বিজ্ঞাপন
কোথা থেকে ইলিশ এনে বাংলাদেশে রফতানি করছে ভারত
জাগো বাংলা ডেস্ক
প্রকাশ: ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৮:৪৫ পিএম
বিজ্ঞাপন
বাঙালির পাতে ইলিশের যে বিশেষ কদর রয়েছে, তা নতুন কিছু নয়। তবে বহুল কাঙ্ক্ষিত এই মাছের বাণিজ্যে এবার এক উল্টো স্রোতের দেখা মিলেছে। ঐতিহ্যগতভাবে বাংলাদেশ থেকে ভারতে ইলিশের জোগানের চল থাকলেও এবার উল্টো ভারত থেকেই বাংলাদেশে পাঠানো হচ্ছে ইলিশ।
বন্যায় ডুবেছে স্কুল ও বাড়ি, সাহসী শিশুরা ক্লাস করছে নৌকায়বন্যায় ডুবেছে স্কুল ও বাড়ি, সাহসী শিশুরা ক্লাস করছে নৌকায়
পশ্চিমবঙ্গের পেট্রাপোল সীমান্ত বন্দর দিয়ে গত দুই মাসে প্রায় ৫০০ টন ইলিশ বাংলাদেশে রফতানি করা হয়েছে। আগামী সপ্তাহগুলোতে আরও ১৫০ থেকে ২০০ টন ইলিশ বাংলাদেশে পাঠানো হতে পারে বলে আশা করছেন ব্যবসায়ীরা। সাধারণত দুর্গাপূজার সময় বাংলাদেশ সরকার অনুমতি দিলে সে দেশ থেকে ভারতে ইলিশ আসতো। কিন্তু বর্তমানে বাংলাদেশ ভারতে ইলিশ রফতানি বন্ধ রেখেছে।
পশ্চিমবঙ্গের ফিশ ইম্পোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন এবং হাওড়া পাইকারি মাছ বাজারের সচিব সৈয়দ আনোয়ার মকসুদ জানান, আমাদের দেশ থেকে বাংলাদেশে ইলিশ রফতানি হওয়ার ঘটনা এটিই প্রথম। এটি একটি ইতিবাচক বিষয়। এই মাছের সিংহভাগই গুজরাটের।
নাম কেন ‘রাজা ইলিশ’, আসে কোথা থেকে?নাম কেন ‘রাজা ইলিশ’, আসে কোথা থেকে?
পেট্রাপোল ক্লিয়ারিং এজেন্ট স্টাফ ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশনের সচিব কার্তিক চক্রবর্তী বলেন, আগে আমরা বাংলাদেশের পদ্মার ইলিশের জন্য অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করতাম। পরবর্তীতে এর আমদানিতে নানা বিধিনিষেধ আসে। এখন ভারতের মাছ বাংলাদেশে যাচ্ছে এবং সেখানকার মানুষ তা পছন্দ করছে দেখে আমরা আনন্দিত।
ব্যবসায়ী ও রফতানিকারকদের মতে, এই ঘটনাটি দুই প্রতিবেশী দেশের উৎপাদন, প্রাপ্যতা এবং ভোক্তাদের চাহিদার পরিবর্তিত চিত্রকে ফুটিয়ে তুলছে। রফতানি হওয়া ইলিশের বড় একটি অংশ গুজরাটের ভরুচ অঞ্চল থেকে সংগৃহীত এবং কিছু অংশ হাওড়ার মাছ বাজারের মাধ্যমে প্রক্রিয়াজাত হয়ে গেছে।
পদ্মার নামে ভারতীয় ইলিশ কিনে ঠকছেন না তো?পদ্মার নামে ভারতীয় ইলিশ কিনে ঠকছেন না তো?
বাংলাদেশে পাঠানো এই ইলিশে প্রচুর পরিমাণ ডিম রয়েছে, যার ফলে চট্টগ্রাম ও সিলেটসহ দেশের বিভিন্ন জেলায় এর ব্যাপক চাহিদা তৈরি হয়েছে। এই ডিম প্রক্রিয়াজাত করে বাংলাদেশ থেকে পুনরায় অন্য দেশে রফতানি করা হচ্ছে। এ ছাড়া কিছু মাছ দিয়ে শুঁটকি ও নোনা ইলিশ তৈরি হচ্ছে।
সৈয়দ আনোয়ার মকসুদ জানান, যেসব মাছ রফতানি করা হচ্ছে সেগুলোতে প্রচুর ডিম রয়েছে। বাংলাদেশে এই ডিম বের করে প্যাকেটজাত করে পুনঃরফতানি করা হয়, আর বাকি অংশ নোনা ইলিশ কিংবা শুঁটকি হিসেবে বিক্রি হয়।
ইলিশ গেলো কোথায়, ফিরবে কবে?ইলিশ গেলো কোথায়, ফিরবে কবে?
সেন্ট্রাল ইনল্যান্ড ফিশারিজ রিসার্চ ইনস্টিটিউটের পরিচালক প্রদীপ দে বলেন, বাংলাদেশে ভারতীয় ইলিশের রফতানি কেবল কোনও সাধারণ বাণিজ্যিক ঘটনা নয়; এটি এই ঐতিহ্যবাহী মাছের অসাধারণ কদর ও আঞ্চলিক চাহিদার এক শক্তিশালী সংকেত। মাছ ধরার সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিদের জীবিকা, খাদ্য নিরাপত্তা ও আঞ্চলিক বাণিজ্যে ইলিশের সম্ভাবনাকে এটি সামনে আনছে।
এর আগে গত আগস্টে ফিশ ইম্পোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের একটি প্রতিনিধিদল ঢাকায় গিয়ে বাংলাদেশের বাণিজ্য সচিব আতাউর রহমান খানের সঙ্গে দেখা করে ভারতে ইলিশ রফতানির ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়ার অনুরোধ জানায়।
অনুমোদনের বিষয়ে মকসুদ উল্লেখ করেন, ২০১২ সালের জুলাই থেকে বাংলাদেশ থেকে ইলিশ আমদানি সীমিত করা হয়। ২০১৯ সাল থেকে কেবল দুর্গাপূজার আগে এক মাসের জন্য সীমিত মেয়াদে আমদানির অনুমতি দেওয়া হচ্ছিল। স্বল্প সময়ের কারণে অনুমোদিত পরিমাণের খুব সামান্য অংশই ভারতে পৌঁছাতে পারতো। উদাহরণস্বরূপ, ২০২৪ সালের সেপ্টেম্বরে ২ হাজার ৪২০ মেট্রিক টন অনুমোদনের বিপরীতে মাত্র ৫৭৭ মেট্রিক টন এবং ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরে ১ হাজার ২০০ মেট্রিক টন অনুমোদনের বিপরীতে মাত্র ১৫০ মেট্রিক টন ইলিশ ভারতে পৌঁছাতে পেরেছিল।
সূত্র: ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস