায় অবস্থান করছেন বলে ধারণা করছে এফবিআই।
নুরের বিরুদ্ধে ওয়্যার ফ্রড, অর্থপাচারের ষড়যন্ত্র এবং মানি লন্ডারিংয়ের অভিযোগ রয়েছে। মিনেসোটার ফেডারেল আদালত ২০২২ সালের ১৩ সেপ্টেম্বর তার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করে। এফবিআইয়ের ভাষ্য অনুযায়ী, নুর ২০২২ সালের জানুয়ারিতে যুক্তরাষ্ট্র ছেড়ে পালিয়ে যান এবং এরপর থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়নি।
তদন্তকারীদের অভিযোগ, নুর দ্য প্রোডিউস এলএলসি নামে একটি প্রতিষ্ঠান পরিচালনা করতেন, যা খাদ্য সরবরাহকারী হিসেবে ফেডারেল চাইল্ড নিউট্রিশন প্রোগ্রামের সঙ্গে যুক্ত ছিল। এফবিআইয়ের দাবি, প্রতিষ্ঠানটি শিশুদের জন্য খাবার সরবরাহের কথা দেখিয়ে ৫০ লাখ ডলারের বেশি অর্থ পেয়েছিল। কিন্তু যেসব খাবার সরবরাহের কথা বলা হয়েছিল, সেগুলোর একটি অংশ বাস্তবে সরবরাহ করা হয়নি বলে অভিযোগ রয়েছে।
ফেডারেল প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, নুর খাবার সরবরাহের প্রমাণ হিসেবে ভুয়া ইনভয়েস জমা দিয়ে অর্থ গ্রহণ করেন। ২০২২ সালে মার্কিন বিচার বিভাগ জানায়, এই বৃহৎ জালিয়াতি চক্রে শিশুদের খাবার সরবরাহের নামে ভুয়া নথি, খাবারের হিসাব এবং অন্যান্য কাগজপত্র ব্যবহার করা হয়েছিল। সরকারি অর্থ পাওয়ার পর সেই অর্থের একটি অংশ ব্যক্তিগত সম্পদ ও অন্যান্য কাজে সরিয়ে নেওয়ার অভিযোগও ওঠে।
মামলাটি যুক্তরাষ্ট্রের বহুল আলোচিত ফিডিং আওয়ার ফিউচার জালিয়াতি তদন্তের অংশ। কোভিড-১৯ মহামারির সময় শিশুদের খাবার নিশ্চিত করতে ফেডারেল চাইল্ড নিউট্রিশন প্রোগ্রামের নিয়মে কিছু পরিবর্তন আনা হয়েছিল। ওই সুযোগ কাজে লাগিয়ে মিনেসোটায় বিপুল পরিমাণ অর্থ জালিয়াতির মাধ্যমে নেওয়া হয় বলে ফেডারেল প্রসিকিউটররা অভিযোগ করেন।
মার্কিন বিচার বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, ফিডিং আওয়ার ফিউচার সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান ও বিভিন্ন সাইট মিলে ২৪ কোটি ডলারের বেশি ফেডারেল চাইল্ড নিউট্রিশন প্রোগ্রামের অর্থ জালিয়াতির মাধ্যমে সংগ্রহ ও বিতরণ করেছিল বলে অভিযোগ করা হয়। জালিয়াতির জন্য ভুয়া খাবারের ইনভয়েস, মিথ্যা খাবার বিতরণের হিসাব এবং ভুয়া উপস্থিতির তালিকা ব্যবহারের অভিযোগও তদন্তে উঠে আসে।
এই কর্মসূচির অর্থ মূলত নিম্নআয়ের ও প্রয়োজন থাকা শিশুদের খাবার সরবরাহের ব্যয় মেটাতে ব্যবহার করার কথা ছিল। যুক্তরাষ্ট্রের কৃষি বিভাগের অধীন ফুড অ্যান্ড নিউট্রিশন সার্ভিস এ কর্মসূচি পরিচালনা করে এবং রাজ্য পর্যায়ে এর অর্থ বিতরণ করা হয়। মহামারির সময় কর্মসূচির আওতা ও অংশগ্রহণের নিয়ম কিছুটা শিথিল করা হয়েছিল, যা জালিয়াতির সুযোগ তৈরি করেছিল বলে ফেডারেল তদন্তে দাবি করা হয়েছে।
এফবিআই জানিয়েছে, নুরের অবস্থান সম্পর্কে তথ্য থাকলে সংস্থার টিপ লাইনে যোগাযোগ করা যেতে পারে। স্থানীয় এফবিআই অফিস, নিকটস্থ মার্কিন দূতাবাস বা কনস্যুলেটের মাধ্যমেও তথ্য দেওয়া যাবে। তবে পুরস্কার পেতে হলে দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে নুরকে গ্রেপ্তার এবং শেষ পর্যন্ত দোষী সাব্যস্ত হতে হবে।
ফেডারেল অভিযোগের ক্ষেত্রে আদালতে দোষ প্রমাণিত না হওয়া পর্যন্ত অভিযুক্ত ব্যক্তি আইনগতভাবে নির্দোষ হিসেবে বিবেচিত হন। নুরের বিরুদ্ধেও অভিযোগগুলো এখনো আদালতে প্রমাণিত হয়নি। এফবিআই তাকে ধরতে নতুন করে জনসাধারণের সহায়তা চাওয়ার মাধ্যমে দীর্ঘদিনের এই তদন্তে তাকে যুক্তরাষ্ট্রের আইনের আওতায় আনার চেষ্টা জোরদার করেছে।