বিজ্ঞাপন
শিক্ষক ছাড়াই স্কুল, এআইয়ে পড়াশোনা - যুক্তরাষ্ট্রের ১৬ অঙ্গরাজ্যে নতুন মডেল
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ: ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৭:৪১ পিএম
বিজ্ঞাপন
নিউজউইকের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আলফা স্কুল নামের একটি বেসরকারি স্কুল নেটওয়ার্ক ইতোমধ্যে বা শিগগিরই যুক্তরাষ্ট্রের ১৬টি অঙ্গরাজ্যে ক্যাম্পাস পরিচালনা বা চালুর পরিকল্পনা করছে।
এই মডেলে প্রচলিত অর্থে শিক্ষক শ্রেণিকক্ষে দাঁড়িয়ে দীর্ঘ সময় ধরে পাঠদান করেন না। শিক্ষার্থীরা এআইভিত্তিক সফটওয়্যারের মাধ্যমে নিজেদের গতিতে গণিত, ইংরেজিসহ মূল একাডেমিক বিষয় শেখে। স্কুলটির মডেল অনুযায়ী, দিনের একটি বড় অংশ একাডেমিক শিক্ষার বদলে যোগাযোগ দক্ষতা, আর্থিক জ্ঞান, প্রকল্পভিত্তিক কাজসহ বিভিন্ন জীবনমুখী দক্ষতা তৈরিতে ব্যয় করা হয়।
আলফা স্কুলের মডেলের সবচেয়ে আলোচিত দিক হলো ‘টু-আওয়ার কোর’ পদ্ধতি। এতে শিক্ষার্থীরা সকালে প্রায় দুই ঘণ্টা এআইভিত্তিক ব্যক্তিকেন্দ্রিক শিক্ষার মাধ্যমে মূল একাডেমিক বিষয়গুলো শেখে। এরপর দিনের বাকি সময়ে তারা বিভিন্ন জীবনদক্ষতা ও প্রকল্পভিত্তিক কার্যক্রমে অংশ নেয়।
তবে ‘শিক্ষক ছাড়াই স্কুল’ কথাটি পুরোপুরি আক্ষরিক নয়। এসব প্রতিষ্ঠানে শিক্ষার্থীদের দেখভাল ও সহায়তার জন্য কর্মীরা থাকেন, যাদের অনেক ক্ষেত্রে ‘গাইড’ বলা হয়। তারা শিক্ষার্থীদের অগ্রগতি পর্যবেক্ষণ, প্রয়োজনীয় সহায়তা এবং স্কুলের পরিবেশ পরিচালনায় ভূমিকা রাখেন।
আলফা স্কুল এরই মধ্যে অস্টিন, নিউইয়র্ক ও মিয়ামিতে কার্যক্রম পরিচালনা করছে এবং ২০২৬ সালে শিকাগো, আটলান্টা, শার্লট, র্যালি ও ক্যালিফোর্নিয়ার কয়েকটি এলাকায় সম্প্রসারণের পরিকল্পনা করেছে। এআইনির্ভর এই মডেল নিয়ে অবশ্য শিক্ষক সংগঠন ও শিক্ষাবিদদের মধ্যে উদ্বেগও রয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রে একই সময়ে আরও বিভিন্ন বিকল্প শিক্ষাব্যবস্থার প্রসার ঘটছে। সান অ্যান্টোনিওর মতো শহরে মাইক্রোস্কুল, চার্টার স্কুল ও ভার্চুয়াল স্কুল জনপ্রিয় হচ্ছে। কিছু মাইক্রোস্কুলে মাত্র ২০ থেকে ১০০ জন শিক্ষার্থী থাকে এবং একই শ্রেণিকক্ষে বিভিন্ন বয়সের শিক্ষার্থীরা একসঙ্গে শেখে।
এই পরিবর্তনের পেছনে অভিভাবকদের স্কুল বেছে নেওয়ার স্বাধীনতার চাহিদাও বড় ভূমিকা রাখছে। ২০২৬ সালের ন্যাশনাল স্কুল চয়েস উইক-এর তথ্য অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রের প্রায় ৪৬ মিলিয়ন অভিভাবক অন্তত একটি সন্তানের জন্য নতুন বা ভিন্ন ধরনের স্কুল বিবেচনা, খোঁজ বা নির্বাচন করেছেন।
তবে এআইনির্ভর শিক্ষাব্যবস্থার ভবিষ্যৎ নিয়ে প্রশ্নও রয়েছে। শিক্ষার্থীদের শেখার ফলাফল, সামাজিক ও মানসিক বিকাশ, শিক্ষক-শিক্ষার্থী সম্পর্ক এবং প্রযুক্তিনির্ভর শিক্ষায় সব পরিবারের সমান সুযোগ—এসব বিষয় নিয়ে বিতর্ক অব্যাহত রয়েছে। ফলে যুক্তরাষ্ট্রে স্কুলের এই নতুন মডেল শুধু প্রযুক্তির পরিবর্তন নয়, শিক্ষক, অভিভাবক ও শিক্ষার্থীদের জন্য ভবিষ্যতের শিক্ষা কেমন হবে—সেই বড় প্রশ্নও সামনে আনছে।